টাকা দিয়ে সুখ কেনা যায় না, এই কথাটা প্রায়ই শোনা যায়। কিন্তু বাস্তবতা কি সত্যিই এত সহজ? ১৭ লাখেরও বেশি মানুষের অনুভূতির তথ্য নিয়ে করা এক গবেষণা বলছে ভিন্ন কথা। আয় আর সুখের সম্পর্ক আসলে যতটা জটিল, ততটাই আকর্ষণীয়।
, টাকা আর সুখের সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক অনেক পুরোনো। কেউ বলেন, টাকা দিয়ে সুখ কেনা যায় না। আবার কেউ বলেন ভিন্ন কথা। মাসের শেষে ভাড়া নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকলে, সন্তানের পড়াশোনার খরচ নিয়ে চিন্তা থাকলে, সুখের কথা ভাবাই তখন কঠিন হয়ে যায়।
, ভাবুন তো, মাসের শেষ সপ্তাহে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা আছে। সন্তানের হঠাৎ চিকিৎসা লাগলে চিন্তা করতে হচ্ছে না। বাসার ভাড়া নিয়ে প্রতিদিন হিসাব কষতে হচ্ছে না। বহুদিনের পরিকল্পনা করা একটা ছোট ভ্রমণেও যাওয়া যাচ্ছে। এসব বিষয় সরাসরি সুখ কিনে দেয় না। কিন্তু দুশ্চিন্তা কমিয়ে দেয়। আর সুখের সবচেয়ে বড় শত্রু হয়তো দুঃখ নয়। সেটা হতে পারে অনিশ্চয়তা।
আর্থিক নিরাপত্তা মানুষকে নিজের জীবনের ওপর নিয়ন্ত্রণের অনুভূতি দেয়। কোথায় থাকবেন, কী খাবেন, সন্তানকে কোথায় পড়াবেন। এসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা বেড়ে যায়। তাই টাকা অনেক সময় আনন্দের চেয়ে বেশি কিনে দেয় নিরাপত্তা। কিনে দেয় বিকল্প বেছে নেওয়ার সুযোগও।
, এখানেই বিষয়টা একটু জটিল হয়ে যায়। ২০২৩ সালে পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা যৌথভাবে একটি গবেষণা করেন। তাতে দেখা যায়, গড়ে আয় বাড়ার সঙ্গে সুখও বাড়তে পারে। তবে যাঁরা তুলনামূলক বেশি অসুখী, তাঁদের ক্ষেত্রে একটা পর্যায়ের পর আয়ের প্রভাব কমে যেতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে তা স্থিরও হয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ টাকা আর সুখের সম্পর্ক সবার জন্য এক রকম নয়।
আরও একটা বিষয় মনে রাখা দরকার। বেশি আয় সব সমস্যার সমাধান নয়। ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অনেক টাকা থাকতে পারে। কিন্তু সম্পর্ক ভেঙে গেলে, কাজের পরিবেশ অসহনীয় হলে, কিংবা একাকিত্ব ঘিরে ধরলে, সেই অর্থের ক্ষমতাও সীমিত হয়ে যায়।
২০২৬ সালে প্রকাশিত পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি বিশ্লেষণেও একটা কথা উঠে এসেছে। বেশি আয়ের মানুষ সাধারণভাবে বেশি সুখী হন। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে থাকার সময় সেই পার্থক্য সবসময় একইভাবে দেখা যায় না। তাই ভালো বেতন থাকলেই যে প্রতিদিন সকালে অফিসে যেতে ভালো লাগবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
, একজন মানুষের ভালো থাকার জন্য শুধু আয় যথেষ্ট নয়। দরকার প্রিয় মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক। দরকার শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা। দরকার নিজের জন্য কিছুটা সময়। দরকার নিরাপদ পরিবেশ, কাজের সন্তুষ্টি আর ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা নিশ্চয়তা। একই আয়ের দুজন মানুষের সুখও ভিন্ন হতে পারে। একজন হয়তো পছন্দের কাজ করেন। পরিবার আর বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে পারেন। অন্যজন হয়তো বেশি আয় করেন। কিন্তু প্রতিদিন ১৪ ঘণ্টা কাজ করেন। নিজের জীবন উপভোগ করার সময়ই তাঁর হাতে থাকে না।
Source: https://www.haal.fashion/lifestyle/3gxbiotsuk
মন্তব্য করুন