জরিপে উঠে আসা মতামত
মাদক বেড়েছে, জড়িত রাজনৈতিক দলের কর্মীরাও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জরিপে উঠে এসেছে, ৭৪% মানুষ মনে করেন, আইনের সঠিক প্রয়োগ হলে মাদক নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক | সংবাদ বিডি
দেশের বিভিন্ন সীমান্ত পাড়ি দিয়ে জেলা হয়ে রাজধানীতে ঢুকছে মাদকের বড় বড় চালান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিমশিম খাচ্ছে মাদকের আগ্রাসন রুখতে। কিছু অসাধু রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের সদস্যদের ম্যানেজ করে মাদক কারবারিরা মাদক মারণনেশা পৌঁছে দিচ্ছে রাজধানীর সর্বত্র।
রাজধানীতে এমএলএম ব্যবসা পদ্ধতিতে বারো শতাধিক ডিলার ইয়াবা নামক মাদক ব্যবসা চালাচ্ছেন। এসব মাদক ব্যবসায়ীদের অধিকাংশই প্রভাবশালী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতা ও পরিচয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। অনেক এলাকায় প্রকাশ্যেই ভাড়াটে লোক দিয়ে মাদক ব্যবসার অভিযোগ আছে। মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাদক এখন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে, কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। র্যাব-পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখে ধুলা দিয়ে নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা চালানো হচ্ছে। গলি-পাড়া-মহল্লা, যেখানেই হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা, হেরোইনসহ নানা ধরনের নেশাদ্রব্য। মাদকের মরণ ছোবলে প্রতিনিয়ত তরুণ-তরুণী, যুবসমাজ, কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে।
মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকার নানা উদ্যোগ নিলেও মানুষ মনে করেন, তাঁর আশপাশের এলাকায় মাদক চোরাচালান বেড়েছে। মানুষ আরও মনে করেন যে কাজ না পেয়ে সাধারণ মানুষ মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। আর মাদক ব্যবসায়ীদের বড় একটি অংশ রাজনৈতিক দলের কর্মী ও প্রভাবশালী।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি জরিপভিত্তিক গবেষণা প্রতিবেদনে মানুষের এই মতামত উঠে এসেছে।
সংবাদ বিডি টুয়েন্টিফোর ডটকমের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে রাজধানীতে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য কৌশল অবলম্বন বেছে নিয়েছে রাজনৈতিক পরিচয়।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন বৌবাজার ও যাত্রাবাড়ী আড়ত সংলগ্ন রয়েছে একাধিক মাদকের স্পট আর এসকল মাদক স্পটের মধ্যে সবচেয়ে বড় মাদক সম্রাজ্ঞী শিউলি এবং কৃষক দলের ৬৩ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক দলের আহ্বায়ক রাসেল (ওরফে “সিটি রাসেল”) এর মাদক স্পট প্রতিদিন এই দুইটি স্পট থেকে কয়েক লাখ টাকার ইয়াবা নামক মাদক বিক্রি করে আসছে এই সিন্ডিকেট ।
প্রকাশ্যেই আর এসকল মাদক ব্যবসায়ীদের পিছনে হাতিয়ার হিসেবে রয়েছে একজন ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে মাদক ব্যবসায়ীদের ছত্রছায়া দিয়ে সাপ্তাহিক মোটা অংকের অর্থ নিয়ে থাকেন রাসেল বেশ কয়েকটি মাদকের স্পট থেকে যাত্রাবাড়ী থানা কৃষক দলের সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান রিপনের নামে চাঁদা আদায় করে থাকেন।
এছাড়াও মাদক ব্যবসায়ী রাসেল ওরফে সিটি রাসেল এর মাদক ব্যবসা ও একাধিক মাদক স্পট থেকে সাপ্তাহিক চাঁদা আদায় করার জন্য একজন মাদক ব্যবসায়ীকে কৃষক দলের ৬৩নং ওয়ার্ডের আহ্বায়ক হিসেবে কমিটি দিয়েছেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, এলাকায় প্রভাব বিস্তারের জন্য একদল কিশোরকে ঘিরে একটি গ্যাং গড়ে তোলা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, এই গ্যাংয়ের কারণে সাধারণ মানুষ ভীতসন্ত্রস্ত থাকেন এবং প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে সাহস পান না।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে তোলা ছবি প্রকাশ করে নিজেদের প্রভাবশালী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেন মাদক ব্যবসায়ী ওরফে সিটি রাসেল যা স্থানীয়দের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করে।
এদিকে কুতুবখালী বউবাজার এলাকার বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক বলেন, আমাদের চোখের সামনে তরুণ ও কিশোররা ‘কিশোর গ্যাংয়ের’ সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন। যা সত্যিই আতঙ্কের।আর এদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা তবে এখন রোধ করার কেউ নাই। তাই মাদককে নির্মূল না করলে এই তরুণ সমাজ আস্তে আস্তে যেন নির্মূলের দিকে যাচ্ছে। একজন শিক্ষক হিসাবে নিজেকে অপরাধী মনে করছি।
এবিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) সংবাদ বিডি টুয়েন্টিফোর ডটকম “কে মুঠোফোনে জানান বাংলাদেশ পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স প্রতিনিয়ত মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে আসছে এবং যাত্রাবাড়ী পাইকারি সবজি আড়তের মধ্যে প্রকাশেই মাদক বিক্রি বিষয়টি জানা নেই তবে এমন কিছু হলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আগামী প্রতিবেদনে থাকবে কৃষক দলের সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান রিপনের মাদক ব্যবসা আধিপত্য ?
মন্তব্য করুন