১৮ আগস্ট ২০২৬, ৪:৩২ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

‘সামিদের কপালে গুলি লেগে মাথার পেছন দিক দিয়ে বের হয়ে যায়’

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুরে রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানার দিক থেকে পুলিশ ও বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শী মো. আব্দুল নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, গুলি শুরুর পর তাঁরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। তখন থেকে সামিদকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না। পরে তাঁকে হাসপাতালে পান তিনি।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সোমবার জবানবন্দিতে এসব কথা বলেন আব্দুল নাসির উদ্দিন। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ এবং সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন তিনি। আন্দোলনের সময় নাসির উদ্দিন টঙ্গীর চেরাগআলী এলাকায় ছিলেন। বর্তমানে তিনি নরসিংদী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে পড়াশোনা করছেন।নিহত সামিদের বাড়ি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায়। সামিদ তাঁর বন্ধু ছিলেন বলে ট্রাইব্যুনালে উল্লেখ করেন নাসির উদ্দিন।.জবানবন্দিতে নাসির উদ্দিন বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে টঙ্গী থেকে তিনি ও বন্ধু সামিদসহ চার-পাঁচজন ‘লংমার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির উদ্দেশে বের হন। সেদিন বেলা দুইটার দিকে তাঁরা উত্তরার বিএনএস সেন্টার এলাকায় পৌঁছান।আড়াইটার দিকে উত্তরা পূর্ব থানার দিক থেকে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করেন। তখন তাঁরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। পরে সামিদকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না তাঁরা। সামিদের ফোনে অনেক কল দেন তাঁরা, কিন্তু কল রিসিভ হচ্ছিল না।নাসির উদ্দিন আরও বলেন, সেদিন বিকেল পাঁচটার দিকে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে তাঁর কাছে ফোন আসে। অপর প্রান্ত থেকে তাঁকে উত্তরা কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে যেতে বলা হয় এবং জানানো হয় সামিদ সেখানে আছেন। হাসপাতালে খোঁজাখুঁজির পর নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) সামিদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পান তিনি। সামিদের কপালে গুলি লেগে মাথার পেছন দিক দিয়ে বের হয়ে গিয়েছিল।.সাক্ষী জানান, রক্তাক্ত সামিদকে দেখে তিনি তাঁর বাবাকে কল করেন। তাঁর বাবা তখন উত্তরার বিজয় মিছিলে ছিলেন। খবর পেয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই সামিদের বাবা হাসপাতালে ছুটে আসেন। হাসপাতালে এসে তিনি দেখেন তাঁর ছেলে মারা গেছে।জবানবন্দিতে নাসির উদ্দিন অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা ও তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদের নির্দেশে পলক জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছিলেন। হত্যাকাণ্ড ও গুমের তথ্য যাতে বিশ্ববাসী জানতে না পারে এবং আন্দোলনকারীরা যাতে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করতে না পারেন, সে জন্যই ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছিল। এ সময় তিনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।এ মামলার একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক এদিন ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। মামলার অপর আসামি সজীব ওয়াজেদ পলাতক।

Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/crime/lyj45gcedz

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মেঘনায় গুলিবিদ্ধ জেলের মৃত্যু : ২৪ ঘণ্টা পরও মামলা হয়নি, থানায় পুলিশের জিডি

১

শিশুর মানসিক বিকাশ: অভিভাবকদের করণীয় ও পরামর্শ

২

মনিপুর উচ্চবিদ্যালয়ে বাংলা ও ইংলিশ ভার্সনে নার্সারি–নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি

৩

হরমুজ প্রণালিতে মাইন বিস্ফোরণে চার তেলবাহী জাহাজে আগুন

৪

বাংলাদেশের আকাশে এক টুকরা কাঞ্চনজঙ্ঘা

৫

টুথপেস্ট আবিষ্কারের আগে মানুষ যেসব বিচিত্র জিনিস দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করত

৬

ক্ষমতা হারানোর ভয়েই কি আরব দলগুলোর ওপর আক্রমণ বাড়িয়েছেন নেতানিয়াহু

৭

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে বড় নিয়োগ হচ্ছে

৮

গায়ে পা লাগলে ‘সালাম’ করা: প্রথা নাকি বিধান

৯

রাজধানীর গুলশান থানা এলাকায় জমজমাট জুয়ার আসর ?

১০

জাপানে চার দিনের সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

১১

হানিফসহ চার আসামির অপরাধ কী, মৃত্যুদণ্ড ছাড়াও তাঁরা কী কী সাজা পেলেন

১২

নারীর ক্ষমতায়নে ধর্মের অপব্যাখ্যা ও পুরুষতন্ত্র এখনো বড় চ্যালেঞ্জ: জহির উদ্দিন স্বপন

১৩

বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মৃত্যু ঘিরে রহস্য

১৪

নিহত ছাত্রদল নেতার বাড়িতে গিয়ে বিচারের আশ্বাস দিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

১৫

হোগলাবুনিয়া থেকে তাসভির…

১৬

রং, নকশা, বুননে প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম

১৭

নেতানিয়াহুর জোট ছেড়ে বিরোধী জোটে যেতে আগ্রহী ইউটিজে

১৮

সরকার চাইলেই কি টাকা ছাপাতে পারে

১৯

ব্রহ্মপুত্রের বুকেই তৈরি হচ্ছে খেলার মাঠ, প্রতিবাদ পরিবেশকর্মীদের

২০