মাদকের জমজমাট ব্যবসা পল্লবী

sangbadbd24 sangbadbd24

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২:২০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৫, ২০২০
সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

 

অভিযানের মধ্যেও মাদক ব্যবসায়ী গডফাদার অভিযানের মধ্যেও মাদক ব্যবসায়ী গডফাদার রুবেল বহাল তবিয়তে

মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যেও রাজধানীর পল্লবী থানা এলাকায় মাদকের জমজমাট ব্যবসা চলছে। দিনে-রাতে প্রকাশ্যে চলছে মাদকের বেচাকেনা। আবার মাদকাসক্তরা ভোরে কিংবা সন্ধ্যার পর মাদকের টাকা জোগাড় করতে ছিনতাই করছে। এ নিয়ে পল্লবী থানা এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কিত। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাদক নির্মুলের জন্য পুলিশ মোটেও আন্তরিক নয়। মাদকের গডফাদারদের না ধরে মাঝে মধ্যে মাদকসেবিদের আটক করে পুলিশ তাদের দায়িত্ব শেষ করে। অথচ মাদকের চিহ্নিত স্পটগুলোর দিকে পুলিশের নজর নেই।

ঢাকা মহানগর পুলিশ সদর দফতরের তালিকা অনুযায়ী ঢাকার সবগুলো থানা মিলে চিহ্নিত মাদকের স্পট আছে ৫শতাধিক। এর মধ্যে ডিএমপির বিভাগ অনুযায়ী মিরপুরে ৫৬টি,মাদক স্পট রয়েছে। উল্লেখিত বিভাগ গুলোর মধ্যে মিরপুরে সর্বাধিক মাদকের স্পট রয়েছে। মিরপুর বিভাগের সবচেয়ে বড় মাদক স্পট এডিসি ক্যাম্পের সামনে এই স্পটটি নিয়ন্ত্রন করেন ডিএমপির চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী রুবেল। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানের মধ্যেও ডিএমপির তালিকাভুক্ত স্পটগুলো বন্ধ হয়নি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পল্লবীতে এখনও বহাল তবিয়তে আছে মাদকের চিহ্নিত গডফাদাররা। তারা টেকনাফ থেকে ইয়াবা নিয়ে এসে পাইকারী বিক্রি করছে। এর মধ্যে এডিসি ক্যাম্পের রুবেল এর ইয়াবার ব্যবসা এখনো জমজমাট। পল্লবী থানা এলাকায় এরাই ইয়াবার বড় ডিলার। সূত্র জানায়, টেকনাফ থেকে এরা ইয়াবা সংগ্রহ করে মুরগির খাঁচার মধ্যে ঢাকায় নিয়ে আসে মাদক ব্যবসায়ী রুবেল।

তারপর এডিসি ক্যাম্প এর পাশেই পরিতক্ত সিটি করপোরেশন মাকেট এর সামনেই বেশ কয়েকজন অপ্রাপ্ত কিশোরদের দিয়ে প্রকাশ্যেই মাদক বিক্রি হয় রুবেলের স্পটে। এখান থেকে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও সহজেই মাদক কিনে নিতে পারে। দিনে রাতে প্রকাশ্যে মাদকের বেচাকেনা চলে। নির্বিঘে মাদক সংগ্রহ করতে পারায় অনেকের সন্তানই মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। অনেকেই পরিবেশের কারণে এই এলাকা থেকে বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে।

আরো

জানা যায়, রাজধানীর মিরপুর এলাকার পল্লবীতে এখনও বহাল তবিয়তে আছে মাদকের চিহ্নিত গডফাদাররা। তারা টেকনাফ থেকে ইয়াবা নিয়ে এসে পাইকারী বিক্রি করছে। পল্লবী থানা এলাকার ইয়াবার বড় ডিলার মিঠু ও আজাহার । সূত্র জানায়, পল্লবী থানা এলাকার ১১ নং বাজার ও আশে পাশে এলাকায় মাদক
নিয়ন্ত্রন করেন বিহারী লালু মিয়ার ছেলে বিহারী মিঠুর

রয়েছে বেশ কয়েকজন অপ্রাপ্ত কিশোর এদের দিয়ে প্রকাশ্যেই মাদক বিক্রি করে । হাতের নাগালে মাদক পাওয়ায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও সহজেই মাদক কিনে নিতে পারে। দিনে রাতে প্রকাশ্যে মাদকের বেচাকেনা চলে। নির্বিঘে মাদক সংগ্রহ করতে পারায় অনেকের সন্তানই মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। অনেকেই পরিবেশের কারণে এই এলাকা থেকে বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে।

মাদক ক্রয়ের জন্য উঠতি বয়সী তরুণরা মোটরসাইকেল নিয়ে হাজির হচ্ছে এডিসি ক্যাম্পের স্পটে স্থানীয় একজন জানান, দিনে রাতে এখানে সমানতালে মাদক বিক্রি হয়। তিনি বলেন, পুলিশ এদিকে আসে টাকা তোলার জন্য। টাকা তুলে আবার চলে যায়। স্থানীয়রা জানায়, শুধুমাত্র মাদকের কারণে বাংলা কলেজের সামনে ও পুরো এলাকায় ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম আগের বেরে গেছে । বছর দেড়েক আগে পল্লবী এলাকাতেই ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছিল স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির এক ছাত্র। ওই ঘটনার পর পুলিশ একটু তৎপর হলেও এখন আবার আগের অবস্থা ফিরে এসেছে।

এদিকে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে পল্লবী থানা এলাকার মাদকের গডফাদার ধরা পড়লেও এখনো পুলিশের হাতে ধরা পড়েনি। মাদক গডফাদার রুবেল ।

এ প্রসঙ্গে জানতে ডিএমপির জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মো. মাসুদুর রহমান সংবাদ বিডি”কে
বলেন, ‘করোনা সংকট মোকাবিলাসহ অন্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণেও কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ। মাদক কারবারিরাও ছাড় পাচ্ছে না। ইতিমধ্যে আমরা একাধিক মাদকচক্র শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করেছি। বাকিদের বিষয়েও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।’

এবিষয়ে জানতে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে একাধিকবার মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলে তাকে পাওয়া যায়নি ।