২ অক্টোবর ২০২৬, ৮:০০ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

আবার বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমেছে, দাম বাড়াতে চায় কোম্পানিগুলো

বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ আবার কমেছে। আর লিটারে ২ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম। গত এক সপ্তাহে ফার্মের মুরগির ডিমের দামও কিছুটা বেড়েছে। এ ছাড়া ব্রয়লার মুরগি ও বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম আগের মতোই বেশি দামে স্থিতিশীল রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও কল্যাণপুর নতুন বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, কোম্পানিগুলো কম পরিমাণে বোতলজাত সয়াবিন তেল বাজারে ছাড়ছে। ফলে তাঁরাও ডিলার বা সরবরাহকারীদের কাছ থেকে কম পরিমাণে তেলের সরবরাহ পাচ্ছেন। ডিলাররা তাঁদের জানিয়েছেন, কোম্পানিগুলো তেলের দাম বাড়াতে চায়; এ জন্য তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা দোকানগুলোতে চাহিদা অনুসারে এক, দুই ও পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল পাওয়া যাচ্ছে না। যেমন মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারে গিয়ে অন্তত ছয়টি দোকানে মাত্র চার-পাঁচটি করে সয়াবিন তেলের বোতল পাওয়া গেছে। কোনো কোনো দোকানে এক লিটারের বোতল নেই, কোনোটিতে দুই লিটারের বোতল নেই।.আমার তো বেশি টাকা নাই। যা আয় করি, তা দিয়ে ব্রয়লার মুরগি, ডিম কিনে খেতে পারি। কিন্তু ব্রয়লার মুরগির দাম দুই-তিন মাসেও কমে নাই। আর ডিমের দাম ১৬০ টাকা ডজন হয়ে গেছে।আনসার হোসেন, নিরাপত্তারক্ষী, শেখেরটেক.বিক্রেতারা বলছেন, বোতলজাত সয়াবিনের সরবরাহ একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি, তবে তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। আবার যতটুকু সরবরাহ আছে, তারও সব বিক্রেতারা প্রকাশ্যে রাখছেন না। অনেকে আড়ালে রাখছেন।এর কারণ জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের মুদি বিক্রেতা ইমাম পাটোয়ারি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার দৈনিক প্রায় ১০ কার্টন সয়াবিন তেল লাগে। ডিলারের থেকে পেয়েছি ৪ কার্টন; কিন্তু নিয়মিত গ্রাহকেরা চাইলে তো দিতেই হয়। তাই কিছু বোতল সরিয়ে আলাদা সংরক্ষণ করি।’সাধারণত বোতলজাত সয়াবিনের সরবরাহ–সংকট তৈরি হলে খোলা সয়াবিন তেলের চাহিদা ও দাম বেড়ে যায়। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুসারে, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে লিটার ১৯০-১৯৫ টাকায় উঠেছে। আর খোলা পাম তেলের দাম শূন্য দশমিক ৮৮ শতাংশ বেড়ে ১৭০-১৭৫ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ এ দুই ধরনের খোলা তেলের দাম লিটারে ২ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে।.মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারে গিয়ে অন্তত ছয়টি দোকানে মাত্র চার-পাঁচটি করে সয়াবিন তেলের বোতল পাওয়া গেছে। কোনো কোনো দোকানে এক লিটারের বোতল নেই, কোনোটিতে দুই লিটারের বোতল নেই।.চলতি বছরের শুরুতেই ফেব্রুয়ারি মাসের দিকে বোতলজাত সয়াবিনের সরবরাহ–সংকট শুরু হয়েছিল। এরপর এপ্রিলের শেষ দিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা করা হয়। গত জুলাই মাসের দিকে আবার সরবরাহে সংকট দেখা যায়। পরে ৩ সেপ্টেম্বর ৫ টাকা বাড়িয়ে প্রতি লিটারের দাম নির্ধারণ করা হয় ২০৪ টাকা। এখন আবার তেলের সরবরাহ–সংকট তৈরি হলো। অর্থাৎ এ নিয়ে চলতি বছর তিন দফায় বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ–সংকট তৈরি হলো।দেশে ভোজ্যতেল পরিশোধন ও উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো সয়াবিন তেলের দাম আরেক দফা বাড়াতে চায়। এ নিয়ে গত ২০ সেপ্টেম্বর বাণিজ্যসচিবকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড ভেজিটেবল ফ্যাট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। তবে গত বুধবার সিলেটে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, ব্যবসায়ীরা ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর দাবি জানালেও সরকার বুঝে-শুনে সিদ্ধান্ত নেবে। যাচাই-বাছাইয়ের আগে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হবে না।.বাজারে দুই মাস ধরে ব্রয়লার মুরগির কেজি ২০০ টাকার আশপাশে। বিভিন্ন ধরনের মাছের দামও বাড়তি। গতকাল দুই-আড়াই কেজি ওজনের রুই মাছ প্রতি কেজি ৩৮০-৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০-৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০-২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৫০-২৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।.গত এক সপ্তাহে ডিমের দাম ডজনে প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে। তাতে এক ডজন ডিমের দাম হয়েছে ১৫৫-১৬০ টাকা। আর পাড়া-মহল্লার মুদিদোকান থেকে এক হালি ডিম কিনতে লাগছে ৫৫ টাকা। দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো সাধারণত এক-দুটি করে ডিম কেনে। সে ক্ষেত্রে প্রতিটি ডিমের দাম পড়ছে ১৫ টাকা।এদিকে বাজারে দুই মাস ধরে ব্রয়লার মুরগির কেজি ২০০ টাকার আশপাশে। বিভিন্ন ধরনের মাছের দামও বাড়তি। গতকাল দুই-আড়াই কেজি ওজনের রুই মাছ প্রতি কেজি ৩৮০-৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০-৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০-২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৫০-২৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।বাজারে ডিম, মুরগি, মাছের দাম চড়া থাকায় কষ্টে আছেন নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষ। রাজধানীর শেখেরটেক এলাকায় নিরাপত্তারক্ষীর চাকরি করেন আনসার হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার তো বেশি টাকা নাই। যা আয় করি, তা দিয়ে ব্রয়লার মুরগি, ডিম কিনে খেতে পারি। কিন্তু ব্রয়লার মুরগির দাম দুই-তিন মাসেও কমে নাই। আর ডিমের দাম ১৬০ টাকা ডজন হয়ে গেছে।’

Source: https://www.prothomalo.com/business/7iz2y6xjb4

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, এমপির আত্মীয়স্বজন পেয়েছেন ডিলারশিপ

১

এখনই কেন দূরে তাকাচ্ছেন না নাজমুল

২

হাতে ব্যালন ডি’অর, মাথায় ব্যবসার বুদ্ধি—যেভাবে দুই ভুবনের ‘রাজা’ কেইন

৩

পদুচেরি উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, পূর্ব ভারতে ভারী বৃষ্টি

৪

বাসায় ঢুকে দম্পতিকে মারধর ও কুপিয়ে জখমের অভিযোগ, মামলা নেয়নি পুলিশ

৫

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অঙ্গীকারের প্রশংসা করলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী

৬

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অঙ্গীকারের প্রশংসা করলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী

৭

ইসরায়েলের নির্বাচনে হারছে নেতানিয়াহুর জোট

৮

ইসরায়েলের নির্বাচনে হারছে নেতানিয়াহুর জোট

৯

নায়ক মান্নার ব্যবহৃত গাড়িতে আগুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজন কারাগারে

১০

নায়ক মান্নার ব্যবহৃত গাড়িতে আগুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজন কারাগারে

১১

বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদ, যন্ত্রাংশ ও দুটি গাড়ি নিয়ে গেলেন শেকৃবির শিক্ষার্থীরা

১২

বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদ, যন্ত্রাংশ ও দুটি গাড়ি নিয়ে গেলেন শেকৃবির শিক্ষার্থীরা

১৩

জীবনানন্দের স্মরণে ভার্চ্যুয়াল পাঠচক্র

১৪

জীবনানন্দের স্মরণে ভার্চ্যুয়াল পাঠচক্র

১৫

মালয়েশিয়ায় ৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে বিডি এক্সপার্ট ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬

১৬

মালয়েশিয়ায় ৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে বিডি এক্সপার্ট ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬

১৭

বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণ জানতে তদন্ত কমিটি

১৮

বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণ জানতে তদন্ত কমিটি

১৯

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে নিহত ১০ জনের মরদেহ স্বজনের কাছে হস্তান্তর

২০