কোণঠাসা রংপুরকে উড়িয়ে জয়ে ফিরল খুলনা টাইগার্স

sangbadbd24 sangbadbd24

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২:৪৪ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৮, ২০১৯
সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

আগের ৫ ম্যাচে মাত্র ১টি জয়। প্রতিটি ম্যাচই এখন যেন রংপুর রেঞ্জার্সের বাঁচা-মরার লড়াই। এমন জায়গায় দাঁড়িয়ে আরও একটি হারের স্বাদ নিলো দলটি। শেন ওয়াটসনকে নেতৃত্ব বুঝিয়ে দিয়েও পারলো না। মিরপুরে ওয়াটসনের দলকে ৫২ রানে হারিয়ে দুই ম্যাচ পর জয়ের ধারায় ফিরেছে মুশফিকুর রহীমের খুলনা।

১৮৩ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই খুলনার বোলারদের চাপে ছিল রংপুুর রেঞ্জার্স। অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার শেন ওয়াটসন প্রথমবারের মতো বিপিএলে খেলতে নেমে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। ১০ বলে মাত্র ৫ রান করে রবি ফ্রাইলিংকের শিকার হন তিনি।

আরেক ওপেনার নাইম শেখ চালিয়ে খেলছিলেন। কিন্তু ৯ বলে ২০ রান (৩ চার আর ১ ছক্কায়) করে মোহাম্মদ আমিরের কাছে ফিরতি ক্যাচ দেন তিনি। এরপর ক্যামেরুন ডেলপোর্ট (৯), ফজলে মাহমুদ (৪), মোহাম্মদ নবীও (৭) ব্যর্থতার পরিচয় দিলে হার বলতে গেলে নিশ্চিত হয়ে যায় রংপুরের। মাঝে ২৬ বলে ১ চার আর ৩ ছক্কায় লুইস গ্রেগরি ৩৪ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন।

পরের ব্যাটসম্যানরা তেমন কিছুই করতে পারেননি। শেষদিকে ১১ বলে ১ চার আর ২ ছক্কায় ২১ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেন মোস্তাফিজুর রহমান। রংপুরের ইনিংস থামে ৯ উইকেটে ১৩০ রানে।

খুলনার শহীদুল ইসলাম দুর্দান্ত বোলিং করেছেন এই ম্যাচে। ৪ ওভারে ২৩ রানের বিনিময়ে ডানহাতি এই পেসারের শিকার ৪টি উইকেট।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে মারমুখী ছিল খুলনা টাইগার্স। রান উঠেছে, উইকেটও হারিয়েছে তারা। তারপরও টপ অর্ডারের সব ব্যাটসম্যানই মেরে খেলেছেন। একটা সময় ৪৫ রানে ৩, পরে ৮৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে কিছুটা বিপদেই পড়ে গিয়েছিল খুলনা।

এমন সময়ে ত্রাতার ভূমিকায় দাঁড়িয়ে যান মুশফিক। অধিনায়কের যেভাবে খেলা উচিত দায়িত্ব নিয়ে, ঠিক সেভাবেই খেলেছেন উইকেটরক্ষক এই ব্যাটসম্যান। তার ঝড়ো হাফসেঞ্চুরিতে ভর করেই ৭ উইকেটে ১৮২ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় খুলনা টাইগার্স।

নাজমুল হাসান শান্তর সঙ্গে ওপেনিংয়ে নামেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ঝড় তুলতে চেয়ে অবশ্য বেশিদূর যেতে পারেননি মিরাজ। ৭ বলে ১২ রান করে মোস্তাফিজুর রহমানের শিকার হন তিনি। তার পরের বলেই রাইলি রুশোকেও (০) তুলে নেন কাটার মাস্টার।

এরপর শামসুর রহমান শুভ (১২ বলে ১৩) আর ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্তও (২২ বলে ৩০ রান) ঝড় তুলতে গিয়ে সাজঘরের পথ ধরেন। তবে পঞ্চম উইকেটে নাজিবুল্লাহ জাদরানকে নিয়ে ৮২ রানের ঘুরে দাঁড়ানো এক জুটি গড়েন মুশফিক।

২৬ বলে ৬ চার আর ১ ছক্কায় ৪১ রান করে নাজিবুল্লাহ ইনিংসের ১০ বল বাকি থাকতে লুইস গ্রেগরির কাছে উইকেট দেন। শেষ ওভারে আউট হয়ে যান মুশফিকও। তবে ততক্ষণে বড় সংগ্রহ হয়ে গেছে খুলনার। ৪৮ বলে গড়া মুশফিকের ৫৯ রানের ইনিংসটি ছিল ৪ বাউন্ডারি আর ২ ছক্কার মারে সাজানো।

রংপুরের পক্ষে দারুণ বোলিং করেছেন মোস্তাফিজুর রহমান। ৪ ওভারে ২৮ রান খরচায় ৩টি উইকেট নিয়েছেন বাঁহাতি এই পেসার।