মাগুরা প্রতিনিধি
মাগুরা সদর উপজেলায় আয়োজিত “মাগুরা শিল্প বাণিজ্য মেলা ২০২৬”–এ লটারির নামে জুয়া পরিচালনার অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আয়োজকদের কাছে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। একজন আইনজীবীর মাধ্যমে প্রেরিত ওই নোটিশে দাবি করা হয়, মেলার প্রবেশ টিকিটের সঙ্গে কুপন সরবরাহ করে নিয়মিত ড্রয়ের মাধ্যমে পুরস্কার বিতরণ করা হচ্ছে, যা আর্থিক লেনদেননির্ভর হওয়ায় জুয়ার শামিল হতে পারে।
নোটিশে আরও অভিযোগ করা হয়, এই কার্যক্রম মাগুরা জেলার বিভিন্ন ক্যাবল অপারেটরের মাধ্যমে সম্প্রচার করা হচ্ছে এবং প্রায় দুই শতাধিক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মাধ্যমে মাইকিং করে লটারি বিক্রির প্রচার চালানো হচ্ছে। এতে শব্দ দূষণ সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি জনসাধারণ বিভ্রান্ত হচ্ছেন বলে উল্লেখ করা হয়।
আইনজীবীর নোটিশে বলা হয়েছে, এ ধরনের কার্যক্রম Public Gambling Act, 1867, Cable Television Network Operation Act, 2006, দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর প্রতারণা সংক্রান্ত ধারা এবং শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ২০০৬–এর পরিপন্থী হতে পারে।
নোটিশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লটারি কার্যক্রম, ক্যাবল সম্প্রচার ও মাইকিং বন্ধসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। অন্যথায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য-
মেলায় প্রবেশ টিকিটের নাম ব্যবহার করে পুরো জেলা জুড়ে দুই শতাধিক ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা যোগে মাইক বাজিয়ে লটারি নামক জুয়ার টিকিট বিক্রি করে আসছে প্রতিদিন রাতে ড্রয়ের মাধ্যমে ঘোষণা করা হচ্ছে পুরস্কার। এতে অংশ নিতে অনেক দর্শনার্থী একাধিকবার টিকিট কিনছেন।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন—
“ড্র শুরু হলেই ভিড় বেড়ে যায়। অনেকে আবার টিকিট কেটে অংশ নিচ্ছেন—পুরস্কারের আশায়।”
ক্যাবল স্ক্রিনে ‘প্রলোভনের প্রচার’ ?
স্থানীয় সূত্রে দাবি, জেলার বিভিন্ন ক্যাবল অপারেটরের মাধ্যমে মেলার এই লটারি কার্যক্রম সম্প্রচার করা হচ্ছে। এতে পুরস্কারের প্রচারণা আরও বিস্তৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ। একজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি (পরিচয় গোপন রাখার শর্তে) বলেন— “ এই ধরনের কনটেন্ট সম্প্রচার নিয়ে প্রশ্ন আছে, কিন্তু চাপের কারণে অনেক সময় দেখাতে হয়।”
২০০+ অটোরিকশায় মাইকিং: জনদুর্ভোগ চরমে শহরের বিভিন্ন সড়কে প্রায় দুই শতাধিক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মাধ্যমে সারাদিন মাইকিং করে লটারি প্রচার চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে শব্দ দূষণ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ বিরক্ত।
একজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—
“সারাদিন মাইকিং চলে। এটা শুধু বিজ্ঞাপন না, এক ধরনের যন্ত্রণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন বা মেলা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের একাংশ বিষয়টি দ্রুত তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন