৭ নভেম্বর ২০২৬, ৫:০০ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে প্রথম স্থানে পোশাকশিল্প

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়: অধ্যায়–১২∎ সৃজনশীল প্রশ্নদৃশ্যকল্প-১: ‘ক’ শিল্প ১৯৫১ সালে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে বাংলাদেশে এর ৭৬টি কারখানা আছে।দৃশ্যকল্প-২: বর্তমানে ‘খ’ শিল্পটির তিন হাজারের অধিক ইউনিট রয়েছে। এই শিল্প বর্তমানে বাংলাদেশের বৃহত্তম রপ্তানিমুখী শিল্পে পরিণত হয়েছে।ক. বাংলাদেশে মোট বনভূমির পরিমাণ কত বর্গকিলোমিটার?খ. জীববৈচিত্র্য রক্ষা প্রয়োজন কেন?গ. দৃশ্যকল্প-১-এ বর্ণিত শিল্পটি ব্যাখ্যা করো।ঘ. বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ‘খ’ শিল্পের অবদান বিশ্লেষণ করো।.উত্তরক. বাংলাদেশে মোট বনভূমির পরিমাণ হলো ২৪,৯৩৮ বর্গকিলোমিটার।খ. পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা প্রয়োজন।প্রকৃতিতে সব রকমের জীব যে নিয়মে বেঁচে থাকে, তাকেই সংক্ষেপে জীববৈচিত্র্য বলা যায়। মানুষ প্রাণী, কীটপতঙ্গসহ জীবজগৎ ও প্রকৃতির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই বেঁচে থাকে। তাই মানুষের বেঁচে থাকার জন্য এবং পৃথিবীর ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।গ. দৃশ্যকল্প-১-এ বর্ণিত শিল্পটি হলো পাটশিল্প।১৯৫১ সালে নারায়ণগঞ্জে আদমজি পাটকল প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে এ দেশে পাটশিল্পের যাত্রা শুরু হয়। এ দেশে একসময় প্রধান অর্থকরী ফসল ছিল পাট। পাট বিক্রি করে কৃষক তাঁর পরিবারের চাহিদা পূরণ করতেন। একসময় পাটকলগুলো শুধু পাটের বস্তা উৎপাদন করত। বর্তমানে পাট দিয়ে নানা ধরনের পণ্যসামগ্রী উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হতে পারে।উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১-এ বলা হয়েছে, ‘ক’ শিল্প ১৯৫১ সালে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে বাংলাদেশে এর ৭৬টি কারখানা আছে। অন্যদিকে ১৯৫১ সালে আদমজি পাটকল প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে পাটশিল্পের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমান দেশে পাটকলের সংখ্যা ৭৬। তাই বলা যায়, দৃশ্যকল্প-১-এর শিল্পটি পাটশিল্প।.ঘ. বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ‘খ’ শিল্প তথা পোশাকশিল্পের অবদান অপরিসীম।গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। আশির দশকে এ শিল্পের অগ্রযাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে এটি বেশ সম্প্রসারিত হয়েছে। উদ্দীপকে ‘খ’–এ শিল্পেরই প্রতিনিধিত্ব করছে।উদ্দীপকের ‘খ’ শিল্পটির বর্তমানে তিন হাজারের অধিক ইউনিট রয়েছে। এ শিল্পটি বর্তমানে বাংলাদেশের বৃহত্তম রপ্তানিমুখী শিল্পে পরিণত হয়েছে। এ দেশের পোশাকশিল্পের ক্ষেত্রেই এমনটি চোখে পড়ে। অতি অল্প সময়ে এ শিল্পটি দেশের বৃহত্তম রপ্তানিমুখী শিল্পে পরিণত হয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। আশির দশকের শেষার্ধে পাট ও পাটজাত দ্রব্যের আয়কে অতিক্রম করে পোশাকশিল্প রপ্তানি আয়ে প্রথম স্থানে চলে আসে। তৈরি পোশাকশিল্পের সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের পাশাপাশি এর আনুষঙ্গিক শিল্পগুলোরও সম্প্রসারণ ঘটতে থাকে। বিভিন্ন আনুষঙ্গিক শিল্পের সম্প্রসারণের ফলে বহু মানুষের পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখে।পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের ‘খ’ শিল্প অর্থাৎ পোশাকশিল্প গুরুত্বের বিচারে এখন এমন স্তরে উপনীত হয়েছে যে দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এখন অনেকাংশে এ শিল্পের ওপর নির্ভরশীল।মাহফুজা হোসনে আরা, প্রভাষকঢাকা আইডিয়াল কলেজ, তেজগাঁও, ঢাকা

Source: https://www.prothomalo.com/education/examination/emq9tjc0no

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জুলাই গণ–অভ্যুত্থান প্রতিহত করতে মোতাহার ছিলেন একজন অর্থ জোগানদাতা

১

বিল নিয়ে তর্ক করায় গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করল পল্লী বিদ্যুৎ

২

৪০ বছরে ইষ্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স, ৪৫৩ কোটি টাকার দাবি নিষ্পত্তি

৩

তাহসিফ হত্যায় ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ দিয়েছেন দীপ, জামিন নাকচ করে কারাগারে প্রেরণ

৪

মেঘনার বুকে ১৭ কেজির কাতলা, বিক্রি হলো ১৭ হাজার ৫০০ টাকায়

৫

বন্ধ এলএনজি টার্মিনাল চালু, গ্যাসের সরবরাহ বাড়ছে

৬

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে প্রথম স্থানে পোশাকশিল্প

৭

ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি নেই, শেখ মুজিবকে ‘জাতির পিতা’ বলায় হট্টগোল

৮

ব্লাড ব্যাংকে হ্যাকারদের সাইবার আক্রমণ

৯

৫০ হাজারে হরিণ, পালুন বাড়িতে

১০

সি চিন পিংয়ের পর চীনের ক্ষমতায় কে বসবেন

১১

১০ বছরে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের বকেয়া ৩ গুণ বেড়েছে, ঋণের পরিমাণ কত

১২

প্রতিটি মানুষ একেকটা মাটির প্রদীপ

১৩

সামরিক চিকিৎসা সার্ভিস মহাপরিদপ্তরের অধীনে চাকরি, পদ ৩০

১৪

সকালেই পড়ুন আলোচিত ৫ খবর

১৫

সমন্বিত কার্যক্রম এবং আইনপ্রয়োগ জরুরি

১৬

দক্ষিণ কোরিয়ায় উচ্চশিক্ষা: ভিসায় পরিবর্তন, পড়া শেষে তিন বছর থাকার সুযোগ

১৭

প্রতিটি দিন যেভাবে গতকালের চেয়ে উন্নত করবেন

১৮

বন্ধ ঘরের দরজায় ধাক্কা দিতেই দেখা গেল মেঝেতে নারীর লাশ

১৯

ট্রাম্পকে রুখে দিয়েছে তরুণদের ভোট

২০