১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:০১ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

মদিনাবাসীকে মহানবী (সা.) প্রথম যে বার্তা দেন

মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত শুধু একটি ভৌগোলিক স্থানান্তর ছিল না; বরং তা ছিল এক নতুন মানবিক রাষ্ট্র ও আদর্শ সমাজ বিনির্মাণের ঐতিহাসিক শুভ সূচনা। বিভিন্ন ধর্মের মানুষের আবাসস্থল ছিল মদিনা। প্রধান দুটি গোত্র আউস ও খাজরাজ দীর্ঘ যুদ্ধ-বিগ্রহে ক্লান্ত তখন গোত্র।মদিনায় পৌঁছে আল্লাহর রাসুল (সা.) নতুন নগরবাসীকে কী বার্তা দিয়েছিলেন? মাত্র চারটি গভীর মানবিক ও আত্মিক মূলনীতির ওপর তিনি গড়ে তুলেছিলেন পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে ইনসাফপূর্ণ ও শান্তির সমাজ।মদিনার ইহুদি পণ্ডিত আবদুল্লাহ ইবনে সালাম, যিনি পরে ইসলাম গ্রহণ করেন, তিনি বর্ণনা করেন, “আল্লাহর রাসুল যখন প্রথম মদিনায় পদার্পণ করলেন, তখন চারপাশ থেকে মানুষ তাঁর দর্শনের জন্য ভিড় জমাল। আমিও ভিড়ের মধ্যে গিয়ে তাঁর চেহারার দিকে তাকালাম। এক পলক দেখেই আমার অন্তরাত্মা বলে উঠল—এটি কোনো মিথ্যাবাদীর চেহারা হতে পারে না।“তিনি সমবেত জনতার উদ্দেশে সর্বপ্রথম যে বাণীটি উচ্চারণ করলেন, তা ছিল, ‘হে লোকসকল, তোমরা ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান করো, সমাজে সালামের ব্যাপক প্রসার ঘটাও, আত্মীয়তার বন্ধন সুদৃঢ় রাখো এবং রাতে মানুষ যখন গভীর ঘুমে নিমগ্ন থাকে তখন নামাজ (তাহাজ্জুদ) আদায় করো; তবেই তোমরা পরম শান্তিতে বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৪৮৫)সংক্ষিপ্ত এই ভাষণে এই বার্তা কেন দিলেন, বিশদ আলোচনা করা হলো।.একটি সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক পূর্বশর্ত হলো মানুষের মৌলিক চাহিদার নিশ্চয়তা বিধান করা। পেটে ক্ষুধা রেখে কোনো জাতি উন্নত সংস্কৃতি কিংবা নৈতিকতার চর্চা করতে পারে না।নবীজি (সা.) খুব ভালো করেই জানতেন যে, অভাব ও ক্ষুধা দূর না হলে কোনো রাষ্ট্রেই অপরাধ ও সংঘাত বন্ধ করা সম্ভব নয়।.হে লোকসকল, তোমরা ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান করো, সমাজে সালামের ব্যাপক প্রসার ঘটাও, আত্মীয়তার বন্ধন সুদৃঢ় রাখো এবং রাতে মানুষ যখন গভীর ঘুমে নিমগ্ন থাকে তখন নামাজ (তাহাজ্জুদ) আদায় করো; তবেই তোমরা পরম শান্তিতে বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে।সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৪৮৫.নবীজি কেন প্রশ্ন করতে এত উৎসাহ দিয়েছেন.মহানবী (সা.) অন্নসংস্থানকে কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় হিসেবে দেখেননি; বরং একে সামাজিক সুরক্ষার ভিত্তি বানিয়েছেন। শিখিয়েছেন, যেকোনো উপায়ে সমাজের কোনো মানুষ যেন অনাহারে না থাকে, তা নিশ্চিত করাই একটি ইনসাফপূর্ণ রাষ্ট্রের প্রথম পদক্ষেপ।.রাস্তাঘাটে চলাচলের সময়, কর্মস্থলে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কিংবা যেকোনো সামাজিক মিলনে পরিচিত-অপরিচিত নির্বিশেষে একে অপরকে আন্তরিকভাবে অভিবাদন জানানো পারস্পরিক হৃদ্যতা তৈরির সেরা মাধ্যম। অজ্ঞতা ও দূরত্ব থেকেই জন্ম নেয় ভয় এবং সেই ভয় পরবর্তীতে রূপ নেয় বিদ্বেষে।ইসলামি সম্ভাষণ ‘আসসালামু আলাইকুম’ নিছক কোনো আনুষ্ঠানিক শব্দ নয়; এটি হলো মহান আল্লাহর পবিত্র গুণবাচক নাম ‘আস-সালাম’-এর মাধ্যমে অপর ভাইয়ের নিরাপত্তা ও শান্তি কামনা করা। যখন একজন মানুষ অন্যজনকে বলে—‘আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক’, তখন তা দুজনের মাঝে আস্থার সেতুবন্ধন তৈরি করে।.পরিবার হলো যেকোনো সুস্থ সমাজের ক্ষুদ্রতম অথচ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একক। একটি পরিবার যখন ভাঙনের মুখে পড়ে, আত্মীয়-স্বজনের যোগাযোগ যখন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তখন মানুষ নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ে এবং সামাজিক সুরক্ষাবলয় ভেঙে যায়।.মহানবী (সা.)-এর ক্ষমা প্রার্থনার অর্থ কী.রাতের আঁধারে চোখের পানি ফেলে যে মানুষ নিজের অহংকার বিসর্জন দেয়, দিনের আলোয় সে-ই মানুষের কল্যাণে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করার অদম্য প্রেরণা খুঁজে পায়।.প্রিয় নবী (সা.) রক্তের সম্পর্ক রক্ষা করাকে শুধু নৈতিক দায়িত্ব হিসেবেই দেখেননি, বরং এটিকে সামাজিক ঐক্যের চাবিকাঠি বানিয়েছেন। নিয়মিত আত্মীয়-স্বজনের খোঁজখবর নেওয়া, দূরবর্তী স্বজনদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের সুখ-দুঃখে অংশীদার হওয়া সমাজের পারিবারিক মেলবন্ধনকে অক্ষুণ্ণ রাখে।.সামাজিক দায়িত্ব পালনের তিনটি বাস্তবমুখী নির্দেশের সঙ্গে নবীজি (সা.) যুক্ত করেছেন একটি আত্মিক আমল—‘রাতে মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে, তখন নামাজ আদায় করো।’ বাহ্যিক সমাজসেবা ও দানশীলতা মানুষকে অনেক সময় অহংকারী বা ক্লান্ত করে ফেলতে পারে।কিন্তু রাতের নিভৃতে পরম স্রষ্টার সঙ্গে একান্তে কথোপকথন বান্দার অন্তরে এক সঞ্জীবনী শক্তি জোগায়।রাতের আঁধারে চোখের পানি ফেলে যে মানুষ নিজের অহংকার বিসর্জন দেয়, দিনের আলোয় সে-ই মানুষের কল্যাণে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করার অদম্য প্রেরণা খুঁজে পায়। আত্মিক সংযোগ ছাড়া শুধু বৈষয়িক সমাজসেবা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।.মক্কা থেকে মদিনা: কালজয়ী হিজরতের বীরত্বগাথা

