নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন বউবাজার এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির বিষয়ে সংবাদ বিডি টুয়েন্টিফোর ডটকমে একাধিক মাদক ব্যবসায়ীকে নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী রুবেল এর সহযোগী নাঈম ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ আটক করেছে ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী সিটি রাসেল রুপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কুতুবখালী এজেন্ট শাখা ভবনের অফিসের পাশের একটি সরু গলিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক বিক্রি হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, এলাকায় একাধিক সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকলেও মূল হোতারা এখনও আইনের আওতার বাইরে রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গলির ভেতরে কয়েকজন বিক্রেতা প্রকাশ্যেই ক্রেতাদের কাছে ইয়াবা বিক্রির প্রস্তাব দেন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এভাবে মাদক কেনাবেচা চললেও কার্যকরভাবে বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী রাসেল ওরফে “সিটি রাসেল” একটি মাদক সিন্ডিকেট রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে দির্ঘদিন যাবত মাদক ব্যবসা করে আসছে। তাদের আরও দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে মাদক ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান অপুকে হত্যা করে যাত্রাবাড়ী সবজি আড়তে এক দেয়ালের পাশে রেখে যাওয়া হয় স্থানীয় একাংশের সূত্র জানায়, খুচরা বিক্রেতাদের কাছ মাদক বিক্রি নিয়ে একমাত্র মাদক ব্যবসার প্রতিদন্দী ছিলেন মাদক ব্যবসায়ী সিটি রাসেল আর এই মাদক ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান অপুর হত্যার সাথে জড়িত থাকতে পারেন রাজনৈতিক নেতা পরিচয়ধারী মাদক ব্যবসায়ী রাসেল ওরফে সিটি রাসেল।
এর আগে সংবাদ প্রকাশের পর অভিযানে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী রুবেল এর সহযোগী নাঈমকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ । তবে স্থানীয়দের দাবি, মূল হোতাদের বিরুদ্ধে এখনও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সিটি রাসেল এর কথিত কিশোর গ্যাংয়ের ভয়ে অনেকে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। তারা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর অভিযান ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার সংবাদ বিডি টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক বা অন্য যে পরিচয়ই ব্যবহার করুক না কেন, আইনের দৃষ্টিতে অপরাধী হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে এলাকায় মাদকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
মন্তব্য করুন