স্টাফ রিপোর্টার | ঢাকা
রাজধানীর ডিএমপি পুলিশের ওয়ারী বিভাগের অধীন যাত্রাবাড়ী থানার দক্ষিণ সায়েদাবাদ এলাকা—দিনের আলোয় ব্যস্ত জনপদ, কিন্তু রাত নামলেই বদলে যায় চিত্র। অভিযোগ উঠেছে, মীর সিরামিক্স ভবনের ঠিক পেছনে শাহীন মিয়ার বাড়ির দ্বিতীয় তলায় দীর্ঘদিন ধরে চলছে সংঘবদ্ধ জুয়া ও মাদক কারবার।
অনুসন্ধানে জানা যায়, দক্ষিণ সায়েদাবাদের মীর সিরামিক্স ভবনের পেছনে শাহীন মিয়ার বাড়ির দ্বিতীয় তলা যেন একটি অদৃশ্য কারখানা। অভিযোগ অনুযায়ী, সকাল থেকেই শুরু হয় প্রস্তুতি—ঘর গোছানো, টেবিল সাজানো, মাদক মজুত। দিনের আলোয় জানালা বন্ধ, দরজা আধা খোলা—সবই নিঃশব্দ।
বিকেল গড়াতেই বদলে যায় দৃশ্য। একে একে ঢুকতে থাকে অপরিচিত মুখ। সন্ধ্যার পর দরজা বন্ধ হলে ভেতরে শুরু হয় তাসের ঠকঠক শব্দ, জুয়ার টাকার বান্ডিলের হিসাব আর মাদকের ঝাঁঝালো গন্ধ।
রাত গভীর হলে চিত্র আরও ভয়াবহ। অভিযোগ আছে, তখনই পুরো নিয়ন্ত্রণ নেয় রব ও বাচ্চু গং। আন্ডার বাহার, তাসের আসর, মাদক সেবন—সব চলে একসাথে। গভীর রাত পর্যন্ত চলে এই ‘অন্ধকার বাণিজ্য’, যেন আইন এখানে কেবল দূরের দর্শক।
ভোরের আগেই আবার নীরবতা। সব প্রমাণ গুটিয়ে ফেলা হয়, দরজা বন্ধ, জানালা আঁটসাঁট। সকাল হলে এলাকাবাসীর চোখে পড়ে শুধু একটি সাধারণ বাড়ি—কিন্তু ভেতরে লুকিয়ে থাকে রাতভর চলা অপরাধের ছাপ।
প্রশ্ন একটাই:
যাত্রাবাড়ী থানার নাকের ডগায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলা এই অভিযোগের দায় নেবে কে ?
এদিকে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, রব ও বাচ্চু গং নামের একটি চক্র ওই ভবনের দ্বিতীয় তলা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে আন্ডার বাহার, তাস, জুয়া এবং মাদক সেবন ও বেচাকেনা চলে প্রকাশ্যেই।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর বাইরের লোকজন ভিড় জমাতে থাকে শাহীন মিয়ার বাড়ির ২য়তলায় । দরজা বন্ধ থাকলেও ভেতর থেকে উচ্চস্বরে চিৎকার, জুয়ার টাকার দর কষাকষি এবং মাদক সেবনের দৃশ্য স্পষ্ট বোঝা যায়। অভিযোগ আছে, এই চক্রের সঙ্গে যুক্তদের অনেকেই পেশাদার জুয়াড়ি ও মাদক কারবারি।
এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
> “আমরা পরিবার নিয়ে আতঙ্কে থাকি। রাত হলেই এলাকায় অচেনা লোকের আনাগোনা বেড়ে যায়। কিছু বললে হুমকি দেয়।”
❓ যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ—এতসব কর্মকাণ্ড চললেও যাত্রাবাড়ী থানার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কার্যকর কোনো অভিযান চোখে পড়ছে না।।এলাকাবাসীর প্রশ্ন, যাত্রাবাড়ী থানার নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারির মাঝেই কীভাবে এমন অবৈধ কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন ধরে চলতে পারে?
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে শুধু পরিচালনাকারীরাই নয়, বাড়ির মালিক ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
📢 স্থানীয় এলাকাবাসী প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন –
এলাকাবাসী দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের আহ্বান—ডিএমপি কমিশনার, ওয়ারী বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যেন অবিলম্বে বিষয়টি খতিয়ে দেখে অভিযান পরিচালনা করেন।
এবিষয়ে যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মুঠো ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এমন কোন কিছু হলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এমনটাই জানান তিনি।
মন্তব্য করুন