৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০০ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

নিউ গিনিতে হামলার পরিকল্পনা হয় খাবারের দোকানে, লোক জোগান দেয় দুই বাহিনী

জমি ও চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধ। সেই বিরোধের জেরে আবাসন প্রকল্পে হামলার পরিকল্পনা হয় খাবারের দোকানে বসে। এরপর দুই বাহিনী থেকে লোক জোগাড় করে রাতে চালানো হয় সশস্ত্র হামলা। রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে হামলার তদন্তে এমন তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র।সূত্রগুলোর ভাষ্য, হামলার দিন দুপুরে বৈঠকের পর বিকেলে দুই জায়গায় লোক জড়ো করা হয়। পাঁচটি পিকআপে করে ও হেঁটে ঘটনাস্থলে যায় প্রায় ২০০ হামলাকারী। রাত সাড়ে ১০টার দিকে মূল ফটকে গুলি ছুড়ে হামলা শুরু করে তারা। হামলায় অংশ নেন মিরপুরের মো. ইব্রাহিম ও মামুন বাহিনীর সদস্যরা। এই ইব্রাহিম ভাষানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক। পুলিশের তালিকায় তাঁর নাম ‘কিলার ইব্রাহিম’।দুপুরে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের একটি খাবারের দোকানে বৈঠক হয়। বিকেল চারটার দিকে ভাষানটেকের দেওয়ানপাড়া দোতলা মসজিদের সামনের মাঠে একদল লোক জড়ো হয়। আরেক দল জড়ো হয় মানিকদী এলাকায়। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, এসব জায়গা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে পাঁচটি পিকআপে করে এবং হেঁটে নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে যায় প্রায় ২০০ হামলাকারী। রাত সাড়ে ১০টার দিকে মূল ফটকে গুলি ছুড়ে প্রকল্পে হামলা চালায় তারা।.হামলায় অংশ নেন মিরপুরের মো. ইব্রাহিম ও মামুন বাহিনীর সদস্যরা। এই ইব্রাহিম ভাষানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক। পুলিশের তালিকায় তাঁর নাম ‘কিলার ইব্রাহিম’।.তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, হামলায় মিরপুর এলাকার দুটি ‘সন্ত্রাসী বাহিনীর’ সদস্যরা অংশ নেয়। একটি বাহিনী ভাষানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিমের। অন্যটি পল্লবীর মফিজুর রহমান মামুনের। হামলাকারীদের মধ্যে ইব্রাহিমের অনুসারীই ছিল সবচেয়ে বেশি। এই দুই বাহিনী থেকে হামলার লোক জোগাড়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ঠিকাদার বিকাশ চন্দ্র শাহকে।গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে ইসিবি চত্বর এলাকায় নিউগিনি প্রপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে হামলার সময় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতেও ভাঙচুর–লুটপাট করা হয়। ওই রাতেই ঘটনার বিবরণ দিয়ে সালমান একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়।.হামলার পরিকল্পনায় কারা জড়িত, কারা অংশ নিয়েছে, কারা অস্ত্র সরবরাহ করেছে—এসব বিষয়ে তদন্ত চলছে। কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, সেগুলো যাচাই–বাছাই করা হচ্ছে।ডিবি গুলশান বিভাগের উপকমিশনার আ ফ ম আনোয়ার হোসেন.হামলা ও ভাঙচুরের মামলায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী, মিজানুর রহমান, শাহরিয়ার মাহমুদ, শাহ আলম, মামুন, আসলাম ও মুন্না। সর্বশেষ গত বুধবার গ্রেপ্তার হন মামলার ৪ নম্বর আসামি গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী। পুলিশ জানিয়েছে, সাতজনই রিমান্ডে আছেন। গ্রেপ্তার হওয়া মামুন ও বাহিনীপ্রধান মফিজুর রহমান মামুন আলাদা ব্যক্তি।.গুলি ছুড়তে ছুড়তে ঢুকে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুর, পরে লুটপাট.মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব ক্যান্টনমেন্ট থানা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে। ডিবি গুলশান বিভাগের উপকমিশনার আ ফ ম আনোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি আরও জানান, হামলার পরিকল্পনায় কারা জড়িত, কারা অংশ নিয়েছে, কারা অস্ত্র সরবরাহ করেছে—এসব বিষয়ে তদন্ত চলছে। কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, সেগুলো যাচাই–বাছাই করা হচ্ছে।.তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, এসব জায়গা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে পাঁচটি পিকআপে করে এবং হেঁটে নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে যায় প্রায় ২০০ হামলাকারী। রাত সাড়ে ১০টার দিকে মূল ফটকে গুলি ছুড়ে প্রকল্পে হামলা চালায় তারা।.মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, হামলার দিন দুপুরে ইসিবি চত্বরের একটি খাবারের দোকানে বৈঠক হয়। দোকানের সিসিটিভি ফুটেজে সেখানে ১৩ জনকে দেখা গেছে। তাঁদের মধ্যে দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। একজন গ্রেপ্তার শাহরিয়ার মাহমুদ, অন্যজন বিকাশ চন্দ্র শাহ। বাকি ১১ জনকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। বৈঠকটি ছিল হামলার পরিকল্পনা নিয়ে। শাহরিয়ার ও বিকাশ সেই পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিকাশ বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পে ভবন নির্মাণের কাজ করেন। নিউগিনি আবাসন প্রকল্পের মালিক নাজিম উদ্দিন ভুঁইয়ার সঙ্গে জমি নিয়ে গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ কয়েকজনের বিরোধ ছিল। বিরোধসংশ্লিষ্ট জমিতে ভবন নির্মাণের কাজ দেওয়া হয় বিকাশকে।.