বিশেষ প্রতিবেদন | সংবাদ বিডি
রাজধানীর বাণিজ্যিক কেন্দ্র মতিঝিল—যেখানে প্রতিদিন হাজারো মানুষের কর্মব্যস্ত পদচারণা, সেই এলাকাতেই আবার নীরবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে পুরনো আতঙ্ক—ক্যাসিনো জুয়া। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কঠোর নির্দেশনার পর কিছুদিন বন্ধ থাকার পর, পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে অন্যদিকে জুয়া পরিচালনাকারী সিন্ডিকেট গুলোর দাবি ক্লাব কর্তৃপক্ষ মতিঝিল বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনারের কাছে থেকে মৌখিক অনুমতি নিয়েছেন । অনুসন্ধানে উঠে এসেছে একাধিক প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নাম, যারা ভাগ-বাটোয়ারা করে পরিচালনা করছে এই অবৈধ ব্যবসা।
মাঠ পর্যায়ে ঘুরে দেখা যায়, মতিঝিলের ওয়ান্ডার্স ক্লাবের প্রতিটি রুমে সকাল থেকে শুরু হয় ক্যাসিনো আন্দার বাহার জুয়ার কার্যক্রম। এই ক্লাবে রয়েছে আন্দার বাহার ক্যাসিনো জুয়া পরিচালনা করেন হিরণ সিন্ডিকেট । প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে ‘আন্ধার বাহার’সহ বিভিন্ন জুয়ার খেলা। প্রবেশাধিকার সীমিত, তবে ভেতরে চলছে উচ্চমূল্যের জুয়া—যেখানে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার লেনদেন হয় বলে অভিযোগ।
তবে ক্লাবটির কার্যক্রম, তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ক্লাবের সভাপতি হিসেবে উল্লেখিত আবদুস সালামের নাম—যিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্বেও রয়েছেন ।
একদিকে নগর পরিচালনার প্রশাসনিক দায়িত্ব, অন্যদিকে একটি ক্লাবের নেতৃত্ব—এই দুই পরিচয়ের প্রেক্ষাপটে স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসে জবাবদিহি ও তদারকির প্রশ্ন।
থানা কাছেই, তবু অভিযোগ—কার নজরদারিতে ক্লাবের কার্যক্রম?
মতিঝিল এলাকার ওয়ান্ডার্স ক্লাবে কথিত জুয়ার আসর নিয়ে অভিযোগ থাকলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে। ক্লাবটিতে কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়? সেখানে জুয়া খেলার কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ রয়েছে কি? সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পেয়েছে বা তদন্ত করেছে কি না?
অভিযোগের সঙ্গে মতিঝিল থানার দূরত্বের প্রসঙ্গও আলোচনায় এসেছে। তবে কোনো স্থানের কাছাকাছি থানা থাকা মানেই সেখানে সংঘটিত কথিত অনিয়ম সম্পর্কে পুলিশ অবগত ছিল নাকি দেখেও না দেখার মতো রয়েছে।
আবদুস সালামের দ্বৈত ভূমিকা ঘিরে প্রশ্ন
ক্লাবের সভাপতি হিসেবে আবদুস সালামের পরিচয় এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে তাঁর দায়িত্ব—এই দুই বিষয় সামনে রেখে জনস্বার্থে কিছু প্রশ্ন তোলা যেতে পারে।
ক্লাবের কার্যক্রম তদারকির জন্য কী ব্যবস্থা রয়েছে? জুয়ার অভিযোগের বিষয়ে ক্লাব কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য কী? অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে? আর কোনো ধরনের প্রশাসনিক স্বার্থের সংঘাতের আশঙ্কা থাকলে তা প্রতিরোধে কী নীতিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে?
এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্য আবদুস সালাম, ক্লাব কর্তৃপক্ষ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এর প্রশাসক এর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এবিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মুঠোফোনে সংবাদ বিডিকে জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই তবে এমন কিছু হয়ে থাকলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন