১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:০০ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

দিনু বিল্লাহকে স্মরণ: আলোচনায় গণসংগীতের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ

গণসংগীতের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের নানা তথ্য সংরক্ষণ করে গেছেন মুক্তিযোদ্ধা, লেখক ও গবেষক দিনু বিল্লাহ। তাঁর লেখা গণসংগীতের ইতিহাসবিষয়ক গ্রন্থ ‘মিলিত প্রাণের কলরব’ নিয়ে আলোচনা ও তাঁকে স্মরণ করে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি স্মরণ অনুষ্ঠান। আলোচনায় বক্তারা বলেন, বইটি শুধু গণসংগীতের ইতিহাস নয়, একটি সময়ের সাংস্কৃতিক আন্দোলন ও মানুষের অংশগ্রহণেরও গুরুত্বপূর্ণ দলিল।শুক্রবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে ঢাকা থিয়েটার ও অনন্যা প্রকাশনীর যৌথ আয়োজনে এ স্মরণ অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অনন্যা প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী মনিরুল হক। আলোচনায় অংশ নেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মফিদুল হক, নাট্যকার ও নির্দেশক মামুনুর রশীদ, গণসংগীত–গবেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সাইম রানা এবং দিনু বিল্লাহর জীবনসঙ্গী মাহবুবা খানম। সঞ্চালনা করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ।.নাট্যকার ও নির্দেশক মামুনুর রশীদ বলেন, ‘মিলিত প্রাণের কলরব শুধু গণসংগীতের ইতিহাস নয়, একটি সময়ের সাংস্কৃতিক পরিবেশেরও গুরুত্বপূর্ণ দলিল। কোন গান কখন, কোথায় ও কীভাবে তৈরি ও পরিবেশিত হয়েছে, তার পাশাপাশি দিনু নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও যুক্ত করেছেন। ফলে হারিয়ে যাওয়া অনেক শিল্পী, সুরকার ও গানের তথ্য বইটিতে উঠে এসেছে।’নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে মামুনুর রশীদ বলেন, ‘দিনু বিল্লাহকে আর ফিরে পাওয়া যাবে না, অনেককেই পাওয়া যাবে না। তবে সেই সময় ও সাংস্কৃতিক চর্চায় ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখা দরকার। এ বইকে কেন্দ্র করে নতুন প্রজন্মের জন্য আরও গবেষণার সুযোগ রয়েছে। সেই গবেষণার মধ্য দিয়ে তৎকালীন মূল্যবোধ, সাংস্কৃতিক আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।’.দিনু বিল্লাহকে স্মরণ করে মফিদুল হক বলেন, ষাটের দশকের দ্বিতীয়ার্ধে যে সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে উঠেছিল, দিনু বিল্লাহ তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন। তাঁর কথায়, ‘দিনু ছিলেন স্নিগ্ধ ব্যক্তিত্বের মানুষ। হাসিখুশি, সদালাপী দিনু খুব সহজেই মানুষের সঙ্গে মিশে যেতে পারতেন। দিনু ছিলেন সংগীত অন্তপ্রাণ। একুশে ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পৃক্ততা ছিল। অনেক গুণী মানুষের সান্নিধ্যে বেড়ে ওঠার ফলে তাঁর অভিজ্ঞতার পরিসরও ছিল বিস্তৃত। সেই সময়ের সাংস্কৃতিক পরিবেশ ও মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক দিনুর জীবন ও লেখায় নানাভাবে ছাপ ফেলেছে।’দিনু বিল্লাহর স্ত্রী মাহবুবা খানম যখন কথা বলছিলেন, তখন চারপাশে শোকের আবহ তৈরি হয়। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি স্মরণ করেন স্বামীর সঙ্গে কাটানো নানা সময়ের কথা। তিনি বলেন, ‘শিশু থেকে বৃদ্ধ—যেকোনো বয়সের মানুষের সঙ্গে সহজেই মিশে যেতে পারতেন দিনু।’ মুক্তিযুদ্ধ দিনু বিল্লাহর অন্যতম চিন্তার কেন্দ্র ছিল উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের কথা পৌঁছে দেওয়ার তাগিদ তাঁর মধ্যে গভীরভাবে গেঁথে ছিল।.পরিবারের অন্যান্য সদস্যের মধ্যে এদিন আরও উপস্থিত ছিলেন দিনু বিল্লাহর বোন, অভিনেত্রী ও সংগীতশিল্পী শিমূল ইউসুফ। ভাইয়ের সঙ্গে স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, ‘আমার জন্য মিষ্টি (দিনু বিল্লাহকে এ নামেই ডাকতেন শিমূল) যা করেছে, এই জীবনে সেই ঋণ আমি শোধ করতে পারব না। ছোটবেলায় তাঁর সাইকেলে চড়ে ছায়ানট, টেলিভিশন সেন্টার, রেডিওসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যেতাম। তাঁর হাত ধরেই বহু গুণী মানুষের সান্নিধ্যে আসার সুযোগ হয়েছিল আমার।’২০২৩ সালের ২৩ আগস্ট কানাডায় মৃত্যু হয় দিনু বিল্লাহর। মৃত্যুর আগে দেহদান করে যান তিনি। ভাইয়ের এ দেহদান প্রসঙ্গে শিমূল ইউসুফ বলেন, ‘আমার ভাইয়ের শরীরের বিভিন্ন অংশ নিয়ে যারা হাঁটছেন, তাদের সঙ্গে একটু বুক মেলাতে ইচ্ছা করে। আমার ভাই তো তাদের অংশ হয়ে আছে।’.গণসংগীত–গবেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সাইম রানা গণসংগীতের বিকাশ ও ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় দিনু বিল্লাহর গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর গবেষণাকর্ম গণসংগীতের বিভিন্ন পর্যায়, গান ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে আলোচনায় উঠে আসে।দিনু বিল্লাহ ঢাকা থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন। নাট্যচর্চার পাশাপাশি তিনি লেখালেখি ও গবেষণায় যুক্ত ছিলেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘কাকা বাবুর টয় হাউজ’, ‘টয় হাউজ থেকে ১৯৭১: মৃত্যু ছায়াসঙ্গী’। এ ছাড়া শহীদ আলতাফ মাহমুদকে নিয়ে তিনি লিখেছেন ‘সুরের বরপুত্র’।আলোচনা শেষে অনুষ্ঠানে গণসংগীত পরিবেশন করে ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী।

Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/hg82alkp5o

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বেশি লাভের আশায় দীর্ঘদিন হিমাগারে, পচা সাড়ে ২২ হাজার মণ আলু এখন গরুর খাবার

৪৫ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে বাবার সঙ্গে স্বপ্নের মঞ্চে

রূপায়ণ সিটি ঘুরে গেল আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদল

ক্যানসারে আক্রান্ত গিটারিস্ট ইমরান মারা গেছেন

গাইবান্ধায় ছুটিতে বাড়ি এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পুলিশের এসআইয়ের মৃত্যু

উত্তরে ডেঙ্গুর ১০০ ‘হটস্পট’, দক্ষিণে ২৯ ওয়ার্ড ঝুঁকিপূর্ণ, সেগুলো কোনগুলো

৩৬ নিখোঁজ শিশুর লাশ উদ্ধার ৮ মাসে

ঢাকায় রাত থেকে সকাল পর্যন্ত বৃষ্টি

গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে কেন মরিয়া ট্রাম্প, নেপথ্যে কী

ক্যারিবীয় সাগরে নৌযানে হামলা চালিয়ে ৪ জনকে হত্যা করেছে যুক্তরাষ্ট্র

১০

রিয়াদে বিকট বিস্ফোরণ, ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বৃদ্ধি

১১

বিপর্যয়ের কারণ খুঁজতে নেপালের তদন্ত শুরু

১২

অপ্রতিম হত্যা: সিসিটিভি ফুটেজের সূত্রে আটক কিশোরের বাসা থেকে সেই আইফোন উদ্ধার

১৩

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জাতীয় ছাত্রসভা’র প্রস্তুতি কমিটি প্রকাশ

১৪

নাইকোর বিরুদ্ধে পেট্রোবাংলার ৭৪৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের মামলা ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ

১৫

অপ্রতিম হত্যা: আরেক সন্দেহভাজনকে আটক করেছে এসআরবি

১৬

সড়কের পাশে বা নির্জন স্থানে গাড়ি পার্ক করা যাবে না

১৭

পবিত্র মক্কা-মদিনা আবেগ ও বিশ্বাসের কেন্দ্র, হামলা হলে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ: ধর্মমন্ত্রী

১৮

বন্ধুত্ব যখন পরকালের পাথেয় হবে

১৯

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সব ম্যাচে নাহিদ রানাকে চান নির্বাচকেরা

২০