জয়পুরহাটে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভার ব্যানারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকায় এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ ও ‘জাতির পিতা’ সম্বোধন করা নিয়ে হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী। এ নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করেছেন জেলা প্রশাসক আল-মামুন মিয়া।আজ শনিবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এ সভা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকায় নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠান শুরু করা যায়নি। বিএনপির নেতা–কর্মীদের ক্ষোভের মুখে জিয়াউর রহমানের ছবি-সংবলিত একটি পোস্টার কসটেপ দিয়ে ব্যানারে সাঁটানোর পর অনুষ্ঠান শুরু হয়।.এ ঘটনায় অনুষ্ঠানে দুঃখপ্রকাশ করেন জেলা প্রশাসক আল-মামুন মিয়া। ব্যানারে ছবি না থাকার বিষয়ে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ইন্টারনেট থেকে ছবি নিয়ে ব্যানারটি তৈরি করা হয়েছিল।.প্রত্যক্ষদর্শী ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ের আগেই অনুষ্ঠানস্থলে আসেন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী। এ সময় প্রতিমন্ত্রীকে ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকার বিষয়টি জানান বিএনপির নেতা-কর্মীরা। এ কারণে প্রতিমন্ত্রী মঞ্চে ওঠেননি। পরে জেলা প্রশাসক আল–মামুন মিয়াসহ অন্য কর্মকর্তারা মঞ্চে গিয়ে জিয়াউর রহমানের ছবি-সংবলিত একটি পোস্টার কসটেপ দিয়ে ব্যানারে সাঁটিয়ে দেন। এরপর প্রতিমন্ত্রী মঞ্চে উঠলে নির্ধারিত সময়ের আধা ঘণ্টা পর আলোচনা সভা শুরু হয়।.সভায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য নিয়ে বক্তব্য দেন জিয়া পরিষদের জয়পুরহাট পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক মারুফ হাসান। নিজের বক্তব্যে একাধিকবার তিনি শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির পিতা’ ও ‘বঙ্গবন্ধু’ বলে সম্বোধন করেন। এ নিয়ে সভাস্থলে হট্টগোল শুরু হয়। এ সময় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এ কে এম গোলাম মাহফুজ উত্তেজিত হয়ে মঞ্চের ডায়াসের দিকে তেড়ে যান। একপর্যায়ে মারুফ হাসানকে ডায়াস থেকে সরিয়ে দিলে আবার সভা শুরু হয়। এ সময় প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।.ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ ওহাব। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের বিদায় হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনে এখনো ফ্যাসিবাদের দোসররা রয়ে গেছে। তাঁরা সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে বিতর্কিত করতে চায়। জয়পুরহাটেও ফ্যাসিবাদ থেকে গেছে বলে তাঁরা মনে করেন। ভবিষ্যতে এমন অনুষ্ঠান আয়োজনে জেলা প্রশাসন আরও সতর্ক থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।.জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রধান বলেন, ১৯ বছর পর তাঁরা জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে ঘিরে আয়োজিত অনুষ্ঠানের ব্যানারেই তাঁর ছবি ছিল না। এ ঘটনায় দলের নেতা-কর্মীদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা। এ বিষয়ে তিনি প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী অনুষ্ঠানের বিভিন্ন ত্রুটিবিচ্যুতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত হয়ে থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদের প্রশাসককে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন।.এ ঘটনায় অনুষ্ঠানে দুঃখপ্রকাশ করেন জেলা প্রশাসক আল-মামুন মিয়া। ব্যানারে ছবি না থাকার বিষয়ে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ইন্টারনেট থেকে ছবি নিয়ে ব্যানারটি তৈরি করা হয়েছিল।অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে পুলিশ সুপার শাহনাজ বেগম, সিভিল সার্জন আল-মামুন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের নেতা জগলুল আলম প্রমুখ বক্তব্য দেন।
Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/n5l7aihmo4
মন্তব্য করুন