ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার শরীফাবাদ উচ্চ বিদ্যা
লয় এন্ড কলেজ এর পাশেই পরিত্যক্ত একটি ক্লাবঘরকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জনৈক সিরাজুল এবং তার ছোট ভাই ইকবাল দীর্ঘদিন ধরে ওই ক্লাবঘরকে ঘিরে মাদক সেবন ও বিভিন্ন অসামাজিক মূলক কর্মকাণ্ড ও মাদক ব্যবসা করে আসছিল । এসব ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে গত ১২ জুন এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে ক্লাবঘরে হানা দেন।
গ্রামবাসীর দাবি, এ সময় ঘটনাস্থলে ইকবাল ও একজন তরুণীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান তারা। একই সঙ্গে ক্লাবঘর থেকে প্রায় এক কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। তবে অভিযুক্ত ইকবাল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে দাবি করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা গাঁজা পরবর্তীতে ঘটনা স্থলে ভাঙ্গা থানা পুলিশের উপ পরিদর্শক খালেদ এর মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়। তারা এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কয়েকজন এলাকাবাসী বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নানা ধরনের অনৈতিক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে আসছিল। সিরাজুল স্কুলের পাশেই একটি বাগানের ভিতরে প্রতিনিয়ত জুয়ার আসর চালিয়ে থাকে এবং তার ছোট ভাই ইকবাল শরিফাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ এর পাশেই ক্লাব ঘরটি মাদক স্পটের পরিণত করেছিল ইকবাল। প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় জনগণ ক্ষোভ প্রকাশ করছে।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুঠো ফোনে জানান ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছেন গ্রামবাসী ঘটনা স্থল থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে যায়।
এদিকে ভাঙ্গা উপজেলার শরিফাবাদ গ্রামের সচেতন নাগরিকরা বলেন, “যদি স্থানীয়দের উত্থাপিত অভিযোগের কোনো সত্যতা থেকে থাকে, তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশেষ করে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশের পরিত্যক্ত স্থাপনা ঘিরে এ ধরনের অভিযোগ সমাজের জন্য অশনিসংকেত। আমরা চাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করুক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে মাদক, জুয়া ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন,জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। কোনো অপরাধী যেন আইনের ফাঁক গলে পার পেয়ে যেতে না পারে, আবার নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন—সেদিকেও প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে।”
মন্তব্য করুন