বার্তা বিভাগ
১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৬ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

রাজধানীর গেন্ডারিয়া ইষ্ট এন্ড ক্লাবে জমজমাট জুয়ার আসর ?

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা: ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া সংগঠনের নেপথ্যে অসাধু চক্রের আখড়া, নাকি প্রভাবশালী মহলের অঘোষিত জুয়ার সাম্রাজ্য? রাজধানীর গেন্ডারিয়ার ধুপখোলা মাঠসংলগ্ন ‘ইষ্টার্ন ক্লাব লিমিটেড’-কে কেন্দ্র করে ওঠা জুয়ার আসরের বিস্ফোরক অভিযোগে এখন উত্তপ্ত পুরো এলাকা। প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলেই আবাসিক এলাকার বুকে খেলাধুলার সাইনবোর্ড সর্বস্ব এই ক্লাবে শুরু হয় বিপুল অংকের অবৈধ লেনদেন ও জুয়ার আসর। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে—রাজনীতিবিদদের নাম ভাঙিয়ে, তথাকথিত ‘অনুমতি’র জাল বিস্তার করে এবং স্থানীয় প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতাকে কাজে লাগিয়ে দিনের পর দিন চালানো হচ্ছে এই অপকর্ম।

সন্ধ্যার পর বহিরাগতদের আখড়া: ভয়ে তটস্থ সাধারণ মানুষ ?

ধুপখোলা মাঠসংলগ্ন ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকার ঠিক মাঝখানেই ইষ্টার্ন ক্লাব লিমিটেডের অবস্থান। স্থানীয় অধিবাসীদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, দিনের বেলা ক্লাবটি লোকদেখানো শান্ত পরিবেশ বজায় রাখলেও সূর্যাস্তের পরপরই পুরো চিত্র বদলে যায়।

  • সন্দেহভাজন যাতায়াত: দামি গাড়ি ও মোটরসাইকেলে করে গভীর রাত পর্যন্ত ক্লাবে আনাগোনা বাড়ে অজ্ঞাত বহিরাগতদের।

  • লাখ টাকার লেনদেন: ক্লাবের অভ্যন্তরীণ সংরক্ষিত কক্ষে গভীর রাত পর্যন্ত চলে তাশ ও বিভিন্ন ধরনের নগদ অর্থের জুয়া।

  • নিরাপত্তাহীনতায় অধিবাসীরা: গভীর রাত পর্যন্ত নেশাগ্রস্ত ও জুয়াড়িদের চেঁচামেচি ও যাতায়াতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ সরাসরি মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না।

‘অনুমতি’র নামে ধোঁয়াশা ও রাজনৈতিক পদের অপব্যবহার ?

অনুসন্ধানের হাত ধরে সামনে আসে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। অবৈধ এই জুয়ার আসর পরিচালনার নেপথ্যে যুক্ত ওহাব নামের এক ব্যক্তির দাবি—গেন্ডারিয়া থানা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুল কাদের মিয়া তাকে জানিয়েছেন, ক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের ‘অনুমতি’তেই এসব পরিচালিত হচ্ছে।

তবে নিবিড় অনুসন্ধানে এই তথাকথিত ‘অনুমতি’র কোনো প্রশাসনিক, প্রাতিষ্ঠানিক বা আইনি ভিত্তি মেলেনি। ওহাবের এই দাবির পর গেন্ডারিয়া থানা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুল কাদের মিয়ার সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

অনুসন্ধানী প্রশ্ন: দেশের আইনে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ একটি অপরাধমূলক কাজের ‘অনুমতি’ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কীভাবে দেন? আর সেই অনৈতিক অনুমতির তোয়াক্কা করে রাজনৈতিক পদের দাপট দেখিয়ে কীভাবে পার পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা? এটি কি কেবলই প্রভাবশালীদের পকেট ভরানোর কৌশল, নাকি আইনকে বুড়ো আঙুল দেখানোর দুঃসাহস?

আইনগত ব্যবস্থার তোপ: পুলিশের কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন ?

ক্লাবে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে গেন্ডারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি স্বীকার করেন, এর আগেও ইষ্টার্ন ক্লাবে জুয়ার আসরের খবরের ভিত্তিতে পুলিশ আইনি পদক্ষেপ নিয়েছিল। নতুন করে অভিযোগ ওঠায় তিনি পুনরায় তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ইতিবাচক আশ্বাস দেন।

তবে ওসির এই বক্তব্যেই ফুটে উঠেছে থানা পুলিশের চরম প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নজরদারির গাফিলতি। সচেতন মহলের সরাসরি প্রশ্ন:

১. আইনের কার্যকর প্রয়োগ কোথায়? পূর্বে যদি সত্যিই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে, তবে একই স্থানে অপরাধীরা বারবার একই আস্তানা গড়তে সাহস পায় কীভাবে ?

