৭ আগস্ট ২০২৬, ১:৩১ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

হরমুজ চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে, বড় নিয়ন্ত্রণ থাকতে পারে ইরানের হাতে

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চালাচলের পথ নিয়ে প্রাথমিক সমঝোতার পর চূড়ান্ত একটি চুক্তির পথে রয়েছে ইরান ও ওমান। মতভেদ থাকা বিষয় পর্যালোচনার পর শিগগিরই চুক্তি ঘোষণা করা হতে পারে। আর প্রাথমিক সমঝোতা অনুযায়ী শেষ পর্যন্ত চুক্তি হলে এই জলপথে প্রবেশ করা জাহাজগুলো নিয়ন্ত্রণ ও সেবা ফি নেওয়ার সুযোগ তেহরানের হাতে থাকবে বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র। হরমুজে প্রবেশ করা জাহাজে ইরানের নিয়ন্ত্রণ থাকার অর্থ হলো আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্যে তেহরানের হাত আরও শক্তিশালী হওয়া। পাঁচ মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে তেহরানের একটি কৌশলগত ও অর্থনৈতিক জয়ও এটি। যুদ্ধের আগে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ ছিল না। তখন হরমুজে চলাচলের জন্য সেবা ফিও দেওয়া লাগত না। কয়েক দিন আলোচনার পর গত বুধবার রাতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই হরমুজ নিয়ে ওমানের সঙ্গে প্রাথমিক ঐকমত্যের কথা জানিয়েছিলেন। চূড়ান্ত পর্যালোচনা চলার কথাও বলেছিলেন তিনি। আর ইরানের পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদির ভাষ্য ছিল, সমঝোতা অনুযায়ী হরমুজ দিয়ে পারস্য উপসাগরে জাহাজ প্রবেশ ও বের হওয়ার পথের নিয়ন্ত্রণ করবে তেহরান।.খসড়া চুক্তিটি সম্পর্কে আরও কিছু ধারণা দিয়েছেন কিংস কলেজ লন্ডনের শিক্ষক রব জেইস্ট পিনফোল্ড। তিনি বলেন, সমঝোতা অনুযায়ী হরমুজে দুটি পথ থাকবে।.যদিও ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, হরমুজ নিয়ে ওমানের সঙ্গে যে খসড়া চুক্তি হয়েছে, তাতে হরমুজ দিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করা জাহাজগুলোর ওপরে ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। তবে প্রধান অমীমাংসিত বিষয়গুলোর একটি হলো উপসাগর থেকে বেরিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর ওপরও ইরানের কী ধরনের ভূমিকা বা কর্তৃত্ব থাকবে। এটি নিয়ে পর্যালোচনা চলছে।হরমুজে জাহাজের ওপর নিয়ন্ত্রণটা কেমন হবে, তার বিস্তারিত পথরেখা তৈরির কাজও চলছে বলে জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি সূত্র। এ ছাড়া সেবা ফি নিয়েও ইরান ও ওমানের মধ্যে কিছু মতবিরোধ রয়েছে। জাহাজে থাকা পণ্যের মোট মূল্যের ৫ থেকে ৭ শতাংশ ফি নিতে চায় তেহরান। ওমান এই সেবা ফি ৩ শতাংশ করতে আলোচনা করছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের ফির বিরুদ্ধে।.ইরান যুদ্ধের খরচ ও অস্ত্রের মজুত নিয়ে ট্রাম্পের দাবি কি আসলেই সত্যি.তেহরানে অবস্থান করা আল–জাজিরার সাংবাদিক তোহিদ আসাদিকে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, দু–একটি বিষয়—যেগুলো মীমাংসা হয়নি, সেগুলো তেমন একটা জটিল নয়। কারণ, মূল বিষয়—অর্থাৎ হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলে রাজি হয়েছে দুই পক্ষ। সূত্রের বরাতে তোহিদ আসাদি বলেছেন, বৃহস্পতিবার দিনের শেষ নাগাদ একটি চুক্তির ঘোষণা দিতে পারে তেহরান।খসড়া চুক্তিটি সম্পর্কে আরও কিছু ধারণা দিয়েছেন কিংস কলেজ লন্ডনের শিক্ষক রব জেইস্ট পিনফোল্ড। তিনি বলেন, সমঝোতা অনুযায়ী হরমুজে দুটি পথ থাকবে। একটি ইরানের ও অন্যটি ওমানের উপকূল দিয়ে। তবে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যুদ্ধের আগে হরমুজের মাঝবরাবর যে পথ ব্যবহার করা হতো, নতুন পথ দিয়ে সে পরিমাণ জাহাজ চলাচল সম্ভব নয়। নতুন পথ কোনো স্থায়ী সমাধান নয়।.ইরান যুদ্ধ শুরু হয়েছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। এর পর থেকেই হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে রেখেছে তেহরান। এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি পরিবহন করা হতো। হরমুজ বন্ধ থাকায় অস্থির হয়ে ওঠে জ্বালানি বাজার। এতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ করতে গিয়ে উল্টো চাপে পড়ে ওয়াশিংটন। এমন পরিস্থিতিতে প্রণালিটি চালু করতে মরিয়া হয়ে ওঠেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।গত জুলাইয়ে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র যে ব্যাপক হামলা চালিয়েছিল, তার মূলেও ছিল এই হরমুজ প্রণালি। এরপরও তেহরানকে পিছু হটাতে পারেনি ওয়াশিংটন। ইরান সরকার তাদের আগের অবস্থানেই অটল রয়েছে যে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল করলে, তাদের নিয়ন্ত্রণ পথ দিয়েই করতে হবে। এর বিনিময়ে টোল নেবে তারা। ওমান উপকূল দিয়ে জাহাজ চলাচল করলে হামলাও চালাচ্ছিল ইরান বাহিনী।এমন পরিস্থিতিতেই ইরান–ওমান আলোচনা শুরু হয়। হরমুজে টোল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মূল মাথাব্যথা থাকলেও এ আলোচনায় দেশটিকে যুক্ত করা হয়নি বলে জানিয়েছে ইরান। আর সমঝোতার খবর সামনে আসার পর ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে হরমুজে ইরানের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। তারা বলেছে, হরমুজে অস্থায়ী কোনো পথে জাহাজ চলাচলে অনুমতি বা টোল গ্রহণযোগ্য নয়।.মার্কিন যুদ্ধের লক্ষ্য বদলে গেছে, ভুগছে উপসাগরীয় দেশগুলো.সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালি নিয়ে কোনো চুক্তি হলেও এটাই সংকটের শেষ নয় বলে মন্তব্য করেছেন আল–জাজিরার সাংবাদিক মাহমুদ আবদেল ওয়াহেদ। এর কারণ হিসেবে হরমুজে টোল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চলমান নৌ অবরোধ এবং যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনার কোনো অগ্রগতি না হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন তিনি।এ ছাড়া পাল্টাপাল্টি হুমকি তো রয়েছেই। হরমুজ নিয়ে চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে বুধবারই ট্রাম্প বলেছিলেন, চুক্তি না করলে ইরানে কঠোর হামলা চালানো হবে। আর বৃহস্পতিবার ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির আকরামিনিয়া বলেছেন, যেকোনো হুমকির জবাব দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে ইরান। .ইরান যুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমছে, যুক্তরাষ্ট্র কি নতুন চাপে

