৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:৩০ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

ঠোঁট চুম্বন ছাড়া আর কোনো ভাষা শেখেনি

ঠোঁট চুম্বন ছাড়া আর কোনো ভাষা শেখেনি।

যা ঘটার, ঘটে গেছে আগেই। মানুষের মৃত্যু উপভোগ্য ও সমাদৃত। ফলে ভড়কে যাওয়ার অবসর নাই। দূরত্ব পদার্থবিজ্ঞানের প্রহেলিকা। তার ফারাক গোছাতে যাওয়ার মতো বোকামি করতে যাব না। আপনার পথে হেঁটে নিজের কাছেই পৌঁছাতে চাই। তবু এই পরিমিতি জানি, হাত বাড়ালে হাত ধরতে হয়।

এ–ও জানি, চুম্বনের পর কোনো নারী আর অনাত্মীয় থাকে না

স্বস্তি ফিরিয়ে দাও। আম্মার অসুস্থতার সময় জীবনের কাছে ছিল এই প্রার্থনা।
যদি কেউ কাফের ভাবে, যখন এই চিন্তা মাথায় আসত, বুঝতাম, কোথাও শান্তি নাই আর।
ঘুম আর নিদ্রার ভেতরেও রয়েছে ফারাক।
‘আম্মা ঘুমাচ্ছেন, আপাতত এইটুকু শান্তির।’
জেগে থেকে তাঁকে পাহারা দিতে দিতে নিজের চোখকে
বলতাম: জেগে থাক, বাপ।
ক্ষণিকের অবহেলাও যেন তাঁকে না পায়।
সিঁদেল চোর পর্যন্ত নিদ্রা কেড়ে নেয়। নিদ্রা কেড়ে নেয় প্রিয় মানুষও।
আম্মার জন্য জেগে থাকা ছিল জান্নাত।
রাতে তাঁর ঘুম ভেঙে গেলে জানতে চাইতেন, সময় কত? আর কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বলতেন, ‘এখনো ঘুমাস নাই!’
কিন্তু এই জিজ্ঞাসাও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
শুধু বলে গেছেন, একটা বাচ্চা বারবার তাঁর স্বপ্নে এসে হামাগুড়ি দেয়। আম্মার স্বপ্নের শিশু আজ আমার সন্তান।

রাত জাগলে এখন কেউ আর বলে না, ‘ঘুমিয়ে যাও।’ অভিজ্ঞতায় জেনেছি, চোখের বিরাম হলে সবুজে মেলে স্থৈর্য; তেমনি পাখিরা উড়ে আসে ঝাঁকে ঝাঁকে—স্থিতির লোভে, শীতের উপদ্রব থেকে বাঁচার নিমিত্তে। যদিও পাহাড়ের তরাইজুড়ে তুরুকসওয়ারি হয়ে মৃত্যু দাঁড়িয়ে থাকে। আর সে নিয়ে আসে শৈত্যপ্রবাহ, আমরাও জেনে যাই : শীত বেড়ে গেলে শয্যাও পরিধেয় হয়ে ওঠে।

যার ঘরে বসার পিঁড়ি পর্যন্ত নেই, সে–ও স্বপ্নে পালঙ্কে ঘুমায়! আজ বিকেলে নদীর তীর ঘেঁষে হাঁটতে হাঁটতে এক জেলের গল্প শুনেছি। মীনগন্ধা গা। তবু তার ঘরে মাছ জোটে না।

পাষাণভার বয়ে চলা মানুষের ভেতর পাথরের পুনর্জন্ম ঘটে;

আত্মলীন এই সত্তা। কোনো দিন মানুষের কথা জানতে চাইনি।
তাদের থেকে সুবিধা নিয়েছি অহরহ। বৈপরীত্যে ঠাঁসা লোভী মন। এইটুকু উপলব্ধি নিয়েও বালিশকে কখনো জিজ্ঞেস করিনি, রাতে সে ঘুমায় কি না।

ভালো না বেসে আজও কাউকে চুমু খাইনি।

—নিজের সঙ্গে এইটুকু সততা রক্ষা করেছি

পাখিদের সঙ্গে কাটিয়েছি অনেক বেলা। ভোরের আলোয় প্রস্ফুটিত দ্বিধা কাটিয়ে যখন মেলে ধরো অপার তোমাকে, নিজেকে অসহায় লাগে; সম্ভাবনাহীন প্রতিটি দিন কত দোদুল্যমান, তবু আমরা উজ্জ্বল, তার অধিক বিভা নিয়ে আসে আমাদের হাসি; পাখিরা জাগার আগে তার সুর ভালোবাসি, তোমার কাছে কেন এসেছি? এমন জিজ্ঞাসার জবাবে বলি, তোমাকে ছাড়া আমার গত্যন্তর নাই

তোমার চুম্বনগুলো ছেলের কপালে তুলে দিয়েছি।

মাঝরাতে ঘুম ভাঙে, পিঠ লেপটে যায় ঘামে; তখনো ভাবি, আমার প্রতিটি মেয়ের নাম রাখব তোমার নামে

Source: https://www.prothomalo.com/onnoalo/poem/dul5hzkbu6

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সরকার চাইলেই কি টাকা ছাপাতে পারে

১

ব্রহ্মপুত্রের বুকেই তৈরি হচ্ছে খেলার মাঠ, প্রতিবাদ পরিবেশকর্মীদের

২

ঘরোয়াভাবে কাবিন হয়েছিল, বিয়ের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে, তার আগেই বর্ষার মৃত্যু

৩

গবেষণার তথ্য: ফেসবুক ও মেসেঞ্জারে নারীর প্রতি সহিংসতা বেশি

৪

পাকিস্তান সরকার ইমরান খানকে হত্যার চেষ্টা করছে: ছেলে সুলাইমানের অভিযোগ

৫

২০ বছর পর সার্জেন্ট পদে ৮৪ ও এসআই পদে ১৬২ জন যোগ দিচ্ছেন

৬

বাল্যবিবাহ ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সচেতন করলেন বন্ধুরা

৭

বিদায়, জান্থি!

৮

জলবায়ু অর্থায়ন প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য

৯

বিধান পরিষদ নির্বাচন বিজেপি ও কংগ্রেসকে চিন্তায় ফেলে দিল

১০

সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে আগারগাঁওয়ে সড়ক অবরোধ শেকৃবির শিক্ষার্থীদের

১১

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অধীনে চাকরি, পদ ১১

১২

দুর্বল হয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, দেশের কিছু স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা

১৩

রাষ্ট্র যখন তার স্রষ্টাদের সম্মান জানাতে সংকটে পড়ে

১৪

সকালেই পড়ুন আলোচিত ৫ খবর

১৫

আলভারেজ না পাজ—আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সি কার

১৬

ছিনতাইকারীর কবলে এক রাত

১৭

মা-বাবাকে নামাজের দাওয়াত যেভাবে দেবেন

১৮

আরব দলগুলোর রেকর্ড সাফল্যের পর ‘ভোট চুরির’ অভিযোগ নেতানিয়াহুর দলের

১৯

নির্যাতনের কথা জানাতে গভীর রাতে বাবাকে ভিডিও কল, সংযোগ বিচ্ছিন্ন, বাসায় গিয়ে পেলেন মৃত্যুর খবর

২০