দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো, নেটওয়ার্কের মান উন্নত করা ও সারা দেশে সংযোগ সম্প্রসারণের স্বার্থে তরঙ্গ নবায়নের ব্যয় যৌক্তিক করার আহ্বান জানিয়েছেন মোবাইল ফোন অপারেটররা। একই সঙ্গে তরঙ্গের ফি পরিশোধের শর্তে নমনীয়তা চেয়েছেন তাঁরা।রাজধানীর বনানীতে বুধবার অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (অ্যামটব) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ, রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার সাহেদ আলম এবং বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান।.অপারেটরদের প্রতিনিধিরা বলেন, বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে রাজস্বের তুলনায় তরঙ্গের পেছনে ব্যয়ের হার এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল ও বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে বেশি। অন্যদিকে গ্রাহকপ্রতি গড় আয় (এআরপিইউ) প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে না। এর পাশাপাশি পরিচালন ব্যয় ও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের খরচ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে তরঙ্গের উচ্চ ফি নেটওয়ার্ক উন্নয়ন ও সেবার মান বাড়াতে বিনিয়োগের সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।তাই তরঙ্গের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে টেলিযোগাযোগ খাতের রাজস্ব, বাজারের বাস্তবতা, ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের প্রয়োজন এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বিবেচনার আহ্বান জানান মোবাইল অপারেটররা। তাঁদের মতে, দাম যৌক্তিক হলে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, সেবার মান উন্নয়ন ও গ্রাহকদের সাশ্রয়ী সংযোগ নিশ্চিত করা সহজ হবে।.গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ বলেন, ২০ বছরের তরঙ্গের লাইসেন্সের মূল্য ১৫ বছরের লাইসেন্সের মূল্যের সঙ্গে সরাসরি আনুপাতিক হারে নির্ধারণ করা যৌক্তিক নয়। প্রযুক্তি, বাজার ও চাহিদার পরিবর্তনের পাশাপাশি বিনিয়োগের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে মূল্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন।রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার সাহেদ আলম বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতের রাজস্ব ও বিনিয়োগ সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্পেকট্রামের মূল্য নির্ধারণ করা উচিত। একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও বিনিয়োগবান্ধব কাঠামো নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, সেবার মান উন্নয়ন এবং ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে সহায়তা করবে।অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অ্যামটব মহাসচিব মোহাম্মদ জুলফিকার।
Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/lppq1o29zv
মন্তব্য করুন