নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা: ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া সংগঠনের নেপথ্যে অসাধু চক্রের আখড়া, নাকি প্রভাবশালী মহলের অঘোষিত জুয়ার সাম্রাজ্য? রাজধানীর গেন্ডারিয়ার ধুপখোলা মাঠসংলগ্ন ‘ইষ্টার্ন ক্লাব লিমিটেড’-কে কেন্দ্র করে ওঠা জুয়ার আসরের বিস্ফোরক অভিযোগে এখন উত্তপ্ত পুরো এলাকা। প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলেই আবাসিক এলাকার বুকে খেলাধুলার সাইনবোর্ড সর্বস্ব এই ক্লাবে শুরু হয় বিপুল অংকের অবৈধ লেনদেন ও জুয়ার আসর। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে—রাজনীতিবিদদের নাম ভাঙিয়ে, তথাকথিত ‘অনুমতি’র জাল বিস্তার করে এবং স্থানীয় প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতাকে কাজে লাগিয়ে দিনের পর দিন চালানো হচ্ছে এই অপকর্ম।
ধুপখোলা মাঠসংলগ্ন ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকার ঠিক মাঝখানেই ইষ্টার্ন ক্লাব লিমিটেডের অবস্থান। স্থানীয় অধিবাসীদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, দিনের বেলা ক্লাবটি লোকদেখানো শান্ত পরিবেশ বজায় রাখলেও সূর্যাস্তের পরপরই পুরো চিত্র বদলে যায়।
অনুসন্ধানের হাত ধরে সামনে আসে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। অবৈধ এই জুয়ার আসর পরিচালনার নেপথ্যে যুক্ত ওহাব নামের এক ব্যক্তির দাবি—গেন্ডারিয়া থানা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুল কাদের মিয়া তাকে জানিয়েছেন, ক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের ‘অনুমতি’তেই এসব পরিচালিত হচ্ছে।
তবে নিবিড় অনুসন্ধানে এই তথাকথিত ‘অনুমতি’র কোনো প্রশাসনিক, প্রাতিষ্ঠানিক বা আইনি ভিত্তি মেলেনি। ওহাবের এই দাবির পর গেন্ডারিয়া থানা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুল কাদের মিয়ার সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানী প্রশ্ন: দেশের আইনে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ একটি অপরাধমূলক কাজের ‘অনুমতি’ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কীভাবে দেন? আর সেই অনৈতিক অনুমতির তোয়াক্কা করে রাজনৈতিক পদের দাপট দেখিয়ে কীভাবে পার পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা? এটি কি কেবলই প্রভাবশালীদের পকেট ভরানোর কৌশল, নাকি আইনকে বুড়ো আঙুল দেখানোর দুঃসাহস?
ক্লাবে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে গেন্ডারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি স্বীকার করেন, এর আগেও ইষ্টার্ন ক্লাবে জুয়ার আসরের খবরের ভিত্তিতে পুলিশ আইনি পদক্ষেপ নিয়েছিল। নতুন করে অভিযোগ ওঠায় তিনি পুনরায় তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ইতিবাচক আশ্বাস দেন।
তবে ওসির এই বক্তব্যেই ফুটে উঠেছে থানা পুলিশের চরম প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নজরদারির গাফিলতি। সচেতন মহলের সরাসরি প্রশ্ন:
একটি স্বীকৃত সামাজিক ও ক্রীড়া ক্লাবের কক্ষ ব্যবহার করে কীভাবে দিনের পর দিন জুয়ার বাজার বসানো হচ্ছে, তা নিয়ে কাঠগড়ায় ক্লাবটির পরিচালনা পর্ষদ। স্থানীয়দের মতে, সাধারণ সম্পাদক ও পরিচালনা পর্ষদ এর দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না। হয় তাদের পরোক্ষ ছায়াতলে এই অবৈধ বাণিজ্য চলছে, অথবা অনৈতিক আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে তারা চোখ বন্ধ করে আছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইষ্টার্ন ক্লাব লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক ও দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সাথে একাধিক উপায়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সটকে পড়েন এবং তাদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ক্রীড়া সংগঠনের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটনের এই আখড়া বন্ধে কেবল মুখের আশ্বাসে আর কাজ হবে না বলে মনে করছেন গেন্ডারিয়াবাসী। দ্রুত সময়ের মধ্যে:
এবিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে” সংবাদ বিডিকে তিনি জানান, জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ জিরো টলারেন্স প্রতিনিয়ত মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আসছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ তবে অভিযোগ এর বিষয়ে খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার আশ্বাস দেন এই কর্মকর্তা ।
মন্তব্য করুন