স্টাফ রিপোর্টার | সংবাদ বিডি
রাজধানীর ডেমরা থানা অধীন ডগাইর এলাকা জুড়ে অর্ধশতাধিক খুচরা মাদক ব্যবসায়ীর দৌরাত্ম্যে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সাধারণ বাসিন্দারা। সন্ধ্যা নামলেই অলিগলি, চায়ের দোকান, নির্জন গলি ও ভাঙাচোরা ভবনের সামনে জমে উঠছে মাদক কেনাবেচার আসর—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের
সংবাদ বিডির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, তোফিকুল ইসলাম ওরফে জনি নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ মাদক নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করছেন। প্রকাশ্যে নিজেকে ব্যবসায়ী পরিচয় দিলেও আড়ালে পরিচালনা করছেন একাধিক খুচরা মাদক বিক্রয় চক্র।
স্থানীয়দের দাবি, জনির ভাইদের একটি ফার্মেসি রয়েছে। সেখানে মাঝে মধ্যে সময় দিলেও মূলত তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বিস্তৃত মাদক কারবার। অভিযোগ রয়েছে—রাসেল, রায়হান, মানিক, বিল্লাল, আরিফ, সুমনসহ একাধিক যুবক তার হয়ে বিভিন্ন স্পটে মাদক সরবরাহ ও বিক্রির কাজ করছে।
একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,
> “দিন-রাত প্রকাশ্যে ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি হচ্ছে। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া তরুণদের একটি অংশও এই নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। প্রতিবাদ করলে উল্টো ভয়ভীতি দেখানো হয়।”
অনুসন্ধানে জানা যায়, ডগাইরের বিভিন্ন অলিগলিতে ছোট ছোট ‘স্পট’ তৈরি করে খুচরা বিক্রি চালানো হচ্ছে। মাদক সংগ্রহের জন্য বাইরে থেকে লোকজনও নিয়মিত এলাকায় আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে করে স্থানীয় পরিবারগুলোর মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।
একটি বিশ্বস্ত সূত্র দাবি করেছে, কোনাপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির একাধিক সদস্যের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকার কারণেই জনি প্রকাশ্যে তার নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে। যদিও এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে স্থানীয়দের ভাষ্য—আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত নজরদারি থাকলে এত বড় নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠা সম্ভব হতো না।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদক কারবারের কারণে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতাও বেড়ে গেছে। সন্ধ্যার পর অনেক পরিবার সন্তানদের বাইরে যেতে দিচ্ছে না। নারীরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সচেতন মহল বলছে, রাজধানীর আবাসিক এলাকাগুলোতে খুচরা মাদক ব্যবসার বিস্তার ভয়াবহ সামাজিক সংকট তৈরি করছে। দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে জড়িতদের আইনের আওতায় না আনলে পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর রূপ নিতে পারে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
বিষয়টি নিয়ে ডেমরা থানার অফিসার ইনচার্জের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি।
মন্তব্য করুন