১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০১ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

ঢাকার দুই সিটিতে এনসিপিকে ছাড় দেবে না জামায়াত, ১১–দলীয় ঐক্যের অন্যরা কী করছে

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ছাড় দেওয়ার আগ্রহ নেই জামায়াতে ইসলামীর। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একসঙ্গে লড়লেও এবার দুই দলই আলাদা মেয়র প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ১১–দলীয় ঐক্যের অন্য শরিকেরাও সামর্থ্য অনুযায়ী প্রার্থী দেবে। তবে স্থানীয় নির্বাচনে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও রাজনৈতিক ঐক্য ধরে রেখে একসঙ্গে কর্মসূচি পালনের কথা বলছেন দলগুলোর নেতারা।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, শুধু ঢাকার দুই সিটি নয়, স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচনে আলাদাভাবে অংশ নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ১১–দলীয় ঐক্য। দলীয় প্রতীকে ভোট না হওয়া এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রার্থী বাছাইয়ের বাস্তবতা বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে কোনো এলাকায় শরিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে একক প্রার্থী দিলে কেন্দ্র থেকে বাধা দেওয়া হবে না। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার গতকাল শুক্রবার প্রথম আলোকে বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১১–দলীয় ঐক্য গঠিত হয়েছিল। ঐক্যভুক্ত দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঢাকার দুই সিটিতে এনসিপি প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্য শরিকদেরও যাদের সামর্থ্য আছে, তারা প্রার্থী দিতে পারে। .স্থানীয় নির্বাচনে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও রাজনৈতিক ঐক্য ধরে রেখে একসঙ্গে কর্মসূচি পালনের কথা বলছেন দলগুলোর নেতারা।.মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শুধু ঢাকার দুই সিটি নয়, সারা দেশের সব সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ক্ষেত্রেই এ সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য। যেহেতু নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে না, তাই জোটগতভাবে ভোট ভাগাভাগির বিষয়ও নেই। ভোটাররা যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।জামায়াতের নেতারা জানান, স্থানীয় পর্যায়ে দলের জেলা ও উপজেলার দায়িত্বশীল নেতারা প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করছেন। তাঁদের হিসাবে, এরই মধ্যে ৭০–৭৫ শতাংশ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের প্রার্থীও প্রায় চূড়ান্ত, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে নাম ঘোষণা করা হয়নি। সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের সব স্তরের প্রার্থীর নাম একসঙ্গে কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করা হবে বলে জানান তাঁরা।জামায়াতের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দলের ঢাকা মহানগর আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনকে এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি মো. আবু সাদিককে (সাদিক কায়েম) মেয়র পদে প্রাথমিকভাবে মনোনীত করা হয়েছে। সেলিম উদ্দিন ইতিমধ্যে মেয়র প্রার্থী হিসেবে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছেন। সাদিক কায়েমও যোগাযোগ বাড়িয়েছেন।.জামায়াতের নেতারা জানান, স্থানীয় পর্যায়ে দলের জেলা ও উপজেলার দায়িত্বশীল নেতারা প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করছেন। তাঁদের হিসাবে, এরই মধ্যে ৭০–৭৫ শতাংশ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের প্রার্থীও প্রায় চূড়ান্ত, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে নাম ঘোষণা করা হয়নি। সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের সব স্তরের প্রার্থীর নাম একসঙ্গে কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করা হবে বলে জানান তাঁরা।.অন্যদিকে এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ঢাকা উত্তর সিটিতে এবং দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে প্রার্থী হবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এনসিপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের নাম ঘোষণা করেনি। স্থানীয় সরকারের অন্য স্তরের নির্বাচনেও এনসিপি এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।১১–দলীয় ঐক্যের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও ঢাকার দুই সিটিতে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলের প্রচার সম্পাদক ও মিডিয়া সমন্বয়ক মাওলানা হাসান জুনাইদ গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকার দুই সিটিতে তাঁদের চারজন সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছেন। যাচাই-বাছাই করে দুজনকে চূড়ান্ত করা হবে।.তবে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি ১১–দলীয় ঐক্যের আরেক শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী প্রথম আলোকে বলেন, সভাপতি ও প্রেসিডিয়াম সদস্যরা আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।.ঢাকার দুই সিটিসহ অন্যান্য সিটি করপোরেশনেও এবি পার্টির প্রার্থী থাকবে বলে জানিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, যাঁরা প্রার্থী হতে চান, তাঁদের দল থেকে সমর্থন দেওয়া হবে। স্থানীয় সরকারের অন্য স্তরগুলোতেও সক্ষমতা অনুযায়ী প্রার্থী দেওয়া হবে।তবে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি ১১–দলীয় ঐক্যের আরেক শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী প্রথম আলোকে বলেন, সভাপতি ও প্রেসিডিয়াম সদস্যরা আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।.জামায়াত ও এনসিপির সূত্রগুলো বলছে, স্থানীয় নির্বাচনে আলাদা প্রার্থী দিলেও রাজনৈতিক ঐক্য ধরে রাখতে চায় দলগুলো। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস–সংকটসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে তারা একসঙ্গে কর্মসূচি পালন করবে।.কেন্দ্রীয়ভাবে আলাদা প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও স্থানীয় পর্যায়ে শরিকদের মধ্যে সমঝোতার সুযোগ থাকছে। ১১–দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো সমঝোতা হবে না। দলগুলো নিজেদের মতো করে প্রস্তুতি নেবে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করলে কেন্দ্র থেকে বাধা থাকবে না।হামিদুর রহমান আযাদ সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি জানান।এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গতকাল সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, এনসিপি এককভাবে নির্বাচন করবে। দলীয় প্রতীক না থাকায় দলের চেয়ে ব্যক্তি বেশি প্রাধান্য পাবেন। তাঁর মতে, এতে স্থানীয় পর্যায়ে জোটের ভোটে খুব বেশি প্রভাব পড়বে না।তবে জামায়াতের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার মতে, স্থানীয় পর্যায়ে শরিকদের সঙ্গে সমঝোতার সুযোগ কম। তাঁদের দাবি, যোগ্যতা ও পরিচিতি বিবেচনায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে জামায়াতের প্রার্থীই এগিয়ে থাকবেন।.এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গতকাল সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, এনসিপি এককভাবে নির্বাচন করবে। দলীয় প্রতীক না থাকায় দলের চেয়ে ব্যক্তি বেশি প্রাধান্য পাবেন। তাঁর মতে, এতে স্থানীয় পর্যায়ে জোটের ভোটে খুব বেশি প্রভাব পড়বে না।.জামায়াত ও এনসিপির সূত্রগুলো বলছে, স্থানীয় নির্বাচনে আলাদা প্রার্থী দিলেও রাজনৈতিক ঐক্য ধরে রাখতে চায় দলগুলো। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস–সংকটসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে তারা একসঙ্গে কর্মসূচি পালন করবে।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ঐক্যভুক্ত দলগুলোর প্রার্থীরা যাতে পরস্পরের সঙ্গে সংঘাতে না জড়ান, সে বিষয়ে সমন্বয় রাখা হবে। নির্বাচন কমিশন বা সরকারের পক্ষ থেকে অসহযোগিতা কিংবা ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হলে শরিকেরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ করবে।জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম প্রথম আলোকে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটগত সমঝোতা না হলেও রাজনৈতিক সমঝোতা অটুট থাকবে। ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠের কর্মসূচি পালন করা হবে। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল প্রভাব বিস্তার করতে চাইলে ১১–দলীয় ঐক্য একসঙ্গে তার প্রতিবাদ করবে।

