ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে রাজবাড়ীতে এক নারী ব্যবসায়ীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার দুপুরে শহরের প্রধান কাপড় বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ। এ ঘটনার একাধিক ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।.অভিযোগকারী ওই নারী ব্যবসায়ীর নাম জাকিয়া সুলতানা। তিনি শহরের কাদেরিয়া মার্কেটের তৃতীয় তলায় ‘আস্থা পোশাক শিল্প’ নামের প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী। তাঁর বাড়ি শহরের বড়পুল এলাকায়।ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারী পুলিশ সদস্যের সঙ্গে হেঁটে যাচ্ছেন জাকিয়া সুলতানা। তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য ছিলেন। পেছনে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি বিক্ষোভ করছিলেন। একপর্যায়ে পাশ থেকে এক যুবক তাঁকে লাথি মারার চেষ্টা করেন। আরেক পাশ থেকে আরেক যুবক লাথি মারেন। একই সময় পেছন থেকে এক ব্যক্তি তাঁকে থাপ্পড় মারেন।.জাকিয়া সুলতানা ২০১২ সাল থেকে তিনি কাদেরিয়া মার্কেটের তৃতীয় তলায় ‘আস্থা পোশাক শিল্প’ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যবসা করছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠানে শাহনাজ পারভীন নামের এক নারী কয়েক মাস আগে কর্মী হিসেবে যোগ দেন। সম্প্রতি তিনি আর কাজ করবেন না বলে জানান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।.জাকিয়া সুলতানা ২০১২ সাল থেকে তিনি কাদেরিয়া মার্কেটের তৃতীয় তলায় ‘আস্থা পোশাক শিল্প’ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যবসা করছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠানে শাহনাজ পারভীন নামের এক নারী কয়েক মাস আগে কর্মী হিসেবে যোগ দেন। সম্প্রতি তিনি আর কাজ করবেন না বলে জানান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। জাকিয়া তাঁকে কাজ শেষ করে নির্ধারিত সময়ে বেতন নেওয়ার কথা বলেন। ২২ আগস্ট বেতন নিয়ে তাঁদের মধ্যে আবার তর্ক হয়।জাকিয়ার দাবি, ২৩ আগস্ট রাতে শাহনাজ পারভীন বহিরাগত কয়েকজনকে নিয়ে তাঁর প্রতিষ্ঠানে গিয়ে এক দিনের মধ্যে বেতন পরিশোধের দাবি করেন। এ নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে তাঁর প্রতিষ্ঠানে হামলা করা হয়। পরদিন তিনি এ ঘটনার বিচার চেয়ে মার্কেট কমিটির কাছে অভিযোগ করেন। তাঁরা তাঁকে আইনগতভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করার পরামর্শ দেন।.রাজবাড়ী বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক বেনজির আহমেদ বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি কাপড় বাজারে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে উভয় পক্ষ বসে বিষয়টির সমাধান করেছে।জাকিয়া আরও বলেন, গত শনিবার দুপুরে তাঁর প্রতিষ্ঠানে হামলার প্রতিবাদে তিনি মানববন্ধন ও মিছিল করেন। এ সময় কয়েকজন ব্যবসায়ী তাঁদের ওপর হামলা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী ও বহিরাগত তাঁকে লাঞ্ছিত করেন।এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি জানিয়ে ওই নারী ব্যবসায়ী বলেন, তিনি মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।এ ঘটনায় কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ করেনি বলে জানান রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ।.নারীকে লাঞ্ছিত করার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নানা রকম দাবি করা হয়। ভিডিওর একটিতে বলা হয়, ‘একজন মহিলা একটা দোকান সম্পর্কে ভোক্তা অধিকারের কাছে অভিযোগ দিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ভোক্তা অধিকার সেখানে গেলে মার্কেটের লোকেরা সেই মহিলার ওপর এভাবেই হামলা করে। পুলিশের সামনে একজন নারীর নিরাপত্তা নাই। কাঁদো নারীরা কাঁদো।’আরেকটি ফেসবুক পেজে ভিডিওটি পোস্ট করে দাবি করা হয়েছে, ‘দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমন যে একজন ম্যাজিস্ট্রেট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গায়ে হাত তুলে কিল–ঘুষি, লাথি মারে ভয়ংকর অপরাধ কেমন চলছে বাংলাদেশ।’তবে এসব দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি।
Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/v617ovmpc1
মন্তব্য করুন