২৫ আগস্ট ২০২৬, ২:০০ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

ইরানকে একঘরে করার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

কোনো দেশ ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করলে তারাও নিষেধাজ্ঞার আওতায়: স্কট বেসেন্টইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে গুরুত্ব দিচ্ছে না: বাঘের গালিবাফ.ইরানের অর্থনীতিকে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সোমবার ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ইরানের তেলসহ আয়ের সব উৎস লক্ষ্য করে এসব বিধিনিষেধ কার্যকর করা হবে। বিশ্বের অন্য কোনো দেশ ও কোম্পানি যাতে তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই এসব বিধিনিষেধের উদ্দেশ্য।ওয়াশিংটনের বিধিনিষেধ প্রত্যাখ্যান করে তেহরান বলেছে, ইরানের সঙ্গে অন্য দেশগুলোর সম্পর্ক সীমিত করার মতো অর্থনৈতিক অবস্থানে নেই যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দাবি করেন, তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছে না।.মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের ফোন করে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য ‘সুনির্দিষ্টভাবে অনুরোধ’ জানাচ্ছেন।.সংবাদ সম্মেলনে বেসেন্ট বলেন, ইরানের ‘এই স্বৈরাচারী শাসনকে টিকিয়ে রাখে এমন প্রতিটি অর্থনৈতিক “লাইফলাইন” বিচ্ছিন্ন করাই আমাদের লক্ষ্য। যতক্ষণ না তেহরান একা হয়ে পড়ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের পদক্ষেপ চলবে।’যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে তেল কেনাবেচা ও বাণিজ্য করে, তাদের তা বন্ধ করতে সতর্ক করেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্যমতে, দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যেকোনো একটি পক্ষকে বেছে নিতে হবে।.‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ইরানের বিরুদ্ধে ঘোষিত যুক্তরাষ্ট্রের বিধিনিষেধের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ বা অর্থনৈতিকভাবে একঘরে করার অভিযান। বেসেন্ট এটিকে ‘অর্থনৈতিক ডি–ডে’ বলেও মন্তব্য করেছেন। ডি–ডে বলতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪৪ সালে ফ্রান্সের নরম্যান্ডি উপকূলে মিত্রবাহিনীর বড় আকারের সামরিক অবতরণকে বোঝায়। ইরানের বিরুদ্ধে ঘোষিত অর্থনৈতিক কর্মসূচিতে ‘ডি–ডে’ বলার মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মিত্রবাহিনীর অভিযানের তুলনা টানা হয়েছে।.বেসেন্ট বলেন, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে। সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা বলতে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশের সঙ্গে ব্যবসা করা তৃতীয় দেশের ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংকের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়াকে বোঝানো হয়।অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্টের আওতায় ইরানের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ‘লাইফলাইন’ লক্ষ্য করা হবে। এগুলো হলো ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, সোনা, বিমান চলাচল ও নৌপরিবহন।.ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দাবি করেন, তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছে না।.বিশ্বনেতাদের ট্রাম্পের ফোনকলবেসেন্ট বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের ফোন করে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য ‘সুনির্দিষ্টভাবে অনুরোধ’ জানাচ্ছেন। তবে ট্রাম্প কোন কোন নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন, তা জানাননি বেসেন্ট।চীনের ব্যাংকগুলোকে কেন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রাখা হয়নি, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বেসেন্ট বলেন, ‘কেউই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে নয়।’ তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।.তেহরানে আসিম মুনিরএমন উত্তেজনাপূর্ণ সময়ে সোমবার একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে তেহরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। তাঁরা ইরানের স্পিকার গালিবাফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

Source: https://www.prothomalo.com/world/usa/0iw16jmqqv

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সকালেই পড়ুন আলোচিত ৫ খবর

১

আলভারেজ না পাজ—আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সি কার

২

ছিনতাইকারীর কবলে এক রাত

৩

মা-বাবাকে নামাজের দাওয়াত যেভাবে দেবেন

৪

আরব দলগুলোর রেকর্ড সাফল্যের পর ‘ভোট চুরির’ অভিযোগ নেতানিয়াহুর দলের

৫

নির্যাতনের কথা জানাতে গভীর রাতে বাবাকে ভিডিও কল, সংযোগ বিচ্ছিন্ন, বাসায় গিয়ে পেলেন মৃত্যুর খবর

৬

নেতানিয়াহুকে সরাতে আরব দলগুলোর সঙ্গে ঐক্যের ডাক গোলানের

৭

বছরের শেষ নাগাদ পণ্যের দাম বাড়তে পারে ২৩ শতাংশ: বিশ্বব্যাংক

৮

পুলিশে সরাসরি এসআই নিয়োগ হবে ৪ হাজার, ৪০০-৫০০ এএসপি নিতে হবে বিশেষ বিসিএস

৯

ইরানে স্বর্ণপামজয়ী নির্মাতাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ

১০

নির্বাচনের আগের দিন বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

১১

চার জুটির চার রকম প্রেম, তিন নতুন মুখের অভিষেক

১২

বেশি বেতনে চীনে চাকরির প্রলোভন, পাচারের জন্য আটকে রেখে ১২ নারীকে নির্যাতন

১৩

ইসরায়েলে ভোট গণনা: নাটকীয়তা বাড়ছে

১৪

ইসির পরীক্ষা হবে আগামীকাল: ১১–দলীয় ঐক্য

১৫

দুই পা হারানো সাখাওয়াতের হাতে হুইলচেয়ার, ঘরে এক মাসের বাজার

১৬

গুলির শব্দ শুনে দৌড়ে গিয়ে দেখেন রক্তে বুক ভিজে যাচ্ছে স্বামীর, হাসপাতালে নিতে নিতে শেষ

১৭

বিজ্ঞান প্রাণহীন বিষয় নয়, বিজ্ঞান থেকে মানবিকতা বিচ্ছিন্ন করা যায় না

১৮

ধীরে এগোচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’

১৯

ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচনে সরকার গঠনে অনিশ্চয়তা, কেউ পাচ্ছে না সংখ্যাগরিষ্ঠতা

২০