আশিকুর রহমান রুবেল | সংবাদ বিডি
রাজধানীর গেন্ডারিয়া থানা এলাকার মাদক চলমান স্পট গুলো থেকে পুলিশ সদস্যরা অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না এবং সাপ্তাহিক ও দৈনিক ভিত্তিতে চাঁদা নেওয়া সহ গত ১০ এপ্রিল মোটা অংকের অর্থ নিয়ে মাদক ব্যবসায়ী সন্দেহজনক পাওয়া যায়নি কিছু আদালতে প্রেরণ এসকল বিষয় গুলো নিয়ে অভিযোগ করেছেন আইনগত সহায়তা প্রদান কেন্দ্র (এইচআরএইচএফ) ।
দেশে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ফের এমন পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র বিষয়টি নিয়ে সংবাদ বিডি অনুসন্ধান করলে বের হয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
জানা যায়, রাজধানীর গেন্ডারিয়া থানা এলাকা—যেখানে সময় যেন কোনো বাধা নয় দিনের আলো কিংবা রাতের অন্ধকার—কোনোটিই থামাতে পারছে না মাদক ব্যবসা।এলাকাবাসীর ভাষায়, “এটা আর লুকানো কিছু নয়—এটা এখন ওপেন সিক্রেট।”
দিনে রাতে সবসময় এযেন মাদকের বাজার ?
দিনের বেলায় সবকিছুই প্রকাশেই চলছে লাইনে দাঁড়িয়ে কিনতে হচ্ছে মাদক। মানুষ চলাচল করছে, দোকানপাট খোলা, যানবাহনের শব্দে ব্যস্ত চারপাশ। কিন্তু অভিযোগ—এই স্বাভাবিকতার মধ্যে দুইটি স্পটে প্রকাশেই চলছে মাদকের বিক্রি।
বিশস্ত সূত্র জানা যায় , মাদক স্পট গুলো ঘুন্টিঘর নামা পাড়া রেললাইন রহিমার মাদক স্পট যেখানে এক সময় বস্তি ছিলো আলোচিত মাদক স্পট হিসেবে পরিচিত এবং মুরগীটোলা এলাকার ‘১০০ কাঠা’ এখন যেন মাদকের এক অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। ভয়ংকর অভিযোগ উঠেছে—এই মাদক সিন্ডিকেটের পেছনে ছায়ার মতো জড়িয়ে আছে খোদ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্য!
গত ১০ এপ্রিল শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ঘটে যাওয়া এক নাটকীয় অভিযানের ঘটনাকে ঘিরে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসায়ী ইমরানের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত এই স্পট থেকে নিয়মিত ‘চাঁদা’ আদায় করা হয় সোর্স রানার মাধ্যম স্থানীয়দের দাবি, নির্ধারিত চাঁদা দিতে সামান্য দেরি হলেই শুরু হয় ‘অভিযান নাটক’। ঘটনার দিনও এর ব্যতিক্রম হয়নি। চাঁদা দিতে বিলম্ব হওয়ায় হঠাৎ করেই অভিযানে নামে গেন্ডারিয়া থানার পুলিশের মোটরসাইকেল টিমের উপ পরিদর্শক আরাফাত। অভিযানে ‘রানা’ নামের এক সোর্সকে ব্লু প্যাকেট থাকা শতাধিক ইয়াবাসহ আটক করা হলেও, মূল হোতা ইমরান রহস্যজনকভাবে পালিয়ে যায়—ফেলে যায় তার ব্যবহৃত লাল রঙের পালসার মোটরসাইকেল।
সবচেয়ে বিস্ময়কর ও উদ্বেগজনক অভিযোগ—রাতভর টাকার রফাদফা হওয়ার পর আটককৃত সোর্স রানার কাছ থেকে প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে পুরো বিষয়টি ‘ম্যানেজ’ করে ফেলে অভিযানে অংশ নেওয়া উপ পরিদর্শক আরাফাত ও তার টিমের পুলিশ সদস্যরা। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শতাধিক ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনাটিও ইচ্ছাকৃতভাবে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে ডিএমপি কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ ?
ঘটনার তীব্রতা ও গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে আইনগত সহায়তা প্রদান কেন্দ্র (HRHF) আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে—
সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও মাদক ব্যবসায় প্রত্যক্ষ সহযোগিতার অভিযোগ আটক ব্যক্তিকে অবৈধভাবে অর্থের বিনিময়ে সন্দেহজনক আদালতে প্রেরণ করেন উপ পরিদর্শক আরাফাত এবং উদ্ধারকৃত মাদকের তথ্য গোপন রাখা উক্ত সংগঠনটি দ্রুত একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে জনমনে ক্ষোভ, প্রশ্নবিদ্ধ ‘মাদকবিরোধী অভিযান’
এ ঘটনায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—
“যারা মাদক দমন করবে, তারাই যদি মাদকের পাহারাদার হয়, তাহলে নিরাপত্তা কোথায়?”
বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন ঘটনা শুধু একটি থানার নয়—এটি পুরো ব্যবস্থার দুর্বলতা ও জবাবদিহিতার অভাবকে নগ্নভাবে প্রকাশ করে।
গেন্ডারিয়ার এই ঘটনা এখন আর শুধুমাত্র একটি অভিযোগ নয়—এটি রাজধানীর আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থার ওপর এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। দ্রুত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নিলে, মাদকবিরোধী সকল প্রচেষ্টা জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা হারাবে।
বিষয়টি নিয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার এর সাথে তিনি জানান, মাদকের বিরুদ্ধে সবসময় বাংলাদেশ পুলিশ জিরো টলারেন্স এবং যদি কোন পুলিশ সদস্য আর্থিক সুবিধা নিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত মূলক বিভাগীয় শাস্তি রয়েছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা হবে বলে জানান তিনি।
মন্তব্য করুন