নিজস্ব প্রতিবেদক | সংবাদ বিডি ২৪
দিনের আলো ফুরিয়ে সন্ধ্যা নামলেই যেন বদলে যায় রাজধানীর ডেমরা থানাধীন পূর্ব বক্সনগরের একটি অংশের চিত্র। সাধারণ মানুষের কোলাহলের আড়ালে সক্রিয় হয়ে ওঠে এক অদৃশ্য নেটওয়ার্ক— এমনটাই অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
বক্সনগরের অলিগলিতে মাদক ব্যবসার অভিযোগ নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। তবে প্রশ্ন একটাই— যদি অভিযোগগুলো সত্য হয়, তাহলে এতদিন ধরে কীভাবে টিকে আছে এই নেটওয়ার্ক ?
একটি সংঘবদ্ধ চক্রের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। তাদের দাবি, প্রতিবাদ করলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার; বরং বাড়ছে ভয় ও শঙ্কা।
সংবাদ বিডি ২৪-এর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে,পূর্ব বক্সনগরের পরিচিত “পাঠাওয়ালা বাড়ি” কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এই ব্যবসার নেতৃত্বে রয়েছেন কথিত মাদক সম্রাজ্ঞী ও মক্ষীরানী ক্ষ্যাত মাহমুদা।
অভিযোগ রয়েছে, তার ছোট ভাই বাবুসহ কয়েকজন সহযোগী মিলে এলাকাজুড়ে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন।
স্থানীয়দের দাবি, মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে কিশোরদের। অল্প বয়সী এসব ছেলেদের কেউ নজরদারি, কেউ সরবরাহকারী আবার কেউ ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের দায়িত্ব পালন করে থাকে বলে অভিযোগ উঠেছে।
একজন প্রবীণ বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,”আমরা আমাদের সন্তানদের নিয়ে আতঙ্কে থাকি। কে কখন কোন খারাপ পথে জড়িয়ে পড়বে, সেই দুশ্চিন্তায় দিন কাটে।”
আরেক বাসিন্দার ভাষায়,”এলাকার পরিবেশ আগের মতো নেই। মাদকের কারণে পরিবারগুলো অশান্ত হয়ে পড়ছে। আমরা প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ চাই।”
অনুসন্ধানে আরও গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। কিছু স্থানীয় সূত্রের দাবি, মাদকের এই বিস্তারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে সমাজের ঝুঁকিপূর্ণ কিছু কিশোর-কিশোরীও। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রশ্ন উঠেছে— যদি দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ্যে অভিযোগ করে আসেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে বিষয়টি কতটা এসেছে? অভিযোগগুলো তদন্তে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? আর যদি অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে কারা এর পেছনে মদদদাতা?
বক্সনগরের অনেক বাসিন্দার প্রত্যাশা, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার অভিযোগ উঠলে তা শুধু ব্যক্তি পর্যায়ের বিষয় নয়; বরং সামাজিক, প্রশাসনিক ও আইনগত বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। তাই নিরপেক্ষ অনুসন্ধান ও তথ্যভিত্তিক তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যে প্রশ্নগুলো খুঁজছে পূর্ব বক্সনগর এলাকাবাসী :::::::?
* সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশিত অভিযোগগুলো কি তদন্ত করা হয়েছে?
* অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে?
* কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের অভিযোগ কতটা সত্য?
* সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল কি না?
* সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে?
এদিকে বিষয়টি নিয়ে মাদক সম্রাজ্ঞী মাহমুদা”র সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এবিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটনের পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মুঠোফোনে সংবাদ বিডি কে জানান মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স আমাদের নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে তবে এমন কিছু হয়ে থাকলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন