প্রাথমিক বিজ্ঞান: অধ্যায়–৭∎ বিস্তৃত প্রশ্নপ্রশ্ন: স্পর্শ বল ও অস্পর্শ বলের মধ্যে পার্থক্যগুলো আলোচনা করো।উত্তর: নিচে স্পর্শ বল ও অস্পর্শ বলের মধ্যে পার্থক্যগুলো আলোচনা করা হলো:স্পর্শ বল:১. এই বল প্রয়োগের জন্য দুটি বস্তুর মধ্যে প্রত্যক্ষ শারীরিক সংস্পর্শ বা ছোঁয়া প্রয়োজন।২. ঘর্ষণ বল, ধাক্কা দেওয়া, দড়ি দিয়ে টানা, কোনো কিছু কাটা।৩. বস্তু দুটি একে অপর থেকে দূরে সরে গেলে এই বল আর কাজ করে না।অস্পর্শ বল:১. এই বল প্রয়োগের জন্য দুটি বস্তুর মধ্যে সরাসরি সংস্পর্শের প্রয়োজন হয় না।২. মাধ্যাকর্ষণ বল, চৌম্বক বল, স্থির তড়িৎ বল।৩. বস্তু দুটি নির্দিষ্ট দূরত্বে থাকলেও এই বল অদৃশ্যভাবে ক্রিয়া করতে পারে।.প্রশ্ন: বলের মাত্রা বৃদ্ধি করলে বস্তুর ওপর তার প্রভাব কেমন হয়? বুঝিয়ে লেখো।উত্তর: বলের মাত্রা বলতে বল প্রয়োগের শক্তি বা জোরকে বোঝায়। বলের মাত্রা যত বাড়ানো হয়, বস্তুর ওপর তার প্রভাব তত প্রবল হয়। যেমন: আমরা যখন সাইকেল চালাই, তখন প্যাডেলে যদি কম মাত্রায় বল প্রয়োগ করি, তবে সাইকেল ধীরগতিতে চলে। কিন্তু প্যাডেলে বেশি জোরে বা বেশি মাত্রায় বল প্রয়োগ করলে সাইকেলের গতি অনেক বেড়ে যায়। একইভাবে একটি ফুটবলে যদি আলতো করে লাথি দেওয়া হয়, তবে সেটি অল্প দূরত্ব অতিক্রম করে। কিন্তু ফুটবলটিকে যদি জোরে লাথি দেওয়া হয় অর্থাৎ বলের মাত্রা বাড়ানো হয়, তবে সেটি অনেক দ্রুতগতিতে অনেক বেশি দূরত্ব অতিক্রম করে। অর্থাৎ বলের মাত্রা বস্তুর গতি ও অতিক্রান্ত দূরত্ব নির্ধারণে প্রধান ভূমিকা পালন করে।.প্রশ্ন: যদি পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ বল না থাকত, তাহলে আমাদের জীবন কেমন হতো?উত্তর: পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ বল না থাকলে কোনো বস্তুই মাটির ওপর স্থির থাকত না এবং সবকিছু মহাশূন্যে ভেসে বেড়াত। আমরা হাঁটাহাঁটি করতে পারতাম না এবং বায়ুমণ্ডল না থাকায় আমাদের বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ত। পৃথিবী প্রতিটি বস্তুকে তার নিজের কেন্দ্রের দিকে টানে বলেই আমরা সব জিনিস মাটিতে পড়তে দেখি।মো. আবু সুফিয়ান, শিক্ষকআইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা
Source: https://www.prothomalo.com/education/examination/xl7o8f4g35
মন্তব্য করুন