Source: https://www.prothomalo.com/religion/islam/tban83fg8a

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ক্যান্টনমেন্ট থানার সেই ওসিকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে

জেলা জজ বা সমপর্যায়ের ৪০ জনসহ ৯৯ বিচারককে বদলি-পদায়ন

সমালোচনার মুখে ‘অচেনা’ তিন প্রবাসীকে উপদেষ্টা করার সিদ্ধান্ত স্থগিত

সরকারকেই পরিষ্কার করতে হবে তারা মালয়েশিয়া সিন্ডিকেটে জড়িত নয়: জামায়াত আমির

এল ম্যাগাজিনের কভার গার্ল থেকে গ্ল্যামার নিয়ে নতুন বিতর্কে দিশা পাটানি

সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ডেঙ্গুর শঙ্কা, এডিস নিয়ন্ত্রণে করণীয় কী

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তবিভাগ ফুটবল খেলায় দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ

প্রার্থিতা জানান দিতে কয়েক শ মোটরসাইকেল নিয়ে শোডাউন, তিন হাজার মানুষের ভূরিভোজ

ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত হতে যাচ্ছে ওয়াও মার্কেট।

ইরানের স্কুলে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল, বলছে জাতিসংঘ

১০

পারিবারিক কলহের জেরে ছেলেকে হত্যার অভিযোগ, মা আটক

১১

মোহাম্মদপুরে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মোটরসাইকেল ও টাকা ছিনতাই

১২

অদৃশ্য জীবাণু, দৃশ্যমান অবদান: মাইক্রোবায়োলজিস্টদের গল্প

১৩

এনসিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে

১৪

বাংলাদেশিদের জন্য নতুন ওয়ার্ক পারমিট ও শ্রমভিসা বন্ধ করল লাওস

১৫

আদালতে চুক্তিপত্র দেখিয়ে জামিন, পরে বেরিয়ে এল জালিয়াতির তথ্য

১৬

নেপাল–তিব্বতের প্রাণঘাতী বন্যার পেছনে জলবায়ু সংকট, ধারণা গবেষকদের

১৭

যুক্তরাজ্য–ইসরায়েল মুখোমুখি, পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞা—আন্তর্জাতিক চাপে কি নেতানিয়াহু

১৮

ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে টাকা নেওয়ার ঘটনায় এনসিপি নেত্রীকে সাময়িক অব্যাহতি

১৯

যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সমন্বিত আইন প্রয়োজন

২০