ইবাদতকে সামাজিকভাবে আদায়ের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে ইসলামে। নামাজ ইসলামের প্রধান খুঁটি। জামাতের সঙ্গে নামাজ পড়লে এর আধ্যাত্মিক, সামাজিক ও নৈতিক প্রভাব বহুগুণ বেড়ে যায়।.মহান আল্লাহ কোরআনে বারবার নামাজের গুরুত্ব ও জামাতের সঙ্গে তা আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ–তায়ালা বলেন, ‘তোমরা নামাজের হেফাজত করো, বিশেষ করে মধ্যবর্তী নামাজের এবং আল্লাহর সামনে বিনীতভাবে দাঁড়াও।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৩৮)অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা নামাজ কায়েম করো, জাকাত দাও এবং রুকুকারীদের সঙ্গে রুকু করো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ৪৩)এই আয়াতের শেষাংশে ‘রুকুকারীদের সঙ্গে রুকু করো’ নির্দেশটি জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায়ের আবশ্যিকতা বা গুরুত্বের সুস্পষ্ট দলিল।.যুদ্ধের মতো কঠিন পরিস্থিতিতেও আল্লাহ জামাতের সঙ্গে নামাজ পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন, যা প্রমাণ করে যে সাধারণ সময়ে জামাত কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ।পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘যখন আপনি তাদের মধ্যে থাকেন এবং তাদের নিয়ে নামাজ কায়েম করেন, তখন যেন তাদের একটি দল আপনার সঙ্গে অস্ত্রসহ দাঁড়ায়। তারা যখন সিজদা সম্পন্ন করবে, তখন যেন তারা সরে গিয়ে আপনাদের পেছনে চলে যায় এবং অন্য দল যারা এখনো নামাজ পড়েনি, তারা যেন আপনার সঙ্গে নামাজ পড়ে।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ১০২).তোমরা নামাজের হেফাজত করো, বিশেষ করে মধ্যবর্তী নামাজের এবং আল্লাহর সামনে বিনীতভাবে দাঁড়াও।সুরা বাকারা, আয়াত: ২৩৮.জামাতে নামাজ যে ভুল অনেকে করে থাকেন.রাসুল (সা.) জামাতে অংশগ্রহণ না করার ব্যাপারে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। বলেছেন, ‘যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ, তাঁর শপথ! আমার ইচ্ছা হয় যে, আমি কাঠ জমা করার নির্দেশ দিই, তারপর নামাজের আজান দেওয়ার নির্দেশ দিই, এরপর কোনো ব্যক্তিকে বলি সে যেন মানুষকে নামাজ পড়ায় এবং আমি নিজে গিয়ে সেই সব লোকদের (যারা জামাতে আসে না) ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিই।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৪২০)এমনকি অন্ধ সাহাবি হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম (রা.)-কেও রাসুল (সা.) মসজিদে এসে নামাজ পড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন, কারণ তিনি আজানের ধ্বনি শুনতে পেতেন।.জামাতে নামাজ আদায়ের মাধ্যমে গুনাহ মাফের কয়েকটি চমৎকার উপায় ও হাদিসের ভাষ্য নিচে দেওয়া হলো—১. উত্তম অজু: রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে অজু করে, তার শরীরের গুনাহগুলো এমনকি নখের নিচ থেকেও ঝরে যায়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৭৮)২. প্রতি কদমে সওয়াব: রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নামাজের জন্য মসজিদে হেঁটে যায়, তার একটি কদম গুনাহ মোচন করে এবং অন্য কদমটি নেকি বৃদ্ধি করে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৩২).জামাতে নফল নামাজ: কখন পড়া যাবে, কখন নয়.অকারণে জামাত ত্যাগ করা মোনাফেকের লক্ষণ। আমাদের উচিত ভয় ও ভক্তির সঙ্গে মসজিদে গিয়ে জামাতের সহিত নামাজ আদায় করা এবং পরিবারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া।.৩. নামাজের অপেক্ষা: মসজিদে বসে নামাজের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় মানুষ নামাজের সওয়াব পায় এবং ফেরেশতারা তার জন্য দোয়া করতে থাকেন। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যতক্ষণ তোমরা মসজিদে নামাজের অপেক্ষায় থাকো, ততক্ষণ তোমরা নামাজের সওয়াবই পেতে থাকো।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৫১)৪. গুনাহ থেকে পবিত্রতা: রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কারও দরজার সামনে যদি একটি নহর থাকে এবং সে প্রতিদিন পাঁচবার সেখানে গোসল করে, তবে কি তার শরীরে কোনো ময়লা থাকবে? সাহাবারা বললেন, না। তিনি বললেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজও ঠিক তেমনি—এর মাধ্যমে আল্লাহ গুনাহ মুছে ফেলেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫২৮)৫. প্রথম কাতারের ফজিলত: রাসুল (সা.) প্রথম কাতারের মুসল্লিদের জন্য তিনবার এবং দ্বিতীয় কাতারের জন্য একবার আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৮২২)অকারণে জামাত ত্যাগ করা মোনাফেকের লক্ষণ। আমাদের উচিত ভয় ও ভক্তির সঙ্গে মসজিদে গিয়ে জামাতের সহিত নামাজ আদায় করা এবং নিজের পরিবারের সদস্যদেরও নামাজের প্রশিক্ষণ দেওয়া।.আপনার নামাজ কতটা মননশীল হয়ে উঠছে
Source: https://www.prothomalo.com/religion/islam/ymje6pxkow
মন্তব্য করুন