২. লোকদেখানো অভিযান? আগের আইনি পদক্ষেপ কি তবে কেবলই আইওয়াশ বা সাময়িক লোকদেখানো ব্যবস্থা ছিল ?

৩. নজরদারির অভাব: অভিযানের পর অপরাধী সিন্ডিকেট কার আশ্রয়ে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠল—সেই হিসাব কি পুলিশের কাছে আছে ?

দায় এড়াতে পারে না ক্লাব পর্ষদ !

একটি স্বীকৃত সামাজিক ও ক্রীড়া ক্লাবের কক্ষ ব্যবহার করে কীভাবে দিনের পর দিন জুয়ার বাজার বসানো হচ্ছে, তা নিয়ে কাঠগড়ায় ক্লাবটির পরিচালনা পর্ষদ। স্থানীয়দের মতে, সাধারণ সম্পাদক ও পরিচালনা পর্ষদ এর দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না। হয় তাদের পরোক্ষ ছায়াতলে এই অবৈধ বাণিজ্য চলছে, অথবা অনৈতিক আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে তারা চোখ বন্ধ করে আছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইষ্টার্ন ক্লাব লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক ও দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সাথে একাধিক উপায়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সটকে পড়েন এবং তাদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে জরুরি পদক্ষেপ ?

ক্রীড়া সংগঠনের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটনের এই আখড়া বন্ধে কেবল মুখের আশ্বাসে আর কাজ হবে না বলে মনে করছেন গেন্ডারিয়াবাসী। দ্রুত সময়ের মধ্যে:

  • ক্লাবের ভেতরে ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ করে মূল হোতাদের চিহ্নিত করা,

  • তথাকথিত ‘অনুমতি’ প্রদানকারী ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারকারীদের আইনের আওতায় আনা, এবং

  • ইষ্টার্ন ক্লাবের ক্রীড়া নিবন্ধনের বৈধতা বাতিলসহ কঠোর প্রশাসনিক অভিযান পরিচালনা করা জরুরি।

এবিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে” সংবাদ বিডিকে তিনি জানান, জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ জিরো টলারেন্স প্রতিনিয়ত মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আসছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ তবে অভিযোগ এর বিষয়ে খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার আশ্বাস দেন এই কর্মকর্তা ।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

২০ বছর পর সার্জেন্ট পদে ৮৪ ও এসআই পদে ১৬২ জন যোগ দিচ্ছেন

১

বাল্যবিবাহ ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সচেতন করলেন বন্ধুরা

২

বিদায়, জান্থি!

৩

জলবায়ু অর্থায়ন প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য

৪

বিধান পরিষদ নির্বাচন বিজেপি ও কংগ্রেসকে চিন্তায় ফেলে দিল

৫

সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে আগারগাঁওয়ে সড়ক অবরোধ শেকৃবির শিক্ষার্থীদের

৬

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অধীনে চাকরি, পদ ১১

৭

দুর্বল হয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, দেশের কিছু স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা

৮

রাষ্ট্র যখন তার স্রষ্টাদের সম্মান জানাতে সংকটে পড়ে

৯

সকালেই পড়ুন আলোচিত ৫ খবর

১০

আলভারেজ না পাজ—আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সি কার

১১

ছিনতাইকারীর কবলে এক রাত

১২

মা-বাবাকে নামাজের দাওয়াত যেভাবে দেবেন

১৩

আরব দলগুলোর রেকর্ড সাফল্যের পর ‘ভোট চুরির’ অভিযোগ নেতানিয়াহুর দলের

১৪

নির্যাতনের কথা জানাতে গভীর রাতে বাবাকে ভিডিও কল, সংযোগ বিচ্ছিন্ন, বাসায় গিয়ে পেলেন মৃত্যুর খবর

১৫

নেতানিয়াহুকে সরাতে আরব দলগুলোর সঙ্গে ঐক্যের ডাক গোলানের

১৬

বছরের শেষ নাগাদ পণ্যের দাম বাড়তে পারে ২৩ শতাংশ: বিশ্বব্যাংক

১৭

পুলিশে সরাসরি এসআই নিয়োগ হবে ৪ হাজার, ৪০০-৫০০ এএসপি নিতে হবে বিশেষ বিসিএস

১৮

ইরানে স্বর্ণপামজয়ী নির্মাতাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ

১৯

নির্বাচনের আগের দিন বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

২০