স্বাস্থ্যসচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে জাতীয় পর্যায়ে যাত্রা শুরু করল ‘হাইজিন ফর হেলথ বাংলাদেশ’। মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের এই উদ্যোগে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
, একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার প্ল্যাটফর্ম কি জনস্বাস্থ্য নিয়ে জাতীয় সচেতনতা গড়ে তুলতে পারে? বাংলাদেশে সেই প্রশ্নের নতুন উত্তর খুঁজতে শুরু হয়েছে ‘হাইজিন ফর হেলথ বাংলাদেশ’। গুলশান সোসাইটির সহযোগিতায় শুরু হওয়া এই উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসচেতনতা নিয়ে দেশব্যাপী প্রচারণা চালাবে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ। আর এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো কোনো সরকারি মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের একটি সামাজিক উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হলো।
, এবারের মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০২৬ সামানজার সাঈদ তাঁর জাতীয় অ্যাডভোকেসি প্রকল্প হিসেবে এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দেবেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের সম্পৃক্ত করে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং প্রতিরোধযোগ্য রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোই হবে কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
, অনুষ্ঠানে আজরা মাহমুদ ট্যালেন্ট ক্যাম্প (এএমটিসি)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের জাতীয় পরিচালক আজরা মাহমুদ বলেন, ‘বিউটি উইথ আ পারপাস’ কেবল একটি প্রতিযোগিতার স্লোগান নয়, এটি মিস ওয়ার্ল্ডের মূল দর্শন। আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিযোগীরা শুধু নিজেদের নয়, নিজেদের দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, মূল্যবোধ ও সামাজিক বাস্তবতাকেও তুলে ধরেন। তাই একজন বিজয়ী শুধু একটি মুকুটের অধিকারী হন না; তিনি হয়ে ওঠেন সামাজিক পরিবর্তনের একজন প্রতিনিধি।
, সামানজার সাঈদ বলেন, মিস ওয়ার্ল্ডের মঞ্চে প্রতিযোগীরা শুধু একটি দেশের সৌন্দর্য নয়, বরং সেই দেশের গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক চ্যালেঞ্জগুলোকেও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধির বিষয়গুলো আমরা জানলেও দৈনন্দিন জীবনে অনেক সময় তা অনুসরণ করি না। যেখানে-সেখানে বর্জ্য ও প্লাস্টিক ফেলা, নিরাপদ স্বাস্থ্যচর্চাকে অবহেলা করা কিংবা পরিচ্ছন্নতার অভাব—এসব কারণে নানা প্রতিরোধযোগ্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়।
, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, বিষয়টি সাধারণ মনে হলেও বাস্তবে অসংখ্য মানুষ এখনো স্বাস্থ্যবিধির মৌলিক বিষয়গুলো মেনে চলেন না। তাই এই উদ্যোগে বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থাও সম্পৃক্ত হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
, এই উদ্যোগের অংশীদার হিসেবে রয়েছে গুলশান সোসাইটি, চিটাগং গ্রামার স্কুল, ড্যাফোডিল স্কুল, মা হাদ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ডিউক অব এডিনবরা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড বাংলাদেশ, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, ফ্রেন্ডশিপ, গ্লেনরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, বাংলাদেশ উইমেন স্পোর্টস ফেডারেশন, ইন্টারন্যাশনাল হোপ স্কুল বাংলাদেশ, স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেড ও এর হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন, আমিশে, এএমটিসি, পারসোনা, র্যাডিসন ব্লু, ভি-ফ্রেম, সিনে স্কাল্পচার এবং কনকর্ড গার্মেন্টস গ্রুপ।
, অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে অতিথিরা প্রতীকীভাবে পায়রা ও পরিবেশবান্ধব বেলুন উড়িয়ে ‘হাইজিন ফর হেলথ বাংলাদেশ’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে ডিজিটাল বাটনে ক্লিকের মাধ্যমে শুরু হয় দেশব্যাপী স্বেচ্ছাসেবক নিবন্ধন কার্যক্রম। এই স্বেচ্ছাসেবকেরা ‘অ্যাম্বাসেডরস ফর চেঞ্জ’ হিসেবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাস্থ্যসচেতনতা ছড়িয়ে দিতে কাজ করবেন।
Source: https://www.haal.fashion/arrangement/event/euww2t27pl
মন্তব্য করুন