* তরুণ-তরুণীর স্বীকারোক্তিতে রাজধানীমুখী মাদক রুটের চাঞ্চল্যকর তথ্য
* কবুতরের খামার নাকি মাদকের গোপন গুদাম? প্রশ্নে সরব স্থানীয়রা
* দিনে পাখির ব্যবসা, রাতে ফেনসিডিল-ইয়াবার লেনদেন—অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য
* অহাজীগঞ্জ থেকে ক্যান্টনমেন্ট—এক সুতোয় বাঁধা মাদক নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত ?
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে পুলিশের একটি নিয়মিত চেকপোস্ট। রাত গভীর হচ্ছিল, যানবাহনের গতি কমে এলেও সন্দেহের চোখ থামেনি। ঠিক সেই সময়ই একটি প্রাইভেট কার থামানো হয়। তল্লাশিতে বেরিয়ে আসে ৪৫ পিস ইয়াবা ও প্রায় ৪০ গ্রাম গাঁজা। আটক করা হয় রবিউল করিম ওরফে রবি ও যুথী নামের এক তরুণীকে। ঘটনাটি প্রথমে ছিল “রুটিন সাফল্য”—কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদে খুলতে থাকে এক বিস্তৃত মাদক নেটওয়ার্কের পর্দা তরুণী শিকার করেন রবিউল করিম ওরফে রবি এসকল মাদক সহ তাকে নিয়ে লিফ টু গেদার করতে আসছে ওই তরুণী একজন বার ড্যান্সার।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই ধরা পড়ে রাজধানীমুখী একটি সরবরাহ চক্রের ইঙ্গিত। ওই তরুণ কৌশলে তথ্যবেড় গোপন করার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত স্বীকার করে—ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকার ৫৭৩ দক্ষিণ মানিকদি ফরিদা মঞ্জিল বাড়ির ছাদে তার “কবুতর ফার্ম” রয়েছে ও তিনি মাদক সেবন করে বলে জানান রবিউল করিম ওরফে রবি বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচিত ভাইরাল হয় ।
সংবাদ বিডি অপরাধ অনুসন্ধানী টিমের কাছে তথ্য আসে মাদক সহ আটক হওয়া রবিউল করিম ওরফে রবি একজন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী বিষয়টি অনুসন্ধান করলে বের হয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকার ৫৭৩ দক্ষিণ মানিকদি ফরিদা মঞ্জিল বাড়ির ছাদে রুম ভাড়া নিয়ে একটি সাধারণ কবুতর খামার। বাইরে থেকে দেখলে পাখির খাঁচা, খাদ্য —সবই স্বাভাবিক। কিন্তু স্থানীয় কিছু সূত্রের দাবি, এই খামারই মাদক লেনদেনের গোপন কেন্দ্র। সকাল থেকেই কিছুক্ষণ পর পর শুধু মটরসাইকেল আসে কবুতর ফার্মে ভিতরে প্রবেশ করে কিছু সময় পর চলে সারাদিন প্রায় শতাধিক মটরসাইকেল আসে এই কবুতর ফার্মে কিন্তু এসকল মটরসাইকেল বাহকেরা ফেনসিডিল ক্রয় করতে আসে নামমাত্র কবুতরের ব্যবসা, চালিয়ে অপরাধ মূলক কার্যক্রম।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“অনেক দিন ধরেই সন্দেহ ছিল। রাতের বেলা অচেনা লোকজন আসে, দ্রুত ঢুকে আবার বেরিয়ে যায়। কবুতরের ব্যবসা দিয়ে এত কিছু চলে—এটা বিশ্বাস করা কঠিন।”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, হাজীগঞ্জে আটক তরুণ-তরুণীর দেওয়া তথ্য যাচাই করে রাজধানীতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গতিবিধি, মোবাইল যোগাযোগ ও আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মাদক ব্যবসায়ীরা নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করছে—কখনো খামার, কখনো কুরিয়ার সার্ভিস, কখনো অনলাইন প্ল্যাটফর্মের আড়াল। ফলে চক্রগুলো শনাক্ত করা আরও জটিল হয়ে উঠছে।
এদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “মাদকবিরোধী অভিযানে কোনো ছাড় নেই। হাজীগঞ্জে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”
ঘটনার পর থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—কতটা বিস্তৃত এই নেটওয়ার্ক? কবুতরের খাঁচার আড়ালে আর কত অজানা গল্প লুকিয়ে আছে?
এবিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, মাদক ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে এই ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য কিন্তু ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সবসময় মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা ইতি মধ্যে নিচ্ছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এমনটাই জানান এই কর্মকর্তা।
সংবাদ বিডি অনুসন্ধানী তদন্ত চলছে। আর প্রতিটি সূত্রই ইঙ্গিত দিচ্ছে—এটি শুধু একটি গ্রেপ্তার নয়, বরং বড় কোনো মাদক চক্রের দরজা খোলার শুরু চোখ রাখুন সংবাদ বিডি নিউজ পোর্টালে ।
মন্তব্য করুন