কাউন্সিলর কাশেম মোল্লার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

sangbadbd24 sangbadbd24

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ৫:০৭ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৩, ২০২০
সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৮নং ওয়ার্ডে শতাধিক সন্ত্রাসীকে নিয়ে গঠিত স্থানীয় একটি ক্যাডার বাহিনীর কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন ওয়ার্ডবাসী তারা বলছেন, ভয়ঙ্কর এ বাহিনী চাঁদার দাবিতে সাধারণ মানুষের জমি জবরদখল থেকে শুরু করে সরকারি খাসজমি, নদীর তীর, রাস্তা, ফুটপাত ছাড়াও ময়লা ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসিয়েছে কালো থাবা। ডিশ-ইন্টারনেটের ব্যবসার নিয়ন্ত্রণও তাদের হাতে। দাবিকৃত চাঁদা না পেলে বাড়ির মালিক ও ব্যবসায়ীদের ওপর হামলে পড়ছে এ বাহিনী।

তাদের চাঁদাবাজি, দখলবাজি, হামলা-হুমকিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুধু তাই নয়। ডিএনসিসির ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল কাশেম মোল্লার বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলে তারা বলছেন, সন্ত্রাসী ওই বাহিনীর নিয়ন্ত্রক খোদ এ কাউন্সিলর। মানুষের সেবা করার আশ্বাস দিয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হলেও এই ওয়ার্ডকে ‘মগের মুল্লুক’ বানিয়ে ফেলেছেন তিনি ও তার বাহিনীর সদস্যরা। তার ক্যাডারদের চাঁদা দিয়ে তবেই ব্যবসায়ীরা সচল রাখতে পারছেন তাদের প্রতিষ্ঠানের চাকা। চাঁদার টাকা না পেলে বাড়ির মালিকদের মারধর করে ভিটেছাড়া করা হচ্ছে এমন অভিযোগও মিলেছে।

কাউন্সিলর আবুল কাশেম ও তার ক্যাডারদের অপকর্মের বিরুদ্ধে পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের দপ্তর, ডিএসসিসি মেয়রের দপ্তরসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দপ্তরে ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু কাজ হয়নি

নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি অনুমোদন ছাড়া এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকারীদের লাইসেন্স প্রদান বা নবায়ন না দিতে ডিএনসিসির আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে চিঠি দেন।

জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের কার্যবিধি অনুযায়ী ওয়ার্ডের যেকোনও কমিটিতে স্থানীয় কাউন্সিলর সভাপতি থাকবেন। আমার ওয়ার্ডে কাকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে সেটা আমার জানা-শোনার দরকার আছে। কারণ তারা বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে যায়। কোনও দুর্ঘটনা ঘটালে তার দায়িত্ব কে নেবে। আগের কাউন্সিলর তার নিজের লোক দিয়ে করতো। কারা ময়লা নিচ্ছে আমার তো জানা-শোনার দরকার আছে। জানা-শোনার মধ্যে থাকলে ভালো হয়। আর অনেক বাড়ির মালিক অভিযোগ করেন তাদের ময়লা নেয় না, টাকা বেশি নেয়। সে কারণেই চিঠি দিয়েছি।

রাজধানীর মিরপুরের ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ আবুল কাশেম মোল্লার বিরুদ্ধে জোর পূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে।
জানাযায় মিরপুর ১ নং সেকশন নিউ সি ব্লক (পশ্চিম) শাহ আলী থানা এলাকার গৃহস্থালীর আবর্জনা বর্জ্য অপসারণের কাজ জোর ও বলপূর্বক দখল করার প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেছেন একই এলাকার মোঃ রেজাউল করিম

৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ কাশেম মোল্লা দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই ৮ নং ওয়ার্ডে তার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চাঁদাবাজি সন্ত্রাসী, দখলবাজি রুপের প্রকাশ করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, মোঃ কাশেম মোল্লা কাউন্সিলর হওয়ার পরই চাঁদাবাজি সিন্ডিকেটের সাথে জড়িয়ে যাবে সেটা আমরা ভাবতেও পারিনি।

মোঃ রেজাউল করিম পূর্ণ বলেন ৪৬.২০৯.০০০.১২.০০.৪০৫.২০১৫-২৮৪১ প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তার পত্র প্রাপ্তির পর হইতে অত্র ৫ নং ইউনিট আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সমন্বয়ে অন্তত সুনামের সহিত অত্র এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের নির্দেশনাবলী মোতাবেক গৃহস্থালী আবর্জনা বর্জ্য অপসারণের কাজ করেছি। গত ০৪-০৬/২০২০ ইং বিকাল আনুমানিক ৩ টার সময় আমার কর্মচারীকে জিম্মি করিয়া এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও অবৈধ অস্ত্রধারী ও জাহিদ বিন সুলতান ও চশমা শামীম ফোনে আমাকে জানায় যে,০৫/০৬/২০ ইং তারিখ হইতে আমি যেন এলাকায় আবর্জনা বর্জ্য অপসারণের কাজ বন্ধ করিয়া দেই কেননা এখন হইতে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন উত্তর এর ০৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল কাশেম মোল্লা নিজেই এই কাজ করবে। না মানিলে আমার জীবন নিয়ে টানাটানি হইতে পারে এছাড়াও এনিয়ে কোন উচ্চবাচ্য করা যাবে না।

মোঃ রেজাউল করিম পূর্ণ বলেন, ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ কাশেম মোল্লাকে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী কে জানালেও সিদ্ধান্ত’ পাল্টাবে না। পাশাপাশি উক্ত জাহিদ, চশমা শামীমসহ কয়েকজন ক্যাডার বাহিনী বেশকিছু হোন্ডা লইয়া আমার বাসার সামনে মাঝে মাঝে টহল দিতে থাকে। আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালসহ প্রকাশ্য হত্যার হুমকি দেয়। পরবর্তীতে আমি ভীত হইয়া নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে শাহ আলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি। জিডি নং১৩৪. তারিখ ০৪/০৬/২০২০ইং।

তিনি আরও বলেন, কাশেম মোল্লা যেদিন দায়িত্বভার গ্রহণ করে সেই দিন হতেই তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা দেয় যে এখন হইতে এই ওয়ার্ডে কোন প্রকার আওয়ামী লীগ নয় কাশেম মোল্লা লীগ ওয়ার্ড এর যাবতীয় কাজ পরিচালনা করবে একই সাথে জামায়াত-বিএনপির চিহ্নিত সন্ত্রাসী জেল খাটা আসামি দিয়া প্রত্যেক ব্লকে বিশেষ স্টাইলিং কমিটি( বিশেষ কমিটি) গঠন করে ইতিমধ্যে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। সে ৯৩ নং ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতিকে নিজে ও তার বাহিনী মিলিয়া শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত পর্যন্ত করেছে।
৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ আবুল কাশেম মোল্লার কাছে জানতে চাইলে গৃহস্থালীর আবর্জনা বর্জ্য অপসারণের কাজ জোর ও বলপূর্বক দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিএনপি-জামায়াত মিলে আওয়ামী লীগের ভিতরে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার লক্ষ্যে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

বিস্তারিত থাকছে আগামী প্রতিবেদনে,,,,,