নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা মিরপুর ১১। দিনের বেলায় যেখানে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার চিত্র, সন্ধ্যা নামলেই যেন বদলে যায় দৃশ্যপট। পল্লবী থানাধীন নাভানা টাওয়ার সংলগ্ন রোড নং ১২, ব্লক-বি—এই এলাকাটি এখন স্থানীয়দের কাছে পরিচিত এক ভয়ের নামে—“জাহিদের মাদক স্পট”।
সংবাদ বিডি অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, জাহিদ মিয়া নামে এক ব্যক্তি, যিনি অতীতে স্বেচ্ছাচারী আওয়ামী সরকারের ইউনিটের নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছেন। ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকার পতনের পর অনেকেই যখন আত্মগোপনে গেছেন বা থেমে গেছেন, তখন জাহিদ যেন উল্টো আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন থেমে নেই তার মাদকের স্পট ?
স্থানীয়দের অভিযোগ,
“দিনের বেলা চুপচাপ থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকেই এখানে শুরু হয় মাদক বেচাকেনা। ইয়াবা, বাংলা মদ—সবকিছুই পাওয়া যায়। আশেপাশের তরুণরা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।”
আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো—মাদক ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে জাহিদ এখন নতুন কৌশল অবলম্বন করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দকে নিয়ে নিয়মিত পোস্ট করছেন শেয়ার করেছেন তিনি। অনেকের মতে, ক্ষমতাশালীন দলের পক্ষের লোক এটি এক ধরনের চাপ সৃষ্টি বা প্রভাব খাটানোর কৌশল, যাতে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারেন।
সন্ধ্যা হলেই নাভানা টাওয়ারের পাশের ওই রাস্তায় দেখা যায় অচেনা লোকজনের আনাগোনা, মোটরসাইকেলের শব্দ, ফিসফিস লেনদেন—সব মিলিয়ে এক অস্বস্তিকর পরিবেশ। স্থানীয় অভিভাবকরা সন্তানদের নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন।

একজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“আমরা বারবার বলছি, কিন্তু কেউ শুনছে না। এখানে একটা বড় চক্র কাজ করছে। জাহিদ একা না—তার পেছনে আরও শক্তিশালী লোকজন আছে বলেই মনে হয়।”
প্রশ্ন উঠছে—
কিভাবে এতদিন ধরে প্রকাশ্যে এমন একটি মাদক স্পট পরিচালিত হচ্ছে ? কারা দিচ্ছে এই সাহস ? প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে, নাকি কারও অদৃশ্য ছত্রছায়ায় ?
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে এই মাদক সিন্ডিকেট ভেঙে দিক এবং জাহিদ মিয়াকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
আর না হলে, মিরপুরের এই অংশটি খুব শিগগিরই পরিণত হতে পারে একটি পূর্ণাঙ্গ মাদক হাবে—যার ভয়াবহ প্রভাব পড়বে পুরো যুবসমাজে।
এবিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন মাদকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশ জিরো টলারেন্স দির্ঘ অসস্তি পরিবেশ থেকে আমরা পরিবেশের দিকে ফিরেছি সবে মাত্র আমাদের নিয়মিত মাদককের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা তবে বিষয়টি আমি নোট করে রাখছি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার আশ্বাস দেন।
(চলবে — অনুসন্ধান অব্যাহত)
মন্তব্য করুন