বাড্ডা থানা শ্রমিক দলের সভাপতি পরিচয়দাতা পরিচয়ে চলছে ক্যাসিনো জুয়ার আসর—ভাটারা থানা পুলিশের নীরবতা ঘিরে বাড়ছে জনমনে প্রশ্ন ?
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকার কমিশনার রোড—দিনে সাধারণ এক ব্যস্ত এলাকা, কিন্তু সন্ধ্যা নামলেই যেন পাল্টে যায় পুরো দৃশ্যপট। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আইডিয়াল মাদ্রাসার বিপরীতে ‘জুয়েল মিয়ার বাড়ির’ নিচতলায় প্রতিদিন বসছে ‘আন্দার বাহার’ নামের ক্যাসিনো জুয়ার আসর, যা দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি আর গোপন নয়—বরং “ওপেন সিক্রেট”। প্রশ্ন একটাই—ভাটারা থানা পুলিশ জানে, কিন্তু কিন্তু নিচ্ছে না আইনগত ব্যবস্থা ?
কমিশনার রোড সন্ধ্যা নামলেই বদলে যায় পরিবেশ ?
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ওই স্থানে অস্বাভাবিক ভিড় লক্ষ্য করা যায়। গভীর রাত পর্যন্ত চলে টাকার লেনদেন, জুয়ার আসর আর রহস্যময় যাতায়াত।
> “দিনে কিছু বোঝা যায় না, কিন্তু সন্ধ্যার পরেই অন্য চেহারা। এখানে কি হয়, সেটা সবাই জানে,”— নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা
আরেকজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
> “আমরা পরিবার নিয়ে থাকি। কিন্তু প্রতিদিন এই পরিবেশ দেখে আতঙ্কে থাকি।”
❗ নীরবতা—কাকতালীয়, নাকি ইচ্ছাকৃত?
সবচেয়ে বিতর্কিত অভিযোগটি উঠেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ঘিরে। কিছু বাসিন্দার দাবি, ভাটারা থানা পুলিশ সদস্যদের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে চক্রটির সদস্য ক্যাসিনো আমানের সাথে ।
তাদের ভাষ্য, > “কখনো কখনো ভাটারা থানা পুলিশের সদস্যরা আসে, অর্থ নিয়ে আবার চলে যায়। এরপর সবকিছু আগের মতোই চলতে থাকে। এটা কীভাবে সম্ভব?”
যাদের ছত্রছায়ায় চলছে ভাটারা কমিশনার রোড এই জুয়ার আসর !
এলাকাবাসীর অভিযোগ অনুযায়ী, এই অবৈধ জুয়ার আসরের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন বাড্ডা থানার শ্রমিক দলের সভাপতি পরিচয়দাতা আমান ওরফে ক্যাসিনো আমান উল্লাহ এছাড়াও স্থানীয়দের ভাষ্য—এই ‘ক্যাসিনো আমান’ নিজেকে ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জের বন্ধু হিসেবে পরিচয় দিয়ে ক্যাসিনো জুয়ার আসর চালিয়ে আসছে আর প্রতিবাদ করলেই হামলা মামলার হুমকি দিয়ে আসে নিজেকে ভাটারা থানার ওসির বন্ধু পরিচয়দাতা আমান!
স্থানীয়দের প্রশ্ন—
কেন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা যাচ্ছে না এই অবৈধ কার্যক্রম?এর পেছনে কি কোনো অদৃশ্য শক্তির প্রভাব রয়েছে?এসকল জুয়ার বিস্তারে সামাজিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ছে
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের জুয়ার আসর সমাজে বহুমাত্রিক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
তরুণ সমাজ দ্রুত জড়িয়ে পড়ছে যেমন মাদক, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ বাড়ার আশঙ্কা এবং পারিবারিক ও সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পাবে। এছাড়াও আরো বলেন,“আন্দার বাহার” নামের এই জুয়ার আসর এখন শুধুমাত্র একটি অবৈধ খেলা নয়—এটি একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের প্রতিচ্ছবি, যেখানে আইনের উপস্থিতি নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন সত্যিই কঠোর অবস্থান নেয় কিনা, নাকি আগের মতোই হচ্ছে কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
এলাকাবাসীর ভাটারা থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন?
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভাটারা থানা পুলিশ স্বৈরাচারী সরকারের সময় যেমন ছিল ঠিক সেই রুপে ফিরে আসছে তাই তাদের নিরবতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে!
স্থানীয় এলাকাবাসীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“আমাদের বাসার পাশে প্রতিদিন এমন অবৈধ কাজ চলবে, আর আমরা কিছুই করতে পারব না—এটা হতে পারে না।”
তাদের প্রধান দাবিগুলো হলো—
* অবিলম্বে জুয়ার আসর সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে
* জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে
* সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে
ভাটারা থানা এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন ?
রাজধানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এভাবে অবৈধ জুয়ার আসর চলতে থাকা শুধু আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি নয়, এটি প্রশাসনিক তদারকির দুর্বলতাকেও সামনে নিয়ে এসেছে।
এবিষয়ে ভাটারা থানার অফিসার ইনচার্জের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি।
মন্তব্য করুন