নিজস্ব প্রতিবেদক | সংবাদ বিডি
ভরদুপুর মাথার উপর গনগনে রোদ, চারিদিকে কোলারহ মানুষের প্রচণ্ড ভিড় মিরপুর ১নম্বর শাহ্ আলী থানা এলাকার মুক্তাগাছা শপিং কমপ্লেক্সের নিচতলায় মানুষ যখন কেনাকাটায় ব্যস্ত, তখন ঠিক মাথার ওপর চতুর্থ ও পঞ্চম তলায় চলছে এক করুণ আর্তনাদ। সেখানে ‘হোটেল গার্ডেন ভিউ’ নামের আবাসিক হোটেলের প্রতিটি কক্ষ যেন এক একটি অন্ধকার কারাগার। আর এই নরক সাম্রাজ্যের মুকুটহীন সম্রাট— আজাদ ওরফে কদু আজাদ।
দিনের আলোতে এটি একটি সাধারণ বাণিজ্যিক ভবন মনে হলেও, এর ৪র্থ ও ৫ম তলায় অবস্থিত ‘হোটেল গার্ডেন ভিউ (আবাসিক)’ লুকিয়ে আছে এক ভয়াবহ অন্ধকার জগৎ। অভিযোগ উঠেছে, এই হোটেলের আড়ালেই চলছে তরুণীদের ব্ল্যাকমেইল করে দেহব্যবসায় বাধ্য করার এক বিশাল সিন্ডিকেট।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই পুরো অপকর্মের নাটের গুরু আজাদ ওরফে কদু আজাদ। তার রয়েছে একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেট চক্র। এই চক্রের সদস্যরা মূলত টার্গেট করে ঢাকার বাইরের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল এবং ঢাকার কর্মজীবী গার্মেন্টস কর্মীদের। সুন্দরী ও অভাবী তরুণীদের খুঁজে বের করাই তাদের প্রধান কাজ। কদু আজাদের সিন্ডিকেটের সদস্যরা ঘুরে বেড়ায় ‘ভদ্রলোক’ সেজে। তাদের চোখে চশমা, মুখে মধু। টার্গেট— সুন্দরী গার্মেন্টস কর্মী বা অভাবী গ্রামীণ তরুণী। প্রথমে শুরু হয় প্রেমের প্রস্তাবে কাজ না হলে শুরু হয় মিথ্যে স্বপ্নের ফেরি করা।
“ঢাকায় বড় চাকরি, থাকা-খাওয়া ফ্রি, মাসে ২০ হাজার টাকা বেতন”—এই এক প্রলোভনে যখন কোনো তরুণী ঢাকার বাসে ওঠে, তখনই সে তার জীবনের শেষ স্বাধীন নিশ্বাসটি নেয়।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, প্রথমেই নিয়ে আসে মিরপুর ১ নং মুক্তাগাছা শপিং কমপ্লেক্সের লিফটে উঠে যখন তরুণীটি চতুর্থ বা পঞ্চম তলায় গার্ডেন ভিউ-এ পা রাখে, তখনো সে জানে না পেছনে লিফটের দরজা বন্ধ হওয়ার সাথে সাথে তার ফেরার পথও বন্ধ হয়ে গেছে। হোটেল গার্ডেন ভিউ-এর কোনো একটি কক্ষে তাকে বসিয়ে দেওয়া হয় রঙিন পানীয়। তাতে মেশানো থাকে কড়া ঘুমের ওষুধ। এরপর যখন তার চেতনা ফিরে আসে, তখন সে আর আগের সেই মেয়েটি নেই। ফোনের স্ক্রিনে তাকে দেখানো হয় তার নিজেরই কিছু অশালীন ও আপত্তিকর ভিডিও চিত্র।
ঠিক সেই সময়েই প্রবেশ ঘটে খলনায়ক কদু আজাদের চক্রের সদস্যদের। সে ঠান্ডা গলায় বলে—”চুপচাপ যা বলি করবি। চিৎকার করলে এই ভিডিও ইন্টারনেটে যাবে। তোর বাপ-মা গলায় দড়ি দেবে, গ্রামে মুখ দেখাতে পারবি না।”
অসহায় মেয়েটি ডুকরে কেঁদে ওঠে। কিন্তু এই চার দেয়ালের বাইরে সেই কান্না পৌঁছায় না। ভিডিওর সেই ফাঁস গলায় নিয়ে তিল তিল করে শেষ হয়ে যায় শত শত তরুণীর সম্মান। তারা বাধ্য হয় দেহব্যবসায় নামতে। কদু আজাদের সিন্ডিকেট প্রতিটি মেয়েকে ব্যবহার করে টাকা কামায়, আর বিনিময়ে মেয়েরা পায় শুধু লাঞ্ছনা।
এভাবেই একের পর এক তরুণীকে নিয়ে যাওয়া হয় মিরপুর-১ এলাকার মুক্তাগাছা শপিং কমপ্লেক্সের লিফটের ৪র্থ ও ৫ম তলায় অবস্থিত ‘হোটেল গার্ডেন ভিউ (আবাসিক)’-এ।

সেখানে নাকি প্রতিদিন চলছে এই অবৈধ কার্যক্রম—অভিযোগ অনুযায়ী, নতুন নতুন তরুণীদের এনে বাধ্য করা হচ্ছে যৌন পেশায় যুক্ত হতে।
নীরব আতঙ্কে স্থানীয় এলাকাবাসী.…..
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকলেও প্রকাশ্যে কিছু বলতে সাহস পাচ্ছেন না।
কারণ হিসেবে উঠে এসেছে—প্রতিবাদ করলেই
প্রভাবশালী চক্রের ভয় হুমকি ও হয়রানি !
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় কিছু সদস্য বিষয়টি জেনেও কিছু জানেন না এমনটাই অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ফলে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ?
এমন গুরুতর অভিযোগের পরও কেন এখনো দৃশ্যমান কোনো অভিযান নেই—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা।
👉 এই চক্রের পেছনে কারা রয়েছে?
👉 কীভাবে এতদিন ধরে এ ধরনের কার্যক্রম চলতে পারছে?
👉 সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কি বিষয়টি জানে না, নাকি উপেক্ষা করছে?
এই প্রশ্নগুলো এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন মহল।
এসকল বিষয় নিয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার তিনি পুরো বিষয়টি হোয়াটসঅ্যাপ ম্যাসেজ করতে বলেন প্রতিবেদক বিস্তারিত পাঠিয়ে দেন ।
আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া যে কোনো ঘটনা আমাদের জানাতে পারেন।
ই-মেইল- public@sangbadbd24.com
হটলাইন- +880 9678 754024
মন্তব্য করুন