নিউগিনি প্রপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে হামলা–ভাঙচুর: গ্রেপ্তার মিজানুরসহ তিনজন রিমান্ডে.তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ভবন নির্মাণের পাশাপাশি নিউগিনির মালিকের সঙ্গে কথা বলে চলাচলের রাস্তার ব্যবস্থা করার কথা ছিল বিকাশের। কিন্তু নাজিম উদ্দিন রাস্তা দিতে রাজি হননি। এই বিরোধের সঙ্গে হামলার যোগসূত্র রয়েছে বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন।পরিকল্পনায় সংশ্লিষ্টতা ও হামলার জন্য লোক জোগাড়ের অভিযোগের বিষয়ে বিকাশ চন্দ্র শাহের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি আত্মগোপনে আছেন। পুলিশ বলছে, তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।.মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, হামলার দিন দুপুরে ইসিবি চত্বরের একটি খাবারের দোকানে বৈঠক হয়। দোকানের সিসিটিভি ফুটেজে সেখানে ১৩ জনকে দেখা গেছে। তাঁদের মধ্যে দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। একজন গ্রেপ্তার শাহরিয়ার মাহমুদ, অন্যজন বিকাশ চন্দ্র শাহ।.তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, খাবারের দোকানের বৈঠক থেকে হামলার সিদ্ধান্ত হয়। লোক জোগাড়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় বিকাশকে। তিনি মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আলম অনিকের মাধ্যমে ইব্রাহিম ও মফিজুর রহমান মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এই দুই বাহিনীর লোকজন ভাড়াটে হিসেবে হামলায় অংশ নেয় বলে সূত্রের দাবি।ভাষানটেকের দেওয়ানপাড়া এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা প্রথম আলোকে বলেন, দোতলা মসজিদের সামনে ইব্রাহিমের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যালয় রয়েছে। ঘটনার দিন বিকেল চারটার দিকে ভাষানটেক বস্তি ও পল্লবী এলাকা থেকে লোকজন এনে মসজিদের সামনের মাঠে জড়ো করা হয়। তাঁদের অভিযোগ, ইব্রাহিমের বাহিনীর মাসুম ওরফে ফরসা মাসুম হামলাকারীদের জড়ো করে নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে নিয়ে যান।তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, হামলাকারীদের বড় অংশ এসেছিল ভাষানটেক বস্তি থেকে। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার দুজনও সেখানকার বাসিন্দা। তাঁরা ইব্রাহিমের অনুসারী বলে সূত্রটি জানিয়েছে।পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, হামলায় ইব্রাহিমের অনুসারী যুবরাজ, শাহেদ, শাকিল, রূপচান, বাবলু ও বুকপোড়া সুমনও জড়িত ছিলেন। ভাষানটেক এলাকার নানা অপরাধের সঙ্গে তাঁদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।.তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, খাবারের দোকানের বৈঠক থেকে হামলার সিদ্ধান্ত হয়। লোক জোগাড়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় বিকাশকে। তিনি মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আলম অনিকের মাধ্যমে ইব্রাহিম ও মফিজুর রহমান মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এই দুই বাহিনীর লোকজন ভাড়াটে হিসেবে হামলায় অংশ নেয় বলে সূত্রের দাবি।.স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভাষানটেক এলাকায় ভবন নির্মাণের কথা শুনলেই সেখানে হাজির হন ইব্রাহিমের অনুসারীরা। তাঁদের কাছ থেকে মাটি ভরাটের সেবা এবং ইট, বালু, সিমেন্টসহ নির্মাণসামগ্রী নিতে বাধ্য করা হয়।একজন ভবনমালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ইব্রাহিমের লোকেরা তাঁকে তাঁদের কাছ থেকে নির্মাণসামগ্রী কেনার প্রস্তাব দেন। রাজি না হওয়ায় তাঁর নির্মাণাধীন ভবনের সামনে গিয়ে গুলি করা হয়। পরে তিনি ইব্রাহিমের কাছ থেকে নিম্নমানের ইট ও বালু কিনতে বাধ্য হন।নিউগিনিতে হামলায় পল্লবীর মফিজুর রহমান মামুনের বাহিনীর সদস্যরাও অংশ নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের অভিযোগ, মিরপুর ও আশপাশের এলাকায় জোর করে জমি দখল করে দিতে ভাড়াটে হিসেবে কাজ করেন এই বাহিনীর সদস্যরা। মিরপুর ও পল্লবী এলাকার নানা অপরাধেও তাঁদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।মফিজুর রহমান মামুন পল্লবী থানার ৯১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন। খুন, জমি দখল, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে গত মঙ্গলবার তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।নিউগিনি আবাসন প্রকল্পের মালিক নাজিম উদ্দিন ভুঁইয়াও প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠানে হামলায় ইব্রাহিম ও মামুন বাহিনীর লোকজন জড়িত।সন্ত্রাসী পাঠিয়ে হামলা করানোসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে জানতে মো. ইব্রাহিম ও মফিজুর রহমান মামুনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাঁদের পাওয়া যায়নি।.‘এখানে অ্যাটাক হয়েছিল…আমাদের স্টুডিও ডেস্ট্রয়েড হয়ে গেছে’, ভিডিওতে সালমান মুক্তাদির.হামলার এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলে যান ছয়জন পুলিশ সদস্য। