রাজধানীর ব্যস্ততম জনপদের এক কোণে দিনের আলো নিভে গেলে যেন জেগে ওঠে আরেকটি অন্ধকার জগত। অভিযোগ—এক চতুর মাদক ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে নিজের পরিচয় বদলে বদলে গড়ে তুলেছে প্রভাবের এক অদৃশ্য বলয়। কখনো নিজেকে ক্ষমতাসীন দলের নেতা হিসেবে পরিচয় দেয়, আবার কখনো অখ্যাত বা যাচাই-অযোগ্য একটি সংবাদমাধ্যমের পরিচয়পত্র দেখিয়ে নিজেকে সাংবাদিক দাবি করে। উদ্দেশ্য একটাই—ভয় সৃষ্টি, প্রভাব বিস্তার এবং নিজের মাদক ব্যবসাকে পরিচালনা করা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানা এলাকার মাছ সবজি দেশী-বিদেশী বিভিন্ন ফলের পাইকারি আড়ৎ বর্তমানে মাছ সবজি ও ফলের আড়তের পাশাপাশি ইয়াবা ও হিরোইন গাঁজা সহ মাদকের হাট বাজার।
শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী এখন নিজেকে যুবদল নেতা হিসেবেই ফেস্টুন ব্যানার করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন মন্ত্রীর ও সরকার দলীয় নেতাদের সাথে ছবি রয়েছেন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী রাসেলের সবসময় বলে থাকেন নবী উল্লাহ্ নবী ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিয় দিয়ে থাকে।
জানা যায়, যাত্রাবাড়ী আড়ৎ বউবাজার সংলগ্ন রুপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ভবনের পাশের মাত্র চার ফুট প্রশস্ত একটি গলি আর এই গলিটিতে প্রবেশ করলেই মনে হয় যেন এটি একটি প্রকাশ্য মাদকের হাট বাজার, যেখানে দিনে রাতে সব সময় ডেকে ডেকে ইয়াবা নামক মাদক বিক্রি করে আসছে কথিত যুবদল নেতা রাসেল এর একাধিক সেলসম্যান গলির আরও একটু সামনে এগিয়ে গেলেই শিউলি ও প্রদিপ এর সেলস্ ম্যান হাতের মধ্যে প্রকাশেই ইয়াবার প্যাকেট হাতে নিয়ে বিক্রি করে আসছে।
এদিকে কুতুবখালী প্রাইমারি স্কুলের সামনেই দীর্ঘদিন ধরেই তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী রুবেল এর মাদক স্পট এখানেও হাতে ইয়াবার প্যাকেট প্রকাশেই নিয়ে বিক্রি করে আসছে।
অভিযোগ রয়েছে বর্তমান ক্ষমতাশালীন দলের যাত্রাবাড়ী শ্রমিক দলের নেতা শহিদ এবং ওয়ার্ড যুবদল নেতা শুমেল এর নিয়ন্ত্রণে বেশ কয়েকটি মাদকের স্পট বসিয়েছে আবার কখনো কখনো শুমেল মাদক ব্যবসায়ীদের সেলস ম্যানদের কাছে থেকে মাদক ও টাকা মারধর করে নিয়ে যায়।
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ক্ষমতাশালীন দলের নেতা পরিচয় দিয়ে যাত্রাবাড়ী আড়ৎ এর সবচেয়ে বড় স্পট যুবদল নেতা পরিচয় দাতা রাসেল এর প্রতিদিন এই স্পটে ৭ থেকে ৮ লক্ষ টাকার ইয়াবা নামক মাদক বিক্রি করে আসছে মাদক ব্যবসায়ী রাসেল ।
অনুসন্ধানকালে কথা হয় যাত্রাবাড়ী আড়ৎ এর কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তারা অভিযোগ করেন, স্থানীয়ভাবে শ্রমিক দলের নেতা শহিদ ও যুবদলের নেতা সুমেল নামে দুই ব্যক্তি প্রভাব খাটিয়ে কথিতভাবে মাদক ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নিয়মিত অর্থের বিনিময়ে তারা মাদক ব্যবসায়ীদের নিরাপদে ব্যবসা পরিচালনায় সহায়তা করেন। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে কথিত নেতা শহিদ ও সুমেল এর মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এছাড়াও কথিত যুবদল নেতা ওরফে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী রাসেল এর রাজনৈতিক ভাবে কোনো সমস্যা হলে এসকল বিষয়ে শ্রমিক দল নেতা শহিদ সমাধান করেন উক্ত বিষয়টি নিয়ে শ্রমিক দল নেতা শহিদের মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, যদি অভিযোগগুলো সত্য হয়, তবে তা শুধু আইনশৃঙ্খলার জন্য নয়, এলাকার তরুণ সমাজের জন্যও বড় হুমকি। তারা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। সংশ্লিষ্ট যাত্রাবাড়ী থানা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান মাদক ব্যবসায়ী রাসেল, রুবেল, প্রদীপ, শিউলী সিন্ডিকেটের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মাদক সহজেই তরুণদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে, মাদক যা সামাজিক নিরাপত্তা ও যুবসমাজের ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। তাদের প্রত্যাশা, মাদক ব্যবসায়ী প্রদীপ, রুবেল ও শিউলীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবেন ।
এবিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) সংবাদ বিডি টুয়েন্টিফোর ডটকম “কে মুঠোফোনে জানান বাংলাদেশ পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স প্রতিনিয়ত মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে আসছে এবং যাত্রাবাড়ী পাইকারি সবজি আড়তের মধ্যে প্রকাশেই মাদক বিক্রি বিষয়টি জানা নেই তবে এমন কিছু হলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
প্রশ্ন এখন একটাই—প্রভাবশালী পরিচয়ের আড়ালে কি সত্যিই গড়ে উঠেছে একটি মাদক চক্র, নাকি এগুলো কেবল গুজব? উত্তর খুঁজতে আমাদের অনুসন্ধান চলবে?
মন্তব্য করুন