নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
রাজধানীসহ সারাদেশে জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বারবার উচ্চারিত হলেও বাস্তব চিত্র কি ভিন্ন? এমন প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে রূপনগর থানা এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে। অভিযোগ উঠেছে, রূপনগর থানার ১২ নম্বর সেকশনের শেষ প্রান্তে অবস্থিত সাবেক স্বেরাচারী সরকারের এম পি ইলিয়াস মোল্লার আত্মীয় ফাইজুরের গরুর খামার এর পিছনে বেশ কয়েকটি ঘড় উঠিয়ে চলছে কোটি টাকার ক্যাসিনো সাম্রাজ্য ।
একটি আবাসিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় পরিচালিত হচ্ছে উচ্চ অঙ্কের অর্থের অবৈধ ‘ওয়ান টেন (সুটিং)’ জুয়ার আসর চালিয়ে আসছে। যেখানে প্রতিদিনলাখ থেকে টাকা হাতবদল হচ্ছে এবং রাতভর চলছে জুয়ার জমজমাট আসর। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইলিয়াস মোল্লার ভাতিজা ফাইজুর ও বর্তমান প্রভাবশালী মন্ত্রীর বড় ভাই মমিনুল হকের নিয়ন্ত্রণে ফাইজুরের গরুর খামারের পিছনের অংশে গড়ে উঠেছে এই কথিত ক্যাসিনো জুয়ার নেটওয়ার্ক। সাধারণ জুয়ার আসরের তুলনায় এখানে খেলতে প্রয়োজন হয় বিপুল পরিমাণ অর্থ, ফলে অংশগ্রহণকারীদের বেশিরভাগই বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত অর্থশালী জুয়াড়ি ও তাদের সহযোগী। এলাকাবাসীর দাবি, সন্ধ্যার পর থেকেই ওই এলাকায় বাড়তে থাকে বিলাসবহুল গাড়ি এবং মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির আনাগোনা, যা গভীর রাত পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
অভিযোগ রয়েছে, কথিত এই জুয়ার আসর পরিচালনার জন্য কয়েকটি কক্ষকে বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। বাইরের লোকজনের প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমেই খেলোয়াড়দের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
যেখানে দেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স থাকবে সরকার এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট ১৮৬৭ দেড় শ বছরের বেশি পুরোনো একটি আইন। সংবিধানের ১৮(২) অনুচ্ছেদে জুয়া নিরোধের জন্য রাষ্ট্র কর্তৃক বিভিন্ন ধরনের জুয়া প্রতিরোধে আইন প্রণয়নে জাতীয় সংসদে বিল আনা হয়েছে। এতে জুয়া, অনলাইন জুয়া, বাজি বা পণ (বেটিং), ম্যাচ ফিক্সিং বা স্পট ফিক্সিংসহ মোট ২৪ ধরনের বিষয় সংজ্ঞায়ন করে অপরাধ অনুযায়ী ১৪ ধরনের সাজার বিধান রাখা হয়েছে পাশাপাশি দণ্ডের উল্লেখ করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হলে দুই বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং অনলাইন জুয়া বা দূরবর্তী জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হলে পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
রুপনগর এলাকার বাসিন্দাদের জনমনে রয়েছে শুধু কয়েকটি প্রশ্ন নেই কোনো উত্তর ?
* প্রভাবশালী মহলের নাম ঘিরে নানা আলোচনা, অভিযোগের সত্যতা খুঁজতে অনুসন্ধান।
* জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের মাঝেও রূপনগরে কথিত জুয়ার আসর নিয়ে নতুন বিতর্ক।
* স্থানীয় সূত্রের দাবি, নির্জন স্থানে বসে উচ্চ অঙ্কের খেলা; সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য কী?
* রুপনগর থানা পুলিশের ফোনে জানতে চাওয়া হলে মিলেনি স্পষ্ট জবাব—বিতর্ক আরও ঘনীভূত।
* স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতভর চলে লাখ থেকে কোটি টাকার খেলা—কেন থামছে না কথিত জুয়ার আসর?
অন্যদিকে এলাকাবাসীর একটি অংশের অভিযোগ, সরকারের কঠোর অবস্থান সত্ত্বেও একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রভাব খাটিয়ে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও উদ্বেগ রয়েছে। তাদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে মৌখিক অভিযোগ করা হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কথিত জুয়ার আসরকে ঘিরে এলাকায় নানা ধরনের সামাজিক ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় অভিভাবকদের আশঙ্কা, এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের কারণে তরুণ সমাজ বিপথগামী হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে এবং এলাকায় অপরাধপ্রবণতা বাড়তে পারে।
বিষয়টি নিয়ে রূপনগর থানার অফিসার ইনচার্জের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে অভিযোগ সংক্রান্ত প্রশ্ন উত্থাপন করা হলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে প্রতিবেদকের দাবি। ফলে এ বিষয়ে থানার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে সচেতন নাগরিকরা বলছেন, অভিযোগগুলো সত্য হলে এটি শুধু একটি জুয়ার আসরের বিষয় নয়; বরং এর সঙ্গে প্রভাব, অর্থের প্রবাহ এবং সম্ভাব্য অপরাধচক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। তারা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন।
এছাড়াও আইনগত সহায়তা প্রদান কেন্দ্র (ডিপিবিএল) এর আইন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শাহিনুর রহমান সংবাদ বিডি”কে জানান, ক্যাসিনো জুয়া খেলা নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যে কোনো ভাবেই তথ্য পাওয়ার সাথে অভিযান পরিচালনা করে ক্যাসিনো জুয়া খেলা পরিচালনাকারী ও যেই স্থানে জুয়া খেলা পরিচালনা করেছেন জমির মালিকের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আদেশ দিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের এছাড়াও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এই ক্যাসিনো জুয়া নির্মূল করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং তারই দলের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর পরিবারের সদস্যরা ক্যাসিনো জুয়া নিয়ন্ত্রণ করে আসছে বিষয়টি বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ছাড়া আর কিছুই না সংস্থাটি জনস্বার্থে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অবগত করার জন্য লিখিত আবেদন করবো এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ক্যাসিনো জুয়ার আসরে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তারপরও কেন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি সংবিধানের ১০৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দেশের সর্বোচ্চ আদালতকে অবমাননা করা হয়েছে (Contempt of Court) অতিদ্রুতই বিষয়টি উপস্থাপন করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
মন্তব্য করুন