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, হামলাকারীরা তাঁদের লক্ষ্য করেও গুলি ছোড়ে। পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে কারা গুলি ছুড়েছিল, তাদের এখনো শনাক্ত করা যায়নি। হামলার সময় অন্য অস্ত্রধারীদের পরিচয় শনাক্তেরও চেষ্টা চলছে।মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, হামলার সময় আনুমানিক ৫০টি গুলি ছোড়া হয়। অন্যদিকে পুলিশের ভাষ্য, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যরা পাঁচটি গুলি ছুড়েন।স্টুডিওতে হামলা ও তাঁর অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সালমান মুক্তাদিরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এদিকে গত বুধবার সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাবের তথ্য ও লেনদেনের বিবরণ চেয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। একটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে এসব বিবরণ চাওয়া হয়।.প্রকল্পসংলগ্ন ৩৫ কাঠা জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি হামলার তদন্তে উঠে এসেছে। গত শুক্রবার সেখানে গিয়ে দেখা যায়, জমিটি খালি পড়ে আছে। এর তিন পাশে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি, অন্য পাশে নিউগিনি আবাসন প্রকল্প। ওই জমি থেকে বের হওয়ার জন্য নিউগিনি প্রকল্পের রাস্তা ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে বিরোধ রয়েছে।.নাজিম উদ্দিন ভুঁইয়া ২০১১ সাল থেকে ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন ইসিবি চত্বর এলাকায় জমি কিনে আবাসন ব্যবসা শুরু করেন। এখন তাঁর নিউগিনি আবাসন প্রকল্পের আয়তন ১০ থেকে ১২ বিঘা।প্রকল্পসংলগ্ন ৩৫ কাঠা জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি হামলার তদন্তে উঠে এসেছে। গত শুক্রবার সেখানে গিয়ে দেখা যায়, জমিটি খালি পড়ে আছে। এর তিন পাশে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি, অন্য পাশে নিউগিনি আবাসন প্রকল্প। ওই জমি থেকে বের হওয়ার জন্য নিউগিনি প্রকল্পের রাস্তা ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে বিরোধ রয়েছে।নাজিম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ৩৫ কাঠার মধ্যে ১৫ কাঠা জমি গোলাম মহিউদ্দিন তাঁর কাছে বিক্রি করেছেন। সেই জমিতে মাটি ভরাট করে তিনি সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করেছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর হামলা করে সেটি ভেঙে দেওয়া হয়।নাজিমের অভিযোগ, জমি বুঝিয়ে না দিয়ে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণের ঘোষণা দেন গোলাম মহিউদ্দিন। পাশাপাশি নিউগিনি আবাসন প্রকল্পের ভেতর দিয়ে রাস্তা চান। রাস্তা দিতে রাজি না হওয়ায় ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে হামলা করানো হয়।.নাজিম উদ্দিন বলেন, ব্যবসায়িক প্রতিপক্ষরা বিভিন্ন সময়ে তাঁকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ‘ট্যাগ’ দিয়ে হয়রানি করেছেন। তাঁর ভাষ্য, ২০২২ সালে বিএনপি–জামায়াতের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনে ঢাকার বিভিন্ন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়। সেসব মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি কারাগারে ছিলেন।.নিউগিনির মালিক নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধেও জমিসংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে। জোয়ার সাহারা এলাকায় সাড়ে আট কাঠা জমির পুরো দাম পরিশোধ না করে অন্যের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে গত জুলাইয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেন মিজানুর রহমান নামের এক ব্যক্তি।এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২৪ সালে জমিটি কেনার জন্য বায়নাপত্র হয়। দাম নির্ধারণ করা হয় ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা। নাজিম উদ্দিন ১ কোটি টাকা পরিশোধ করেন। বাকি ৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা ৫ মাসের মধ্যে দেওয়ার কথা থাকলেও তা পরিশোধ করেননি। এর মধ্যেই জমিটি অন্যের কাছে বিক্রি করে দেন বলে বাদীর অভিযোগ।আওয়ামী লীগ আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের অভিযোগের বিষয়ে নাজিম উদ্দিন বলেন, ব্যবসায়িক প্রতিপক্ষরা বিভিন্ন সময়ে তাঁকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ‘ট্যাগ’ দিয়ে হয়রানি করেছেন। তাঁর ভাষ্য, ২০২২ সালে বিএনপি–জামায়াতের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনে ঢাকার বিভিন্ন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়। সেসব মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি কারাগারে ছিলেন। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময়ও ক্যান্টনমেন্ট থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়। আবার ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তাঁকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে মামলা দেওয়া হচ্ছে।.কিছু করে দেখান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সালমান মুক্তাদির

Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/crime/swi9w4pugp

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ছিনতাইকারীর কবলে এক রাত

১

মা-বাবাকে নামাজের দাওয়াত যেভাবে দেবেন

২

আরব দলগুলোর রেকর্ড সাফল্যের পর ‘ভোট চুরির’ অভিযোগ নেতানিয়াহুর দলের

৩

নির্যাতনের কথা জানাতে গভীর রাতে বাবাকে ভিডিও কল, সংযোগ বিচ্ছিন্ন, বাসায় গিয়ে পেলেন মৃত্যুর খবর

৪

নেতানিয়াহুকে সরাতে আরব দলগুলোর সঙ্গে ঐক্যের ডাক গোলানের

৫

বছরের শেষ নাগাদ পণ্যের দাম বাড়তে পারে ২৩ শতাংশ: বিশ্বব্যাংক

৬

পুলিশে সরাসরি এসআই নিয়োগ হবে ৪ হাজার, ৪০০-৫০০ এএসপি নিতে হবে বিশেষ বিসিএস

৭

ইরানে স্বর্ণপামজয়ী নির্মাতাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ

৮

নির্বাচনের আগের দিন বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

৯

চার জুটির চার রকম প্রেম, তিন নতুন মুখের অভিষেক

১০

বেশি বেতনে চীনে চাকরির প্রলোভন, পাচারের জন্য আটকে রেখে ১২ নারীকে নির্যাতন

১১

ইসরায়েলে ভোট গণনা: নাটকীয়তা বাড়ছে

১২

ইসির পরীক্ষা হবে আগামীকাল: ১১–দলীয় ঐক্য

১৩

দুই পা হারানো সাখাওয়াতের হাতে হুইলচেয়ার, ঘরে এক মাসের বাজার

১৪

গুলির শব্দ শুনে দৌড়ে গিয়ে দেখেন রক্তে বুক ভিজে যাচ্ছে স্বামীর, হাসপাতালে নিতে নিতে শেষ

১৫

বিজ্ঞান প্রাণহীন বিষয় নয়, বিজ্ঞান থেকে মানবিকতা বিচ্ছিন্ন করা যায় না

১৬

ধীরে এগোচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’

১৭

ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচনে সরকার গঠনে অনিশ্চয়তা, কেউ পাচ্ছে না সংখ্যাগরিষ্ঠতা

১৮

সাজেকে টানা সাত দিন ধরে অবরোধ, বিপাকে কৃষক ও গাড়িচালকেরা

১৯

হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে পাননি পাঁচ চিকিৎসককে, ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

২০