Source: https://www.prothomalo.com/politics/u0lxpzl2c4

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সমালোচনার মুখে ‘অচেনা’ তিন প্রবাসীকে উপদেষ্টা করার সিদ্ধান্ত স্থগিত

সরকারকেই পরিষ্কার করতে হবে তারা মালয়েশিয়া সিন্ডিকেটে জড়িত নয়: জামায়াত আমির

এল ম্যাগাজিনের কভার গার্ল থেকে গ্ল্যামার নিয়ে নতুন বিতর্কে দিশা পাটানি

সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ডেঙ্গুর শঙ্কা, এডিস নিয়ন্ত্রণে করণীয় কী

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তবিভাগ ফুটবল খেলায় দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ

প্রার্থিতা জানান দিতে কয়েক শ মোটরসাইকেল নিয়ে শোডাউন, তিন হাজার মানুষের ভূরিভোজ

ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত হতে যাচ্ছে ওয়াও মার্কেট।

ইরানের স্কুলে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল, বলছে জাতিসংঘ

পারিবারিক কলহের জেরে ছেলেকে হত্যার অভিযোগ, মা আটক

মোহাম্মদপুরে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মোটরসাইকেল ও টাকা ছিনতাই

১০

অদৃশ্য জীবাণু, দৃশ্যমান অবদান: মাইক্রোবায়োলজিস্টদের গল্প

১১

এনসিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে

১২

বাংলাদেশিদের জন্য নতুন ওয়ার্ক পারমিট ও শ্রমভিসা বন্ধ করল লাওস

১৩

আদালতে চুক্তিপত্র দেখিয়ে জামিন, পরে বেরিয়ে এল জালিয়াতির তথ্য

১৪

নেপাল–তিব্বতের প্রাণঘাতী বন্যার পেছনে জলবায়ু সংকট, ধারণা গবেষকদের

১৫

যুক্তরাজ্য–ইসরায়েল মুখোমুখি, পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞা—আন্তর্জাতিক চাপে কি নেতানিয়াহু

১৬

ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে টাকা নেওয়ার ঘটনায় এনসিপি নেত্রীকে সাময়িক অব্যাহতি

১৭

যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সমন্বিত আইন প্রয়োজন

১৮

পাহাড়ে বাহারি ফুল

১৯

গ্রাহকবান্ধব সুদের হার ও দ্রুত অনুমোদন সুবিধা

২০