শফিকুল ইসলাম সবু কমিশনারের বাড়ির একাধিক কক্ষ ঘিরে তোলপাড়, আলোচনায় সেলিম মাস্টার ও অলক সিন্ডিকেটের সদস্যরা; প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন !
নিজস্ব প্রতিবেদক | কুমিল্লা
শহরের পরিবহন ব্যবসায় একসময় বেশ পরিচিত মুখ ছিলেন তিনি। নিজের নামে একাধিক বাস, ট্রাক ও পরিবহন ব্যবসা—অর্থ-সম্পদ, সম্মান, সামাজিক পরিচিতি; কোনো কিছুরই অভাব ছিল না। শ্রমিক-কর্মচারীদের কাছে তিনি ছিলেন একজন প্রতিষ্ঠিত মালিক। পরিবারেও ছিল স্বাচ্ছন্দ্য, সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিল নানা স্বপ্ন।
কিন্তু কে জানত, সেই স্বপ্নের আড়ালেই ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে এক সর্বনাশের গল্প!
শুরুটা হয়েছিল বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে গিয়ে। পরিচিত কয়েকজনের হাত ধরে পরিচয় ঘটে জুয়ার আসরের সঙ্গে। প্রথমদিকে নিছক বিনোদন, তারপর ভাগ্য পরীক্ষার নেশা। একবার জিতলে মনে হতো, এবার বুঝি আরও বড় জয় অপেক্ষা করছে। আর হারলে সেই টাকা ফিরে পাওয়ার অদম্য চেষ্টা।
এভাবেই রাতের পর রাত কাটতে থাকে জুয়ার আসরে।
একসময় পরিবহন ব্যবসার আয় থেকে টাকা সরিয়ে নেওয়া শুরু করেন তিনি। প্রথমে সামান্য, পরে লাখ লাখ টাকা। জুয়ার নেশা যখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল, তখন একে একে বিক্রি হতে থাকল নিজের উপার্জনে গড়া সম্পদ। বন্ধক পড়ল জমি, বিক্রি হলো গাড়ি, বাড়তে থাকল ঋণের বোঝা।
যে মানুষ একসময় অন্যকে টাকা ধার দিতেন, সেই মানুষটিই একসময় পরিচিতজনদের কাছে ধার চাইতে শুরু করলেন।
বলছিলাম কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার গোরিপুরের বাসিন্দা আতিক মিয়ার কথা এভাবে কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন স্থানে জুয়ার আসরে নিম্ন আয়ের মানুষ অল্প সময়ের মধ্যে বেশি উপার্জন করতে গিয়ে নিশ্ব হয়ে যাচ্ছে।
সংবাদ বিডি টুয়েন্টিফোর ডটকমের ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ২য় পর্ব জানা যায়, বাইরে থেকে সাধারণ বসতবাড়ি, অথচ ভেতরে একাধিক রুমে চলছে জমজমাট জুয়ার আসর— এমনই গুরুতর অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লার হোমনা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শফিকুল ইসলাম সবু কমিশনারের বাড়ি। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বাড়িটির কয়েকটি রুম ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে জুয়ার আসর পরিচালনা করে আসছে সেলিম মাস্টার ও অলক সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্যরা।
বাড়ির ভেতরে একাধিক রুমে, জুয়ার আসরের অভিযোগ !
স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, শফিকুল ইসলাম সবু কমিশনারের বাড়ির ভেতরে কয়েকটি রুমে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রতিনিয়ত চলে আসছে জমজমাট জুয়ার আসর। এসব কক্ষে কারা নিয়মিত যাতায়াত করেন, কারা আসরের আয়োজন ও নিয়ন্ত্রণ করেন এবং কি পরিমাণ অর্থের লেনদেন হয়—তা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বেশ আলোচনা সৃষ্টি হয়ে আসছে।
একদিকে জুয়ার আসর পরিচালনার তথ্য, অন্যদিকে আতিক মিয়ার মতো ব্যক্তির আর্থিক বিপর্যয়ের ঘটনা—দুটি বিষয়ই জুয়ার সামাজিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
জুয়ার আসরে বিষয়ে প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতিও হামলা ?
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জুয়ার আসরের বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে সেলিম মাষ্টার ও অলক সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য দ্বারা বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হামলার মুখে পড়তে হয়। এ কারণে অনেকেই প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না এবং প্রতিবেদককে প্রকাশ্যে নিজেদের বক্তব্য দিতে অনাগ্রহী স্থানীয় বাসিন্দাদারা ।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, বক্তব্য পাওয়া যায়নি ওসির?
৩নং ওয়ার্ড ছোটকান্দা শফিকুল ইসলাম সবু কমিশনারের বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে জুয়ার আসর পরিচালিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় পুলিশের টহল থাকলেও কথিত জুয়ার আসরের বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান দেখা যায়নি।
কেউ কেউ দাবি করেছেন, অভিযান পরিচালনার আগেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সতর্ক হয়ে যান।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে হোমনা থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
মন্তব্য করুন