Source: https://www.prothomalo.com/world/middle-east/v96dij83yh

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বেশি বেতনে চীনে চাকরির প্রলোভন, পাচারের জন্য আটকে রেখে ১২ নারীকে নির্যাতন

১

ইসরায়েলে ভোট গণনা: নাটকীয়তা বাড়ছে

২

ইসির পরীক্ষা হবে আগামীকাল: ১১–দলীয় ঐক্য

৩

দুই পা হারানো সাখাওয়াতের হাতে হুইলচেয়ার, ঘরে এক মাসের বাজার

৪

গুলির শব্দ শুনে দৌড়ে গিয়ে দেখেন রক্তে বুক ভিজে যাচ্ছে স্বামীর, হাসপাতালে নিতে নিতে শেষ

৫

বিজ্ঞান প্রাণহীন বিষয় নয়, বিজ্ঞান থেকে মানবিকতা বিচ্ছিন্ন করা যায় না

৬

ধীরে এগোচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’

৭

ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচনে সরকার গঠনে অনিশ্চয়তা, কেউ পাচ্ছে না সংখ্যাগরিষ্ঠতা

৮

সাজেকে টানা সাত দিন ধরে অবরোধ, বিপাকে কৃষক ও গাড়িচালকেরা

৯

হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে পাননি পাঁচ চিকিৎসককে, ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

১০

গাজায় নিজের সেনাসন্তান নিহত হওয়াতেই কি রাজনীতিতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন আইজেনকট

১১

দুর্নীতি-হয়রানির অভিযোগে ভূমি অফিসে তালা দেওয়ার হুঁশিয়ারি বিএনপি নেতা জাহেদ চৌধুরীর

১২

গুলশান-বনানীর পাঠকদের হাতের নাগালে বইয়ের সম্ভার

১৩

অ্যান্ডারসনকে ‘অসম্মান’ করেছে ল্যাঙ্কশায়ার

১৪

যে সঞ্চয়পত্র সবাই কিনতে পারেন

১৫

সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্য ঢাকা-টোকিও সম্পর্ক সুদৃঢ় করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

১৬

সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, এমপির আত্মীয়স্বজন পেয়েছেন ডিলারশিপ

১৭

এখনই কেন দূরে তাকাচ্ছেন না নাজমুল

১৮

হাতে ব্যালন ডি’অর, মাথায় ব্যবসার বুদ্ধি—যেভাবে দুই ভুবনের ‘রাজা’ কেইন

১৯

পদুচেরি উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, পূর্ব ভারতে ভারী বৃষ্টি

২০